মহাজোটের প্রার্থী নিয়ে ঝামেলাবিহীন বরিশাল-১ আসন মহাজোটের প্রার্থী নিয়ে ঝামেলাবিহীন বরিশাল-১ আসন - ajkerparibartan.com
মহাজোটের প্রার্থী নিয়ে ঝামেলাবিহীন বরিশাল-১ আসন

3:21 pm , October 27, 2018

খান রুবেল ॥ আসছে ভোটের দিন। আগামী ডিসেম্বরের শেষ দিকে হতে পারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই দেশের অন্যান্য জেলার ন্যায় বরিশালের সংসদীয় ৬টি আসনেও বেজে উঠেছে নির্মাচনী ডামা ঢোল। প্রতিটি আসনেই আওয়ামী লীগ সহ মহাজোটের নেতাদের মধ্যে চলছে মনোনয়ন নিয়ে রশি টানাটানি। তবে ৬টি আসনের মধ্যে সম্পূর্ন ভিন্ন চিত্র বরিশাল-১ আসনে। কেননা গৌরনদী-আগৈলঝাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নেই রশি টানাটানির সেই চিত্র। কেননা এই আসনটিতে আওয়ামী লীগের একমাত্র হেভিওয়েট প্রার্থী দক্ষিণাঞ্চলে আওয়ামী লীগের অভিভাবক, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তাবায়ন পরিবিক্ষন কমিটির মন্ত্রি মর্যাদা প্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ।

যদিও আসনটিতে ১৪ দলীয় মহাজোট মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় জাপা কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম রহমান পারভেজ ও জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এর ঢাকা দক্ষিণ এর সদস্য এ্যাড. সেকান্দার আলীর নাম উঠে এসেছে। তবে তাদের প্রার্থী হওয়া না হওয়া নির্ভর করছে মহাজোটের সিদ্ধান্তের উপর। জাতীয় পার্টি অথবা মহাজোট থেকে অন্য কেউ প্রার্থী না হলে আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে।

সূত্রমতে, দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার প্রবেশদ্বার গৌরনদী। নির্বাচনের পূর্ব পরিসংখ্যান অনুযায়ী গৌরনদী-আগৈলঝাড়া আসনটি আওয়ামী লীগের। দেশের যে কটি আসন আওয়ামী পরিবারের প্রেস্টিজিয়াস আসন হিসেবে পরিচিত তার মধ্যে বরিশাল-১ আসনটি অন্যতম। এখানে ৭০র নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগের নিশ্চিত প্রার্থী হচ্ছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার। এই আসনে শুরুটায় ছিলেন eঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি ও কৃষক নেতা আবদুর রব সেরনিয়াবাত। তৎকালিন বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রী ছিলেন তিনি। তবে রাজনীতির পালাবদলের পর আসনটিতে ভাগ বসান বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। তবে তেমন সুবিধা জনক অবস্থান ছিলো না তাদের। কারন ১৫ই আগষ্ট শেখ হাসিনার পরে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্য শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত এর মৃত্যুর পরে বরিশালের রাজনীতিতে আবির্ভুত হন তার বড় ছেলে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ। ১৯৯১ এবং পরবর্তী ৯৬ এর নির্বাচনে আসনটিতে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। দুবারই বিএনপি’র হেভিওয়েট প্রার্থী কাজী গোলাম মাহবুব ওরফে ছরু কাজীকে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হন হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী এম. জহির উদ্দিন স্বপনের কাছে সামান্য ভোটের ব্যবধানে একবার পরাজিত হয়েছিলেন তিনি।

তাছাড়া বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার অর্থাৎ ওয়ান ইলেভেনের সময় আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। তাই ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি তিনি। তার অনুপস্থিতিতে ওই নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহানের সাথে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস। ওই নির্বাচেন প্রথম বারের মত সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। নির্বাচন পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর নিজ জন্মভূমি বরিশালে ফেরেন আলহাজ্ব আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে দীর্ঘ পাঁচ বছর সংসদের বাইরে কাটাতে হয়েছে তাকে। অবশ্য ৯৬ এর নির্বাচন পরবর্তী সরকারের সময় আলহাজ্ব আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ ছিলেন। দেশের আলোচিত পার্বত্য শান্তিচুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে স্বাক্ষর করেছিলেন তিনি। এদিকে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারী অনুষ্ঠিত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বরিশাল-১ আসনে প্রতিদ্বদ্বিতায় অংশ নেন। বিএনপি ওই নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃতীয় বারের মত সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন আলহাজ্ব আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে আসনটিতে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। অবশ্য স্বাধীনতা পরবর্তী আসনটিতে বঙ্গবন্ধু পরিবারের বাইরে দু’বার বিএনপি ও জাতীয় পার্টি একবার করে বিজয়ের স্বাদ গ্রহন করে। তবে পাঁচবার এই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলেই ছিলো। সেই হিসেবে বরিশাল-১ আসনটিতে বর্তমানে আওয়ামী লীগের পাল্লাই ভাড়ি।

জানাগেছে, শুধুমাত্র বরিশাল-১ আসনেই নয়, বরিশাল জেলা ছাপিয়ে বিভাগের অধিকাংশ আসনেই তার একক প্রভাব রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্ধারনের ক্ষেত্রে তার বিশেষ ভূমিকা ছিলো। এমনকি নৌকার প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার বিষয়ে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ’র অবদান রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে আওয়ামী রাজনীতিতে তাকেই অভিভাবক হিসেবে শ্রদ্ধা ও সম্মান করছেন নেতা-কর্মীরা। এমনটি দক্ষিণাঞ্চলে আওয়ামী লীগের একমাত্র ভরসাস্থল হলেন তিনি। নিজ নির্বাচনী এলাকা গৌরনদী-আগৈলঝাড়া সহ দক্ষিণাঞ্চলে উন্নয়নে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ভুমিকা রয়েছে। বিশেষ করে গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় যেসব উন্নয়ন হয়েছে তা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ’র প্রচেষ্টাতেই হয়েছে। তাই আসনটিতে তার বিকল্প ভাবছেন না অধিকাংশ সাধারণ ভোটার। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে আলহাজ্ব আবুল হাসনাত আবদুল্লাতেই ভরসা খুঁজে পেয়েছে আওয়ামী লীগ। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীকরাও আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ’র বিকল্প কিছু ভাবছেন না বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT