3:17 pm , December 28, 2025
মো. জসিম জনি, লালমোহন প্রতিবেদক ॥
ভোলা-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ কত রকমের চুরি করেছে, পৃথিবীর ইতিহাসে তা কেউ করতে পারেনি। হাজার হাাজার কোটি টাকা বিদেশী সরকার আমাদের দেশের জন্য অনুদান দিতো, সেইগুলো উন্নয়ন কাজের নামে লুটপাট করে তারা আবার বিদেশে পাচার করে দিতো। প্রবাসীরা কষ্ট করে আমাদের দেশে রেমিটেন্স পাঠাতো। সেই টাকাও চুরি করে তারা বিদেশে পাঠিয়ে দিতো। একের পর এক বিএনপি সহ বিরোধী মতের লোকদের ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করতো, আয়না ঘরে বন্দী রখে নির্যাতন করতো। ‘গুম’ নামে একটা শব্দ আছে বাংলাদেশের মানুষ আগে জানতো না। ক্ষমতার জন্য কত নিষ্ঠুরতা করতে পারে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ তা দেখিয়ে দিয়েছে। রবিবার নিজের মনোনয়নপত্র জমা উপলক্ষ্যে বিএনপির আয়োজনে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে মেজর হাফিজ এসব কথা বলেন। বেলা ১১টায় লালমোহন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে লালমোহন উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, আমি এই আসন থেকে মানুষের ভালোবাসায় পরপর ৬বার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলাম। আমার সাথে আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদও নির্বাচন করে অর্ধেক ভোট পেয়েছে। গত ১৬ বছরের নির্বাচনের ইতিহাস তো সবার জানা। শেখ হাসিনা দেখলেন এই আসনে ভোটে তাদের কেউ জিততে পারবে না, তখন তিনি বেছে বেছে বড় একটা সন্ত্রাসীকে পাঠালেন, তিনি লালমোহনের ভোটারও ছিলেন না। নির্বাচনের ১৫ দিন আগে এসে বিএনপির এজেন্টদের বাড়িতে গিয়ে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। মহিলাদেরকে নির্যাতন করে। বিএনপির কেউ ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেনি। অধিকাংশ কেন্দ্র দখল করে এভাবে নির্বাচনের নামে প্রহসন করে।
মেজর হাফিজ বলেন, আমি সত্যিকারে কোন নির্বাচনে হারিনি। পুলিশ, সরকার মিলে দুটি নির্বাচনে তারা প্রহসন করে আমাকে হারায়। আমাকে গৃহবন্দী করে রাখে। এভাবে মনে করেছিলো তারা কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। কিন্তু আল্লাহ ‘একট’ু ছাড় দেন, একেবারে ছেড়ে দেন না। আজকে তারা আল্লাহর হুকুমেই দেশ ছাড়া হয়েছে।
মেজর হাফিজ বলেন, অতীতে আমার কোন অন্যায়, দুর্নীতি কেউ খুঁজে পায়নি। আগামীতেও সেভাবে এলাকা চালাবো ইনশাআল্লাহ। নির্বাচিত হতে পারলে যত ধরণের দুষ্কৃতি আছে, যত ধরণের দুর্নীতি আছে সব নির্মূল করা হবে। কেউ যদি কারো সাথে অন্যায় আচরণ করে তাকে দল থেকে বের করে দেওয়া হবে। আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ দেখতে চাই। ভোটারদের মতামত নিয়েই আগামীতে রাষ্ট্র চালানো হবে। আপনারা আমার পাশে থাকবেন।
তিনি বিকেলে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে নিজের মনোনয়ন ফরম জমা দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম বাবুল, বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ মো. ফরিদ উদ্দিন, শফিউল্যাহ হাওলাদার, সোহেল আজীজ শাহীন, পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ¦ ছাদেক মিয়া ঝান্টু, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবুল পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদল সভাপতি কবির হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসানুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক বশির হাওলাদার, পৌরসভা যুবদলের সভাপতি মো. জাকির ইমরান, সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলে রাব্বী নাফিজ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক প্রভাষক রেজাউর রহমান শাহিন, সদস্য সচিব মো. শহিদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আব্দুল হাই হাওলাদার, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাহিন হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ রেজা।
