3:16 pm , April 7, 2019
কলাপাড়া প্রতিবেদক ॥ সকল অন্যায় অবিচারের নায়ক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড় উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের শাহ আলম। তার নাম কর্মগুনে জঙ্গল বা জোংলা শাহ আলম হিসেবে এলাকায় পরিচিতি রয়েছে। তিনি সাগরে দস্যুতা। সুযোগ বুঝে সাধারণ মানুসের সম্পদ লুন্ঠনে অহরহ করে থাকে হাইজ্যাক। কৃষকের গবাদিপশু চুরি। মাছ ধরা ট্রলারে হামলা। সংরক্ষিত বনের গাছ কাটা। কৃষকের কাছে চাঁদাবাজিসহ নানান অভিযোগে অভিযুক্ত শাহআলম হাওলাদার। কুয়াকাটা সৈকতের পশ্চিমে শেষপ্রান্ত লেম্বুরচর, খাজুরা এলাকার মানুষের কাছে জোংলা শাহআলম এখন এক আতঙ্কের নাম। ওখানকার জেলে, শুটকি ব্যবসায়ী, ফ্রাই মাছ ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষের কাছে নামটি মুর্তিমান আতঙ্ক। অন্তত হাফ ডজন মামলা রয়েছে জোংলা শাহআলমের বিরুদ্ধে। অন্তত ৪০টি বছর বেড়িবাঁধের বাইরে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনের (জঙ্গল) মধ্যে বসবাস থাকায় কেউ জোংলা শাহআলম না বললে চেনে না। মানুষের গরু চুরি করে জবাই করে চামড়া খুলে মাংস বিক্রি করা। ট্রলার লুট করে ইঞ্জিন খুলে বিক্রি করা। মাছ লুট করা। হামলা করে কাকড়া-মাছ বিক্রি করা দোকানে। অহরহ এসব করে যাচ্ছে। এই চক্রে নিজের ছেলেসহ রয়েছে আরও ২০-২২ সদস্য। এখন জোংলা শাহআলমের বাড়ি সংলগ্ন এলাকা থেকে নারীরা এমনকি স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীরা পর্যন্ত চলাচলে ভয় পায়। ১৫-১৬ বছর আগে ছোটখাটো অপরাধে জড়িয়ে যায় শাহআলম। বনের গাছ কাটত। থাকত বনে। একাধিক মামলা দিয়েছে বনবিভাগ। এরপরই তার নাম পাল্টে জোংলা শাহআলম হয়ে যায়। এরপরে শাহআলম শুধু বনে নয়। আন্ধারমানিক নদী যেখানে সাগরে মিলেছে সেই মোহনায় জলদস্যুতার কাজে নেমে পড়ে। এরপরে ডাঙ্গায়ও অপরাধপ্রবণ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। শাহআলমকে একাধিকবার পুলিশ গ্রেফতারও করেছে। কিন্তু জোংলা শাহআলমের দৌরাত্ম কমেনি। খাজুরা গ্রামের শত শত পরিবার জোংলা শাহআলম বাহিনীর কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। খাজুরা গ্রামের ইউনুচ সরদার জানান, ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জোংলা শাহআলম তার ভাই নাসির উদ্দিনসহ এ বাহিনী তার ৮০ হাজার টাকার দুইটি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। ২৩ ফেব্রুয়ারি আরও একটি গরু নিয়ে আলীপুর বন্দরে নিয়া জবাই করে মাংস বিক্রি করে। এ ঘটনায় জোংলা শাহআলমসহ ১০জনকে আসামি করে কলাপাড়া থানায় একাধিক মামলা করা হয়েছে। খাজুরা গ্রামের আরেক বাসিন্দা গরু ব্যবসায়ী কালাম ফকির। তিনি জানান, ২০১৩ সালের ৩০ মে বেলা দুইটায় হামলা চালিয়ে মারধর করে প্রায় ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় এহামলা মারধরের ঘটনা ঘটায়। খাজুরা গ্রামের ইব্রাহীম তালুকদার জানান, ২০১৩ সালের ২২ মার্চ রাতে তার ট্রলারে হামলা চালিয়ে মেশিনসহ প্রায় ৬০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায় জোংলা শাহআলম বাহিনী। এরকম অসংখ্য অভিযোগের পাহাড় শাহআলম হাওলাদার ওরফে জোংলা শাহআলম বাহিনীর বিরুদ্ধে রয়েছে। মানুষের ভাষায়, ঝরদস্যুতা, রাহাজানি, চুরি, হামলা, লুটপাট, বনের গাছ কাটাসহ এন্তার অপকর্মের হোতা এই জোংলা শাহআলম বাহিনী। বর্তমানে খাজুরা সংলগ্ন লেম্বুরচর কাঁকড়া ও মাছ ফ্রাই স্পটে হামলা চালায় জোংলা শাহআলম বাহিনীর অপরাপর সদস্যরা। এসব ঘটনায় অন্তত ডজনখানেক মামলা হয়েছে জোংলা শাহআলম ও তার বাহিনীর নামে। মানুষ থাকে এবাহিনীর আতঙ্কে। ওখানকার ইউপি মেম্বার মো. আলম ফকির জানান, জোংলা শাহআলম বাহিনীর ভয়ে মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায়না। এদের স্থানীয় গডফাদার রয়েছে। তিনি জানান, ফারুক নামের এক নিরীহ ব্যবসায়ীকে ওই গডফাদারের নির্দেশ জোংলা বাহিনী উচ্ছেদ করে দিয়েছে। একাধিক সুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে বরগুনা থেকে আসা এই জোংলা শাহআলম বাহিনী এখন সেখানকার মানুষের কাছে মুর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। অভিযুক্ত শাহআলম ওরফে জোংলা শাহআলম জানান, আমিও খাজুরায় দোকান করছি। এর কারণে ফারুক আমার নামে মামলা দেয়াইছে। যেন দোকান না করতে পারি। আর আগের মামলাগুলো ফয়সালা হয়ে গেছে। তিনি বলেন, দাদা সব ষড়যন্ত্র। মুই মানুষের লগে দৌড়াই দেইখ্যা এইসব করতাছে। মহিপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাফিজুর রহমান জানান, শাহআলম ওরফে জোংলা শাহআলম খারাপ প্রকৃতির মানুষ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও কয়েকটি মামলা রয়েছে। তাকে একাধিকবার পুলিশ গ্রেফতারও করেছে। তবে তাঁরা সচেষ্ট রয়েছেন।