দশ লক্ষ টাকা কাবিনে ধষর্কের সঙ্গে ধর্ষিতার বিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করেও সিনিয়র সাংবাদিক জহির মামলার আসামি দশ লক্ষ টাকা কাবিনে ধষর্কের সঙ্গে ধর্ষিতার বিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করেও সিনিয়র সাংবাদিক জহির মামলার আসামি - ajkerparibartan.com
দশ লক্ষ টাকা কাবিনে ধষর্কের সঙ্গে ধর্ষিতার বিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করেও সিনিয়র সাংবাদিক জহির মামলার আসামি

3:55 pm , March 15, 2019

গৌরনদী প্রতিবেদক ॥ বরিশালের গৌরনদী উপজেলা কমিটির এক ছাত্রলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য কর্তৃক এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষন ও ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি দিয়ে আটকে রাখার খবর এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সর্বত্র আলোচিত হয়। ধর্ষক ছাত্রলীগ নেতার প্রতিপক্ষ লোকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দেয়। স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদটি ছাপা হয়। গৌরনদীর সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক প্রথম আলোর গৌরনদী প্রতিনিধি প্রমানের অভাবে সংবাদটি প্রকাশ করেনি। পরবর্তিতে স্থাণীয় ও রাজনৈতিক চাপে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীকে দশ লক্ষ কাবিনে বিয়ে করে ধর্ষক ছাত্রলীগ নেতা। সিনিয়ন সাংবাদিক জহিরকে মামলা দিয়ে হয়রানী করার শর্তে গৌরনদী উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এক নেতা ধর্ষকের সঙ্গে ধর্ষিতার বিয়ে সম্পন্ন করে দেন। নেতার কথা রাখতেই ধর্ষিতার পরিবার জহিরের বিরুদ্ধে হয়রানীমূলক মামলা করেছে বলে ধর্ষিতার একাধিক স্বজন জানান। স্থানীয় লোকজন, সাংবাদিক ও পুলিশ জানান, গত জুন মাসে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা কমিটির এক ছাত্রলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য কর্তৃক এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষন ও পরিবারকে হুমকি দিয়ে আটকে রাখার খবর এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সর্বত্র আলোচিত হয়। ধর্ষক ছাত্রলীগ নেতার প্রতিপক্ষ লোকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দেয়। বিষয়টি জানার পরে গৌরনদীতে কর্মরত স্থানীয় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স, অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকার সাংবাদিকরা ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ওই বাড়িতে ভিড় করেন। পরের দিন স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় অনভিজ্ঞা সংবাদ কর্মীরা সংবাদটি প্রকাশ করে। প্রথম আলোর গৌরনদী প্রতিনিধি জহির অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে আমি ২৯ জুন ভিকটিমের বাড়িতে যাই। ভিকটিম ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বললে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন। ফলে ভিকটিম ও তার পরিবার ঘটনার সত্যতা স্বীকার না করায় আমি কোন সংবাদ প্রকাশ করি নাই। অথচ আমার নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। ঘটনার অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাম্প্রতি সময়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতার অনিয়ম, দূর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সন্ত্রাসের প্রতিবেদন প্রকাশ করায় গৌরনদীর নব্য গডফাদার হিসেবে পরিচিত উপজেলা কমিটির ওই আওয়ামীলীগ নেতা সাংবাদিক জহিরের ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরবর্তিতে ওই নেতা অসহায় ধর্ষিতার পরিবারকে ডেকে এনে তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে ধর্ষিতার বাবাসহ পরিবারকে শর্ত দেন যে, সাংবাদিককে জহিরের বিরুদ্ধে মামলা করলে সে উদ্যোগ নিয়ে ধর্ষকের সঙ্গে ধর্ষিতার বিয়ে দিয়ে দিবেন। ভবিষ্যাতে যাতে ধর্ষক কোনভাবে ধর্ষিতাকে অবজ্ঞা না করে সেজন্য ১০ লক্ষ টাকা কাবিন করে দেয়ারও প্রলোভন দেখান।

অসহায় ধর্ষিতার পরিবার মেয়ের ভবিষ্যাতের কথা চিন্তা করে জহিরের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করতে রাজি হন এবং থানায় মামলা করেন।
বিয়ের কাবিন ও বয়স পরির্তনের হলফনামায় দেখা গেছে, ধর্ষিতার বিয়ের বয়স না হওয়ায় কোন কাজি বিয়ে পড়াতে রাজি হননি। পরবর্তিতে ধর্ষিতার বাবা বরিশাল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেড/ নোটারীর মাধ্যমে গত ২৭/৬/২০১৮ইং তারিখ হলফনামা দিয়ে ধর্ষিতার বয়স সংশোধন করে ১৫ বছর থেকে ১৯ বছর করেন। বয়সের এভিটএভিটের কপি জমা দিয়ে গত ৯ আগষ্ট ধর্ষকের সঙ্গে ধর্ষিতার বিয়ে সম্পন্ন করেন গৌরনদী এক কাজী। বিয়ের কাবিনে নেতার ওয়াদা অনুযায়ি দশ লক্ষ টাকা কাবিন লিখে দুই লক্ষ টাকা ওয়াশিল দেয়া হয়। বিয়ে অনুষ্ঠানে একটি ইউনিয়ন কমিটির আওয়ামীলীগের সভাপতিসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাসহ গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন এবং বিয়ের স্বাক্ষী হিসেবে তারা স্বাক্ষর করেন। গৌরনদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে জহিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া দেন। প্রথম আলোর গৌরনদী প্রতিনিধি জহির অভিযোগ করে বলেন, আমি কোন সংবাদ প্রকাশ করি নাই। অথচ মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানী করেছে। যারা ফেইসবুক ও পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেছে তাদের আসামি করা হয়নি। নেতার দেয়া শর্ত পুরনে আমাকে মামলায় আসামি করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনায় জড়িতদের মামলা থেকে অব্যহতি দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের ওই প্রভাবশালীর নেতার চাপে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার আগে তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে তার অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছেন। তিনি (জহির) আরো বলেন, সাম্প্রতি সময়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতার অনিয়ম, দূর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সন্ত্রাসের প্রতিবেদন প্রকাশ করায় গৌরনদীর নব্য গডফাদার হিসেবে পরিচিত ওই আওয়ামীলীগ নেতা ক্ষিপ্ত হন। ওই নেতা আমাকে জব্দ ও হয়রানী করতে স্কুল ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রভাবিত করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়েছে। বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিক ও প্রথম অলোর প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম জহিরের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, উজিরপুরসহ বরিশালের সাংবাদিক সমাজ । গৌরনদী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন মিয়া ও গৌরনদী রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি মোঃ বেলাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গৌরনদীর সিনিয়র সাংবাদিক জহিরের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করেছে । আমরা অনতিবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই। ইতিমেধ্য মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারে গৌরনদীসহ আশপাশ উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন প্রতিবাদ সমাবেশে সহ নানান কর্মসূচী পালন করেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT