সেনাবাহিনীর প্রতীক্ষায় বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার সেনাবাহিনীর প্রতীক্ষায় বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার - ajkerparibartan.com
সেনাবাহিনীর প্রতীক্ষায় বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার

3:37 pm , December 23, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল সদর আসনে ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার অভিযোগ করেছেন পুলিশের গণগ্রেপ্তারের কারনে বিএনপি’র নির্বাচনী প্রচারনা স্লো হয়ে গেছে। গন গ্রেপ্তারের আতংকে নেতা কর্মীরা এখন এলাকা ছাড়া। বর্তমান সরকার এদেশ থেকে ভোটারের ভোটের রাজনীতি ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমি একজন প্রার্থী হয়েও ভোটারের কাছে গিয়ে মত প্রকাশ করতে পারছি না পুলিশের বাঁধার কারনে কোন স্থানে গিয়ে ভোট চাইতে পারছি না। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ থাকবে না। ভোটাররা স্বাধীন ভাবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাঁধাগ্রস্থ হবে। গতকাল রোববার বেলা ১২টায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন সরোয়ার। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ন নির্বাচন। সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা ছিলো আমাদের। ছোট খাটো বাঁধা, গ্রেপ্তারের পরেও আমরা আমাদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমাদের দলীয় ৭২ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার আমার নির্বাচনী উঠান বৈঠকে যাবার পথে নেহালগঞ্জ ফেরী, ট্রলার এমনকি নৌকা পর্যন্ত বন্ধ করে দেয় পুলিশ। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নৌকা শিকল দিয়ে, ট্রলার তালা দিয়ে আটকে রাখে। চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক তুহিন পন্ডিতকে গ্রেপ্তার করে। উঠান বৈঠকে আসা নেতা-কর্মীদের বাঁসির হুইসেল দিয়ে এবং লাঠিচার্জ করে তাড়িয়ে দেয়। আমি একজন প্রার্থী হওয়ার পরেও বাসায় সার্বক্ষনিক পুলিশ নজরদারী রাখছে। প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করতে আসার সংবাদ পেয়ে পুরো প্রেসক্লাব পুলিশ ঘিরে রেখেছে। এতে করে নেতা-কর্মীরা আমার সাথে আসতে পারছে না দাবী করেন সরোয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, মহাজোটের লোকেরা নিজেদের অফিস ভাংচুর করে মামলা দিচ্ছে বিএনপির কর্মীদের বিরুদ্ধে। তিনি প্রশ্ন করেন যেখানে বিএনপি’র কর্মীরা গ্রেফ্তারের ভয়ে এলাকা ছাড়া, সেখানে তারা সরকারী দলের অফিস ভাঙবে কিভাবে ? সংবাদ সম্মেলনে সারোয়ার বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কত ভাল ভাল কথা বলছেন, কিন্তু তিনি কি মাঠের খবর রাখেন ? সারোয়ার বলেন গত ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি নির্বাচনে যেসব সরকারী কর্মকর্তারা ভোট ডাকাতিতে সহায়তা করছে, তারাই এবার জাতীয় নির্বাচন পরিচলনা করছে। তাদের দিয়ে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। সারোয়ার অবিলম্বে মাঠ পর্যায়ে নেতা কর্মীদের গ্রেফ্তার সহ সব ধরনের হয়রানী বন্ধের দাবী জানিয়ে সব প্রার্থীর জন্য প্রচারের সমান সুযোগের নিশ্চয়তাও দাবী করেন। তিনি বলেন আমরা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে রাজী ছিলাম না। এনিয়ে অনেক সমালোচনাও শুনেছি গত পাঁচ বছরে। যারা টিভির টকশোতে এসব কথা বলেছেন, তাদেরকে সরেজমিনে মাঠের খোজ খবর নেয়ারও আহবান জানান তিনি। সরোয়ার আরো অভিযোগ করে বলেন, প্রতিনিয়তই শহরে গ্রেপ্তার, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশী করা হচ্ছে। শনিবার রাতে মহানগর বিএনপি’র উপদেষ্টা ও সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদের বাড়িতে পুলিশ হানা দেয়। এসময় তাকে বরিশাল ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। তাকে সহ অনেক নেতা-কর্মীকেই ৩০ ডিসেম্বরের পরে বরিশালে আসতে বলা হচ্ছে। ৩০ডিসেম্বরের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে কিনা জানাতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কর্মীরাই বাড়ীতে ঘুমাতে পারছে না। সারোয়ার প্রশ্ন করেন দেশ নাকি উন্নয়নের মহাসড়কে আছে, তাহলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে সরকারের ভয় কিসের? তিনি সেনা বাহিনী মাঠে নামলে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনেরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের লড়াইয়ে থাকা না থাকার বিষয়টি কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভশীল বলেও জানান তিনি। পরে সরোয়ার আবারো জেলা প্রশাসক দপ্তরে গিয়ে রিটানিং অফিসার এসএম অজিয়ার রহমানের সাথে দেখা করে পুনরায় নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার আহবান জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিন বলেন, শুধুমাত্র বরিশালের একটি আসনেই নয়, বরং বিভাগের ২১টি আসনের চিত্র একই ধরনের। প্রার্থীদের অবরুদ্ধ করে রাখা, গণসংযোগে বাঁধা এবং গনগ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বরিশালের ২১টি আসনের মধ্যে ভোলা জেলার অবস্থা খুবই খারাপ। সেখানে বিএনপি’র তিন প্রার্থীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তারা প্রচার-প্রচারনায় নামতে পারছে না। আটক করা হয়েছে ৫০ জন নেতা-কর্মীকে। ঝালকাঠিতে দুই প্রার্থীর গাড়ি বহরে হামলা-ভাংচুর করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ঝালকাঠি জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সহ প্রায় ২০ জনকে।
পিরোজপুরে ৬৫ জন, পটুয়াখালীতে ২০ থেকে ২৫ জন, বরগুনায় ১৫ থেকে ১৬ জন ও বরিশাল মহানগরী থেকে ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোন গ্রেপ্তারী পরোয়ানা নেই। এমনকি অনেকে নেতা-কর্মীরাই উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছে। তার পরেও তাদের অহেতুক গ্রেপ্তার করে ভোটের পরিবেশ অশান্ত করে তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিএনপি’র এই নেত্রীর। এদিকে, প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এলাকায় অবস্থান নেয়া কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ নগরীর ৩০ নং ওয়ার্ডের শাহিন নামের কর্মীকে আটক করেছে। এ সংবাদ পেয়ে দলীয় ও নির্বাচন পরিচালনাকারী সদস্যরা প্রেসক্লাবে আসেনি। যার ফলে ৫/৬ জন আইনজীবীদের সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে আসেন। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সিদ্দিকুর রহমান লিংকন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আলম পান্না, এ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান মেবুল, এ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, এ্যাডভোকেট অসীম কুমার বাড়ৈ, এ্যাডভোকেট মামুন হোসেন প্রমুখ।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT