নদী ভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে বাবুগঞ্জ উপজেলার মানচিত্র নদী ভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে বাবুগঞ্জ উপজেলার মানচিত্র - ajkerparibartan.com
নদী ভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে বাবুগঞ্জ উপজেলার মানচিত্র

2:43 pm , March 16, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর অব্যাহত ভাঙন পাল্টে দিয়েছে বাবুগঞ্জ উপজেলার মানচিত্র। প্রতিনিয়ত নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বাড়ী, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। হারিয়ে যাচ্ছে উপজেলার সবুজ বেষ্টনী। এছাড়াও হুমকীর মুখে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গির জাদুঘর, রমজান কাঠীর গুদিঘাটা গ্রাম, নদী রক্ষা বাঁধ এবং নদীর তীরবর্তী প্রায় সহ¯্রাধিক পরিবার। তাই ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা নদীর তীরবর্তী অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। এরআগেই গত ১ মাসের ব্যবধানে নদী তীরবর্তী ২৫টি ভিটা ভাঙনে বিলীন হয়েছে। আবাদী জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অনেক কৃষক। তার মধ্যেই গত কয়েক দিন ধরে সুগন্ধা নদীতে পুনরায় শুরু হয়েছে ভাঙন। ১৩ মার্চ রাতের আধাঁরে বাবুগঞ্জের আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজের প্রধান সড়কের প্রায় ২শ ফুট সড়ক ও দেহেরগতি ইউনিয়নের সাধুকাছী মাদ্রাসার একমাত্র সড়কটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম-এমপি ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে আপতকালীন জরুরী সংস্কারের জন্য ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দের ঘোষনা দিয়েছেন। তাছাড়া বাবুগঞ্জের পাঁচটি পয়েন্টে ভাঙন রোধে প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার বাঁধ নির্মানে ডিপিপি তৈরী করে মন্ত্রানায়লে পাঠিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এ প্রকল্পের অনুমোদন পেলে ভাঙন প্রতিরোধ সম্ভব হবে বলে আশাবাদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আবু সাঈদ। সরেজমিনে জানাগেছে, ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলা। সবশেষ আদশুমারী তথ্য অনুযায়ী ৬৩ দশমিক ৬৬ কিলোমিটারের এই উপজেলায় ১লক্ষ ৪৬ হাজার ৭৪০ জনের বসবাস। তবে সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর তীর ঘেষা এই উপজেলায় ভাঙন চলছে বছর ধরেই। আর বছর জুড়ে ভাঙনের ফলে উপজেলার মানচিত্র ছোট হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, এ উপজেলায় ইতিপূর্বে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার সহ ক্ষমতাসিন মন্ত্রী-এমপি ছিলেন। কিন্তু কেউ ভাঙন রোধে এগিয়ে আসেননি। ভাঙন রোধে উদাসিন পানি উন্নয়ন বোর্ডও। এ কারনেই ভাঙনের তীব্রতা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাবুগঞ্জের বাসিন্দা ও বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান বলেন, বাবুগঞ্জের প্রধান সমস্যাই হচ্ছে নদী ভাঙন। ইতিপূর্বে আমরা স্থানীয়ভাবে নদীর ভাঙন প্রতিরোধে বাঁসের তৈরী পারকোপাইল এবং জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করেছি। এতে কিছুদিন ভাঙন থেমে থাকলেও পরে আবার ভাঙন শুরু হয়। ভাঙন রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনাগ্রহ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসহযোগিতার কারনেই বাবুগঞ্জের মানুষ আজ ভাঙন আতংকে রয়েছে। তাই ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান তিনি। এদিকে বাবুগঞ্জে নতুন করে ভাঙন শুরু হলে শুক্রবার (১৫ মার্চ) বিকালে ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে যান পানি সম্পদ প্রতীমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম-এমপি। এসময় তিনি জরুরী ভিত্তিতে আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ সড়ক ও সাধুকাঠি মাদ্রাসা সড়ক রক্ষা ও ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলার জন্য ৩০ লাখ টাকা জরুরী বরাদ্দের ঘোষনা দেন। পাশাপাশি ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধানের আশ্বাসও দিয়ে আসেন তিনি। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, বাবুগঞ্জের মীরগঞ্জ ফেরীঘাট, বরিশাল বিমানবন্দরের পেছনের অংশ, চর সাধুকাঠি, কেদারপুর সহ ৫টি পয়েন্টে দীর্ঘ বছর ধরেই নদীর ভাঙন হয়ে আসছে। এর মধ্যে সম্প্রতি দেহেরগতিতে যে ভাঙন শুরু হয়েছে সেখানে বিগত ৩ বছর আগে আরো একবার ভাঙন শুরু হয়। তখন সেখানে জরুরী প্রটেকশনের অংশ হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা হয়। এর পর থেকে গত তিন বছর আর সেখানে ভাঙন না হলেও নতুন করে ভাঙতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়া দুটি পয়েন্টে জরুরী ভিত্তিতে অস্থায়ী প্রটেকশনের কাজ শুরু করা হবে। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এই ঘোষনা দিয়েছেন। ওই টাকা বরাদ্দ পেলে আমরা খুব শিঘ্রই কাজ শুরু করবো। তাছাড়া ইতিপূর্বে ৩টি পয়েন্টে ভাঙন রোধে একটি ডিপিপি তৈরী করে মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছিলাম। তবে পরবর্তীতে আরো দু’টি পয়েন্ট যুক্ত করে পুনরায় ৫টি পয়েন্টে সাড়ে ৫ কিলোমিটার নদীর তীর স্থায়ী প্রকেটশন অর্থাৎ ব্লক ও বাঁধ নির্মানের জন্য আরেকটি ডিপিপি মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছি। বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন বলেও আমাদের জানিয়েছেন।
অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী জুলফিকার হাওলার বলেন, শুধুমাত্র বাবুগঞ্জের ওই পাঁচটি পয়েন্টেই নয়, এর আগে রহমতপুর ইউনিয়নে সন্ধ্যা নদীর ভাঙন থেকে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু রক্ষায় চারশত মিটার এলাকায় ৬০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা ও ৩ কোটি টাকার একটি অস্থায়ী প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। যার কাজও শুরু হয়েছে। পরবর্তী প্রকল্পটির অনুমোদন পেলে বাবুগঞ্জ উপজেলাকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে বলে আশাবাদী এই কর্মকর্তা।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT