পেট্রোল পাম্পে ভেজাল জ্বালানী তেল ও কম দেয়ার অভিযোগ পেট্রোল পাম্পে ভেজাল জ্বালানী তেল ও কম দেয়ার অভিযোগ - ajkerparibartan.com
পেট্রোল পাম্পে ভেজাল জ্বালানী তেল ও কম দেয়ার অভিযোগ

3:43 pm , March 19, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর সিংহভাগ পাম্প থেকে ভেজাল জ্বালানী তেল ও কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মিটারের মাধ্যমে তেল সরবরাহ করা হলেও পেট্রোল পাম্প হাউসগুলো থেকে কৌশলে প্রতি লিটারে অন্তত ১০০ মিলি লিটার তেল কম দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা। পাবলিক পরিবহন ও সরকারি যানবাহনের চালকরা কম নিয়ে এবং বেশি তেলের ভাউচার নেয়। এ সুযোগে পাম্পের মালিক এবং কর্মচারীরা নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়েও কিছু অংশ তেল কম সরবরাহ দেন। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে তেলে ভেজাল দেয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে বিভাগের পঞ্চাশটির মতো তেলের পাম্পে জ্বালানী তেল সরবরাহ করা হয়। এ সকল ডিপোতে চট্টগ্রাম থেকে অয়েল ট্যাংকার যোগে সরাসরি পরিশোধিত তেল আনা হয়। পেট্রোল পাম্প মালিকরা তাদের চাহিদামতো যে কোন সময় যে কোন পরিমাণ তেল এ সকল ডিপো থেকে সংগ্রহ করে থাকেন। তবে তেলে কোন ধরনের পানি মিশ্রিত করার সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক সমিতি ও জেলার ডিলার ডিষ্ট্রিবিউটর এসোসিয়েশন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এনায়েত হোসেন সেন্টু। তিনি জানান তেলের সঙ্গে কখনোই পানি মেশানো সম্ভব না। যে কেউ স্বচ্ছ বোতলে পরীক্ষা করলেই দেখতে পারে। তেলের সঙ্গে কখনো পানি মিশে না। এছাড়া ওজনে কম দেওয়ার যে বিষয়টি এটাও সঠিক নয় বলে দাবী তার। তিনি জানান, বিএসটিআই কর্মকর্তারা সার্বক্ষনিক পাম্প মনিটরিং করছেন। তবে ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মাসুম খন্দকার জানান, বরিশালে যে তেল পাওয়া যাচ্ছে তাতে কোন ভেজাল নেই। তবে যদি মোকাম থেকে কোন ধরনের ভেজাল তেল সরবরাহ করা হয় তাহলে এখানেও ভেজাল তেল আসবে।
মাইক্রো বাস চালক মো : আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই পাম্প গুলোতে প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় তারা সূক্ষ্মভাবে ওজনে কম দিয়ে আসছে। এ কারচুপি সাধারন চালকদের তাৎক্ষনিক প্রমান করা সম্ভব নয় বিধায় কেউ কখনোও প্রতিবাদ করেন না।
কিছুদিন পূর্বে বিএম কলেজ এলাকার একটি পাম্প থেকে মোটর সাইকেলে এক ব্যক্তি ১ লিটার তেল নেন। কিন্তু তিনি ২ কিলোমিটার দুরত্বে যাওয়ার পরে তার মোটরসাইকেল থেমে যায় এবং তিনি তেলের পাইপ খুলে পরীক্ষা করে দেখেন ভিতরে কোন তেল নেই। পরে ঐ পাম্পে এ নিয়ে মারামারির ঘটনাও ঘটে। পরে ওই যুবককে বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য অনেক অনুরোধ করে কতৃপক্ষ ।
এদিকে নিন্মমানের তেল ব্যবহারের কারনে যানবাহনের ট্যাংকি ও ফিল্টারে ময়লা জমে এবং ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে জানান চালকরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে দীর্ঘদিনেও নগরীর কোন পেট্রোল পাম্পে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়নি এবং বিএসটিআই কর্মকর্তারাও সরেজমিনে কোন পরিদর্শন করেন নি। অভিযোগ রয়েছে বিএসটিআই এর উপ-পরিচালকের নির্দেশে ফিল্ড অফিসাররা পরিদর্শনের নামে প্রতি মাসে একবার পাম্পগুলো থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের মাসোহারা নিয়ে যান।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT