একদশকেও নির্মান হয়নি স্থায়ী বেরিবাঁধ র্দুভোগে পচিশ হাজার মানুষ একদশকেও নির্মান হয়নি স্থায়ী বেরিবাঁধ র্দুভোগে পচিশ হাজার মানুষ - ajkerparibartan.com
একদশকেও নির্মান হয়নি স্থায়ী বেরিবাঁধ র্দুভোগে পচিশ হাজার মানুষ

3:18 pm , May 10, 2019

মিজানুর রহমান বুলেট, কুয়াকাটা প্রতিবেদক ॥ ঘূর্নিঝড় সিডর পরবর্তী কয়েক দফা ভেড়িবাধ নির্মান এবং পূর্ননির্মান হলেও পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লালুয়াবাসীর দুখ:দূর্দশার লাঘব হয়নি। বিগত এক দশকেও বেশি সময় ধরে এ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ জোয়ার ভাটার সাথে যুদ্ধ করে অসহায় অবস্থায় বসবাস করছে। এজন্য পায়রা বন্দর এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের চিঠি চালাচলিকেই দায়ি করছেন স্থানীয়রা। জেলার কলাপাড়ার রাবনাবাদ নদী পাড়ের লালুয়ায় গড়ে উঠছে দেশের তৃতীয় পায়রা সমুদ্র বন্দর। বন্দরকে ঘিরে এখানে নানা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও রাবনাবাদ পাড়ের এ এলাকার মানুষের দু:খের সীমা নেই। গত কয়েক বছর যাবত ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করেপ্লাবিত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। ফলে বছরের প্রায় ছয় মাস জোয়ার ভাটার সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে এই এলাকার সতেরটি গ্রামের পঁচিশ হাজার মানুষ। বেড়িবাঁধ না থাকায় শত শত একর কৃষি জমি হয়ে পড়েছে অনবাদী। ঘরবাড়িসহ জীবিকা হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। সর্বস্ব হারিয়ে জীবিকার তাগিদে অনেকেই হয়েছেন দেশান্তরী। দূর্ভোগী এসব মানুষের দূর্ভোগ আরো বাড়ে যখন ঘূর্নিঝড় কিংবা জলোচ্ছাসের মত প্রকৃতিক দূর্যোগ আঘাত হানে। সেই সময়টায় অসহায় হয়ে পরে তারা। বছরের পর বছর এ অবস্থা চলতে থাকলেও এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ঠ বিভাগের দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ নেই এমন অভিযোগ দূর্ভোগী এসব মানুষের।
এলাকাবাসী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পায়রা সমুদ্র বন্দরের জেটি নির্মিতসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এ এলাকার প্রায় সাত হাজার একর জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়া চলছে। এ কারনে বেড়িবাঁধ নির্মানে পায়রা বন্দরের অনাপত্তি পত্রের জন্য গত কয়েক বছর যাবৎ বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে চিঠি চালাচালি চলছে। আর সে কারনেই গত এক দশকেও ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ নির্মিত হয়নি। চারিপাড়ার বাসিন্দা সোহেল বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বছরের প্রায় ছয় মাস প্রতিদিন জোয়ারে প্লাবিত হয় আবাদি জমি, বাড়ী-ঘর, পুকুর-ঘের। একই এলাকার নুর নাহার বেগম বলেন, ভাটার সময় রান্না করি জোয়ারের সময় ঘরের মাচায় বসে খাই। কোন কোন দিন রান্না করতে না পেরে ছেলেমেয়ে নিয়ে উপোস করতে হয়। চারিপাড়ার বাসিন্দা আবদুস সেবাহান বলেন, জোয়ারের সময় নৌকা আর কলা গাছের ভেলা চলাচলের একমাত্র উপায়। জীবন শংকার ভয়ে ছেলেমেদের স্কুলে পাঠাতে পারিনা। বানাতীপাড়ার বাসিন্দা ফারুক প্যাদা বলেন, বছরের বছর আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি চাই না। স্থায়ী বেরিবাঁধের বাস্তবায়ন চাই। রামনাবাদ পাড়ের কয়েক হাজারো মানুষের জীবন ও জীবিকা নিশ্চয়তা চাই।
সম্প্রতি ঘূর্নিঝড় ফনী পরবর্তী দূর্গত এই এলাকা পরিদর্শন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। এসময় তিনি বলেন, বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে দুই দপ্তরের মধ্যকার সমস্যা সমাধান করে বেড়িবাঁধ নির্মান করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, পায়রা বন্দরের অনাপত্তি পত্র পাওয়া গেছে। প্রকল্প প্রস্তবনা তৈরি করে খুব দ্রুতই বাঁধ র্নিমান করা যাবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT