4:08 pm , May 18, 2025
বরিশাল জেলা দলিল লেখক সমিতি
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল জেলা দলিল লেখক সমিতির তিন নেতার বিরুদ্ধে সংগঠনের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমান পেয়েছে তদন্ত কমিটি। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর তারা একটানা ক্ষমতায় থেকে এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন। যারা সংগঠনের টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়ম করেছেন তারা হলেন-জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আবুল হাসান নয়া এবং আব্দুল মন্নান হাওলাদার। তারা পরস্পর যোগসাজশে ফ্যাসিস্ট সরকারের ক্ষমতা দেখিয়ে সংগঠনের ব্যাংক একাউন্টে থাকা লাখ লাখ টাকা কোন ধরণের হিসেব ছাড়াই উত্তোলন করে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করেছেন। এ ঘটনায় দলিল লেখক সমিতির সদস্যদের পক্ষে আব্দুল হান্নান নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা দলিল লেখক সমিতির তত্ত্বাবধায়ক বডির আহবায়ক এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালককে আহবায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গেলো বছরের ৭ নভেম্বর তদন্ত রিপোর্ট জমা দেন সাজ্জাদ পারভেজ। তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে : বর্তমান কমিটির নির্বাচনকালে ধারা-১৪ অনুসারে নির্বাচন কমিটি গঠন করা হয়নি। অনুমোদিত গঠনতন্ত্রের বিপরীতে গিয়ে কমিশন গঠন করা হয়। এ্যাড. দেলোয়ার হোসেনকে আহবায়ক করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে কিন্তু তিনি সংস্থার সাধারণ সদস্য না। গঠনতন্ত্রে বলা আছে সংস্থার সাধারণ সদস্য না হলে নির্বাচন কমিশনার হওয়া যাবেনা। অথচ তাকে আহবায়ক করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং অনভিপ্রেত।
ধারা-১৯ এর আলোকে আয়-ব্যয় এর হিসাব নিরীক্ষা করা হয়নি। সংস্থাটি ২০১৮ সাল থেকে অদ্যাবধি কোন নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেনি যা সম্পূর্ণ অবৈধ। এছাড়া যথাযথভাবে ক্যাশবই লিপিবদ্ধ করা হয়নি। ভাউচারের সাথে ক্যাশবই এর সাথে গড়মিল রয়েছে।
প্রতিটি দলিল থেকে ৩শ টাকা আদায় করা হয়। এ ব্যাপারে সাধারণ সভায় বা কার্যনির্বাহী সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়নি। এবং এর সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। ব্যাংক ষ্টেটমেন্টের সাথে টাকা জমা বা উত্তোলনের এতদসংক্রান্ত বিষয় কোন মিল নেই। ব্যাংকে বর্তমানে ৮ লাখ ৩২ হাজার ৩৭১ টাকা আছে। সংস্থাটির অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজাজুল হক পতদ্যাগ করেছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিএনপির অফিস পোড়ানো মামলার এজাহারভুক্ত আসামী।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, কমিটির সভাপতি আবুল হাসান নয়া, সাধারণ সম্পাদক এবং কোষাধ্যক্ষ আব্দুল মন্নান হাওলাদার সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লার লোক হিসেবে পরিচিত। তারা আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর জেলা দলিল লেখক সমিতির নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৫ই আগস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর বিএনপি অফিস পোড়ানোর ঘটনায় মামলা করেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক। ওই মামলার আসামী করা হয় দলিল লেখক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো এখন যে নতুন কমিটি হবে সেই কমিটিতে ফ্যাসিস্ট এর তিন দোসরকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার সুপারিশ করছেন বিএনপি ও যুবদলের একাধিক নেতা।
