বিভাগে চার মাসে নিহত ৮১ দক্ষিণের সড়কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল বিভাগে চার মাসে নিহত ৮১ দক্ষিণের সড়কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল - ajkerparibartan.com
বিভাগে চার মাসে নিহত ৮১ দক্ষিণের সড়কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল

12:30 am , May 11, 2019

খান রুবেল ॥ দেশব্যাপী নিরাপদ সড়কের দাবীতে এতো আন্দোলনের পরেও থামছে না মৃত্যু মিছিল। বরং মৃত্যু মিছিল যেন আরো দীর্ঘই হচ্ছে। সারাদেশের ন্যায় দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ছড়ে যাচ্ছে একের পর এক তাজা প্রান। পঙ্গুত্ব বরণ করে নিতে হচ্ছে নারী ও শিশু সহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের ১লা জানুয়ারী থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত গত চার মাসে মহানগরী ও বরিশাল সহ পাশর্^বর্তী জেলার বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নারী-শিশু সহ ৮১ জনের প্রানহানি ঘটেছে। সে অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি মাসে গড়ে ২০ জনের অধিক মৃত্যু হচ্ছে। তাছাড়া দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করেছেন দুই শতাধীক নারী-পুরুষ সহ বিভিন্ন বয়সি মানুষ। যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে কেউ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবার কেউ হাসপাতালে পৌছাবার আগেই মারা গেছে। অনেকের মৃতুদেহ হাসপাতালেও পৌছে না। যে কারনে দক্ষিণাঞ্চলে মৃত্যুর পরিসংখ্যান আরো বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শেবাচিম হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার অফিস সূত্রে জানাগেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারী হতে ৩১ জানুয়ারী পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পরের মাস অর্থাৎ ফেব্রুয়ারী মাসে ২৬ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। সড়ক দুর্ঘটনায় সব থেকে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে মার্চ মাসে। এ মাসে মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের। এছাড়া এপ্রিল মাসে ২৫ দিনে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। এছাড়া চলতি মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে হাসপাতাল থেকে। অপরদিকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে প্রতি মাসে গড়ে ৫০ জনের অধিক মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছেন এই হাসপাতালে। যার মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ হাড় ভাঙা নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন। নগরীর সচেতন নাগরিক ও বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাবেক সভাপতি এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসএম ইকবাল বলেন, দুর্ঘটনার প্রধান কারন হিসেবে আগে যাবার প্রবনতাকেই আমি দায়ি করব। সাধারণ মানুষ, যানবাহনের চালক এমনকি ট্রাফিক বিভাগই ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন না। তিনি বলেন, আমি প্রায় সময় আইন শৃঙ্খলার সভায় এ কথাগুলো উত্থাপন করছি। কিন্তু ট্রাফিক বিভাগ বলছে তারা মোটরসাইকেলে মামলা সহ জরিমানা করছে। কিন্তু দুর্ঘটনার জন্য মোটরসাইকেলই একমাত্র কারন হতে পারে না। আটো রিক্সা, অটো টেম্পু ও হলদু অটো (ইজিবাইক) দুর্ঘটনার অন্যতম কারন। এগুলোর উশৃঙ্খল চলাচলের কারনেই দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ট্রাফিক বিভাগকে আরো ভালোভাবে কাজ করতে হবে। আবার এটাও ঠিক যে পুলিশের একার পক্ষে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা কখনই সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সহ সকল মহলকে এক যোগে কাজ করতে হবে। নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে প্রচারনার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। অপরদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) খায়রুল আলম বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা যথেষ্ঠ ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মামলা দিচ্ছি, বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছি। গত ২০১৮ সালে মহানগরীতে আমরা ৩৯ হাজারের বেশি মামলা দিয়েছি। কিন্তু এর পরেও সচেতনতার অভাবে দুর্ঘটনা কমানো যাচ্ছে না। তিনি বলেন, যানবাহনের চালকরা অসেচতন। একটি গাড়িতে একজনই চালক থাকেন। বিকল্প চালকের ব্যবস্থা না থাকার কারনে ওই একজন চালক ক্লান্ত হয়ে যান। যা একটি সময় দুর্ঘটনার কারন হয়ে দাড়ায়। এছাড়াও অদক্ষ্য চালক রয়েছে। যাদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। আবার গাড়ির মালিকরা তাদের গাড়ি দেয়ার সময় চালকের লাইসেন্স আছে কিনা সে বিষয়টির গুরুত্ব দেয় না। মুলত সবাই আইন অমান্য করতে পারলেই খুশি হয়। ডিসি ট্রাফিক বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আমাদের বর্তমান অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মন মানষিকতার পরিবর্তনের পাশাপাশি ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জানা এবং জ্ঞান অর্জন করতে হবে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতামুলক প্রচার-প্রচারনা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি পাঠ্য বইতে ট্রাফিক আইন সম্পর্কিত একটি অধ্যায় রাখা হলে ছোট থেকেই আইনের প্রতি ধারনা এবং সম্মান বাড়বে বলে মনে করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT