কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে সরোয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে সরোয়ার - ajkerparibartan.com
কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে সরোয়ার

3:12 pm , November 20, 2018

মর্তুজা জুয়েল ॥ বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন চুড়ান্ত নানা গুঞ্জন চলছে। নগরী ও সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে কে পাচ্ছেন বিএনপির মনোনয়ন এ নিয়ে এখন তৃণমূলে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেতে অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের সাথে আরো তিন হেভিওয়েট নেতা মনোনয়ন জমা দেয়ার কারণে গুঞ্জন শুরু হয়। দলের যুগ্মমহাসচিব অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মনোনয়ন জমা দেয়ার সাথে সাথে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশাও। মনোনয়ন জমা দেয়া সকল নেতাদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত সরোয়ার নাকি আলাল, কে পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন এ নিয়েই চলছে সকল জল্পনা কল্পনা। স্থানীয় বিভিন্ন সুত্র জানায়, এ আসনের ৪ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন আশানুরূপ ফলাফল করতে না পারায় কিছুটা ইমেজ সংকটে পড়েছেন। পাশাপাশি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে মাঠ ত্যাগ করায় কেন্দ্রের কাছেও তার অবস্থান কিছুটা নাজুক হয়ে পড়েছে। একযোগে অনুষ্ঠিত ৩ টি সিটির নির্বাচনের ফলাফলের মধ্যে এক সময়ের বিএনপির ঘাঁটি খ্যাত বরিশাল নগরীতে সবচেয়ে কম ভোট এবং জামানত হারানোর কারনে এখানের ভোটারদের মাঝেও সরোয়ারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। সিটি নির্বাচনের তিন মাস পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে শুরু থেকেই আলোচনা চলছে সরোয়ার নিজ চেয়ারটি ধরে রাখতে পারবেন কিনা তা নিয়ে। এরপর তফসিল ঘোষনা হলে একে একে বিএনপির ত্যাগী নেত্রী ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, দক্ষিন জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চান, সদ্য বিদায়ী মেয়র আহসান হাবিব কামাল বরিশাল সদর আসনের মনোনয়ন দাখিল এবং মনোনয়ন ইস্যুতে সরোয়ারে বিপক্ষে সকলে একযোগে অবস্থান নেয়। এ নিয়ে বেকায়দায় পড়েন সরোয়ার। এরপর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সদর আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ এবং তা দাখিল করলে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন সরোয়ার। সারোয়ারের বিরোধী শিবিরে একাধিক প্রার্থী একাট্টা হলেও মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এ আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী হওয়ায় নতুন করে হিসাব শুরু হয়েছে তৃণমূলে। বিশেষ করে কেন্দ্রে আলালের অত্যন্ত সুদৃঢ় অবস্থান। তিনি নিয়মিত টিভি টকশোতে বিএনপি’র পক্ষে শক্ত অবস্থান তুলে ধরা এবং দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা হওয়ায় মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে নিয়ে মনোনয়ন দৌড়ে সারোয়ারকে বেগ পেতে হবে এমনটিই বলছেন সংশ্লিষ্টরা । এছাড়াও আলালের সাবলীল বক্তব্য, বিরোধী পক্ষের যুক্তি খন্ডন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির স্বপক্ষে সুচিন্তিত বক্তব্যে বিএনপির হাইকমান্ড অনেকটাই তার পক্ষে।
এর আগে ২০০১ সালে বরিশাল -২ আসনে (উজিরপুর-বানারীপাড়া) থেকে নির্বাচিত সাংসদ ছিলেন আলাল। গত এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকলেও দলের পক্ষে প্রতিটি রাজনৈতিক, সাংগঠনিক ও জাতীয় পর্যায়ের ইস্যুতে আলালের সরব উপস্থিতি এবং অগ্রভাগে অবস্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। এর পুরস্কার হিসেবে বিএনপির সর্বশেষ গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাকে দেওয়া হয় যুগ্ন মহাসচিবের পদ। তবে ঢাকা ১৫ আসন থেকে মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নির্বাচন করার কথা থাকলেও হঠাৎ করেই বরিশাল ৫ আসনের মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমা দেয়া নিয়ে দু.চিন্তায় পড়েছেন মজিবর রহমান সরোয়ার ও তার অনুসারীরা। এ বিষয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, অবশ্যই আমি হাইকমান্ডের নির্দেশেই বরিশাল ৫ এবং বরিশাল-২ আসন থেকে মনোনয়ন দাখিল করেছি। কেন্দ্র আমাকে যে নির্দেশ দেবেন আমি তাই মেনে নেব। এ বক্তব্যে নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোয়াশা।
এদিকে সম্প্রতি এমন আলোচনা আর-চুলচেরা বিশ্লেষনের মধ্যে অ্যাডভোকেট মজিবর সরোয়ার রোববার নগরীতে এসে তার বাসভবনে জরুরী সভা আহ্বান করেন। সভায় কোতোয়ালী বিএনপি ১০ টি ইউনিয়ন এবং মহানগর বিএনপির ৩০ টি ওয়ার্ডের সভাপতি সম্পাদককে নিয়ে বৈঠক করে রেজুলেশন নিয়ে ওইদিনই ঢাকায় চলে যান। সভায় সরোয়াার কে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয় এবং এমন রেজুলেশন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। তার এমন কৌশল অবলম্বনের কারনেই এবার মনোনয়ন দৌড়ে অনেকটাই হোচট খেতে পারেন মজিবর রহমান সরোয়ার। এমনটাই তার অনুসারীদের ভাবনা। সর্বশেষ সোমবার গুলশানে বিএনপি চেয়ার পার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে বরিশাল বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহনের সময়ে নতুন জটিলতা তৈরী হয় । ঐ সাক্ষাৎকার পর্বে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যখন সকলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দিবেন সকলে হাত উচিয়ে বলেন, আপনারা তার পক্ষে কাজ করবেন কিনা ? এ সময়ে সদর আসনের মনোনয়ন দাখিলকারী উপস্থিত সকলে হাত উচিয়ে দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে সমর্থন করলেও সরোয়ার ছিলেন নিশ্চুপ। এ সময় তারেক রহমান সরাসরি বলেন সরোয়ার সাব আপনি কি আমার কথায় খুশী হতে পারেন নি ? আপনার হাত তো দেখছি না। এ নিয়ে কেন্দ্রের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা কর্মিদের মধ্যেও কানাঘূষা তৈরী হয় বলেও জানা গেছে । তবে এ বিষয়ে সরোয়ারের দাবী সকলের সাথে আমিও হাত উচিয়েছিলাম। তবে একটি ক্যামেরার কারনে চেয়ারম্যান আমার হাত দেখতে পাননি। মনোনয়ন বিষয়ে অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, অনেকেই অনেক কথা বলবেন। সিদ্ধান্ত দেবে কেন্দ্র। এক যুগ দল ক্ষমতার বাইরে থাকলেও বরিশালে দলকে সংগঠিত করতে কার কতটুকু ভূমিকা ছিল তা স্থানীয় নেতাকর্মীরা যেমন জানেন, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং দলের শীর্ষ পর্যায়ে তা অবগত রয়েছেন । এ নিয়ে বিভ্রান্তির কিছু নেই। বরিশাল সদর আসনে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তার অগ্রাধিকার সবচেয়ে বেশী বলে দাবী করেন যুগ্ন মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার। তবে একাধিক সূত্র বলছে অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের কেন্দ্রে যেমন গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বিপরীত দিকে আবার তৃণমূলেও বেশি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে মজিবর রহমান সরোয়ারের। অন্তত বরিশাল ৫ আসনে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি ছাড়াও যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শ্রমিকদল সহ সকল ইউনিটের নেতৃবৃন্দ সারোরের একক সমর্থনকারী। এ সকল কমিটি মজিবর রহমান সারোয়ারের নিজের হাতেই গড়া। ফলে সরোয়ার কে উপেক্ষা করে এখানে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়ার সুযোগ কম বলেও মনে করেন নেতা-কর্মীরা। তারা হঠাৎ করে আলালের প্রার্থী হওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। অপরদিকে গতকাল সন্ধ্যায় মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া এবং সিনিয়র সহ সভাপতি মনিরুজ্জামান ফারুক, সদর উপজেলার সাধারন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন লাবু ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মন্টু খান স্বাক্ষরিত পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে মনোনয়ন না দেয়ার দাবী জানানো হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT