অফিসে কাজ না করে হাসপাতালের সামনে ব্যক্তিগত ব্যবসা ! সদর হাসপাতালে দুর্নীতিবাজ কর্মচারী জলিল বেপরোয়া অফিসে কাজ না করে হাসপাতালের সামনে ব্যক্তিগত ব্যবসা ! সদর হাসপাতালে দুর্নীতিবাজ কর্মচারী জলিল বেপরোয়া - ajkerparibartan.com
অফিসে কাজ না করে হাসপাতালের সামনে ব্যক্তিগত ব্যবসা ! সদর হাসপাতালে দুর্নীতিবাজ কর্মচারী জলিল বেপরোয়া

2:59 pm , March 31, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সরকারি কর্মচারী হয়েও কর্মস্থলে অফিস না করে অফিসের সামনেই ব্যক্তিগত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন বরিশাল জেনারেল (সদর)হাসপাতালের ৩য় শ্রেনীর কর্মচারী ও রেডিওলজিস্ট মোঃ জলিল। একই কর্মস্থলে প্রায় দুই যুগ ধরে চাকুরী ধরে রেখেছেন দুর্নীতিবাজ এই কর্মচারী। অফিস না করার পাশাপাশি রোগীদের নিজস্ব ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে জোরপূর্বক পরীক্ষা করতে বাধ্য করা, সরকারি ঔষধ ও মালামাল চুরি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং নার্সদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করা সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে জলিলের বিরুদ্ধে। গতকাল জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে দুইবার জলিলের কর্মস্থলে গিয়েও জলিলকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে কর্মরত অন্যান্য স্টাফরা জানান,জলিল এখানে আসলে দুপুর একটা দুইটা পর্যন্ত থাকে। এছাড়া তাকে হাসপাতালের সামনে তার নিজস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাওয়া যায়। হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ডেইজি মন্ডল জানান, জলিলকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অফিসে পাওয়া যায়। এরপর সে পদ্মা ডয়াগনেষ্টিক সেন্টারে থাকে। তাকে ওখানেই পাওয়া যাবে।
জানা গেছে বিতর্কিত কর্মচারী জলিল অদৃশ্য ক্ষমতার প্রভাবে এবং আর্থিক সুবিধা দিয়ে ঊর্ধ্বতন কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মকর্তার সঙ্গে অনিয়মের মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবৎ নিজের পদটি ধরে রেখে হাসপাতালের সামনেই ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পদ্মা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে জলিলের স্ত্রীর নামে শেয়ার কেনা হয়েছে। একারনে জলিল কয়েকজন ডাক্তারের সঙ্গে যোগসাজশ করে পদ্মা ডায়াগনষ্টিত সহ অন্য আরো একাধিক ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে রোগী সরবরাহ করছে। ইতিপূর্বে জলিলের বিরুদ্ধে একাধিকবার এ ধরনের অভিযোগ উঠে আসলেও ঐ সকল ডাক্তাররা জলিলকে রক্ষা করে। বর্তমানে জেনারেল হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগের দায়িত্বে থাকা রেডিওলজিস্ট হলেও অনিয়ম আর দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল টাকার মালিক হয়েছেন জলিল। তার পৈত্রিক এলাকা মিরুখালীতে তৈরী করেছেন বিলাসবহুল ভবন। এছাড়া দুঃশ্চরিত্র জলিলের বিরুদ্ধে সহকর্মী এবং নার্সদেরকে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল কর্মকান্ড করার অভিযোগও রয়েছে। সাম্প্রতি হাসপাতালের নিজস্ব দালাল গ্রুপের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন রোগী লেনদেনের সিন্ডিকেট। দালালদের মাধ্যমে হাসপাতালে সেবা নিতে সাধারণ রোগীদের তার নিজস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জোর করে পাঠানো হয়। কোন কারনে কোন রোগী তার নিজস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা না করালে সেই রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং হাসপাতাল থেকে নাম কেটে দেয়া হয়।
এসকল বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, মূলত রেডিওলজিস্ট এ ধরনের পদ দীর্ঘদিন যাবত নতুন কোন নিয়োগ হচ্ছে না। অনেকদিন যাবত এসকল পদে সরকারি পদায়ন না হওয়ার কারণে জলিলের মতো ব্যক্তিরা একই পথে দীর্ঘদিন বহাল আছেন। তবে কেউ দীর্ঘদিন থাকলেও কর্মস্থলে না থেকে ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনা করবেন এটা মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে এবং আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, যে সকল পদে প্রমোশোনের সুযোগ নেই সাধরনত ঐ সকল পদে বদলি কম করা হয়, একারনে অনেকেই দির্ঘদিন একই পদে রয়েছ। জলিলের অনিয়মের বিষয়টি আমি শুনেছি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যাবস্থা নেব।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT