3:07 pm , April 18, 2025
জসিম জিয়া ॥ ভোট যুদ্ধের আগে মনোনয়ন যুদ্ধ শুরু হয়েছে বিএনপিতে। আগামী সংসদ নির্বাচনে দলটির সাবেক এমপিদের পাশাপাশি নতুন অনেকেই মনোনয়ন পাওয়ার আশায় মাঠে কাজ করছেন। তবে দলীয় সূত্র বলছে চাইলেই যে কাউকে এবার মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ-সম্ভাবনা কোনটাই নেই। বিগত আন্দোলন সংগ্রামে কার কি অবস্থান তার চুলছেড়া বিশ্লেষন করেই সিদ্ধান্ত নেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উড়ে এসে জুড়ে বসে কিছু দান-খয়রাত করে কেউ এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখলে সেটা হবে সবচেয়ে বড় ভুল। কারণ আগামী সংসদ নির্বাচন হবে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন দীর্ঘ ১৫ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেননি। এত বছর পর তাদের সামনে সেই সুযোগ এসেছে। এ কারণে দেখে-শুনে, শত বিচার বিশ্লেষণ করে ভোটাররা যেমন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন তেমনি দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার আগে অন্তত দশবার ভাববেন নীতি নির্ধারকরা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। আসতে চাইছেন হাই কমান্ডের নজরে। বরিশাল বিভাগের ২১ আসনে বিএনপি নেতাদের মনোনয়নযুদ্ধ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব। এ পর্বে তুলে ধরবো বরিশাল-১ আসনের হাল-চাল।
এক উপজেলায় তিনজন বড় নেতা। একজন জহির উদ্দীন স্বপন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, আকন কুদ্দুসুর রহমান জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনজনই মনোনয়ন চাইছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। আর এ নিয়ে ত্রিধারায় বিভক্ত স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রায় দিনই সেখানে নিজেরা নিজেদের মধ্যে জড়াচ্ছেন সংঘর্ষে। এ চিত্র গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-১ আসনের। ১৯৯১ থেকে ২০২৪। এই ৩৩ বছরে ৭টি সংসদ নির্বাচন এর মধ্যে এখানে মাত্র একবার জিতেছিল বিএনপি। এর বাইরে আর কোন নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা জয় লাভ করতে পারেননি। এখানকার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য দলীয় প্রার্থীর সাথে বরাবরই বেঈমানী করে আসছেন দলেরই লোকজন। এ কারণে বার বারই পরাজয় বরণ করতে হচ্ছে। আগামী নির্বাচনেও যদি সেই ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে বিজয়ের স্বপ্ন-স্বাদ পূরণ অতটা সহজ হবেনা বলে মনে করছেন কর্মী-সমর্থকরা।
১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন প্রয়াত ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহাবুব। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। এরপর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও এখানে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন মাহাবুব। সেবারও হাসানাতের কাছে পরাজিত হন তিনি। এরপর ২০০১ সালে প্রথমবারের মত দলীয় টিকিট পেয়ে এমপি নির্বাচিত জহির উদ্দীন স্বপন। কিন্তু ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আসনটি আবার হাতছাড়া হয় বিএনপির। সংষ্কারপন্থিদের সাথে হাত মিলিয়ে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে কথা বলায় মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়েন জহিরউদ্দীন স্বপন। তাকে বাদ দিয়ে দলীয় টিকিট দেওয়া হয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান কে। ওই নির্বাচনে মামলা জটিলতার কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। এ সুযোগে এখানে নৌকার টিকিট পেয়েছিলেন তালুকদার মো: ইউনুস। একাধিক বিএনপি নেতার অভিযোগ জহির উদ্দীন স্বপন দলীয় টিকিট না পেয়ে হরিন প্রতীকে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন এবং মামলা দিয়ে দৌঁড়ের উপর রাখেন বিএনপির প্রার্থীকে। তার একান্ত সচিব কাওছার হোসেনকে দিয়ে সোবাহানের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে রীট করানো হয়। ফলে প্রচারণা রেখে আদালতের বারান্দায় থাকতে হয়েছিলো বিএনপির প্রার্থীকে। দলীয় শত্রু না থাকলে এখানে খুব সহজেই বিজয়ী হতেন ধানের শীষের প্রার্থী এমনটাই মনে করেন দলটির নেতাকর্মীরা।
২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় একক প্রার্থী হিসেবে বিনাভোটে তৃতীয়বারের মত এমপি নির্বাচিত হন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। ২০১৮ এর নির্বাচনে অবশ্য অংশগ্রহণ করে বিএনপি আর দলের টিকিট দেওয়া হয় জহির উদ্দীন স্বপনকে। তবে হাসানাতের কাছে হেরে যান তিনি। সবশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনেও অংশ নেয়নি বিএনপি। এ কারণে চতুর্থবারের মতো বিনাভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে কিনা সেটা অনিশ্চিত। কিন্তু বিএনপিতে যে একাধিক প্রার্থী হবেন তা অনেকটাই নিশ্চিত। যদি এমনটা হয় তাহলে এর সুযোগ নেবে জামায়াতসহ অন্যান্য ইসলামিক দলগুলো। ফলে এখনই নিজেদের মধ্যে বিরোধ মেটানোর তাগিদ দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
