4:28 pm , April 17, 2026
ভা-ারিয়া প্রতিবেদক ॥ ভা-ারিয়া উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরি । প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার কোথাও না কোথাও চুরির ঘটনা ঘটছে। রাত নামলেই আতঙ্কে থাকছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চোরচক্র বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায় এবং সুযোগ বুঝে ঘরে ঢুকে মালামাল নিয়ে যাচ্ছে। কোথাও আবার বিদ্যুতের সার্ভিস লাইনের তার কেটে নেওয়া হচ্ছে, কোথাও টিউবওয়েল খুলে নিয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও নির্মাণ সামগ্রী চুরি হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দোলোয়ার হোসেন বিপ্লবের বাসায় বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটে। দেলোয়ার বর্তমানে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় বাড়ি ছিল তালাবদ্ধ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্বৃত্তরা লোহার শাবল দিয়ে বাসার পেছনের দরজার ছিটকিনি ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে স্টীলের আলমিরা থেকে তার স্ত্রীর প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ৮০ হাজার টাকা এবং জমির দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি করে নিয়ে যায়।
একই রাতে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে একাধিক বাড়িতে চুরির চেষ্টা চালানো হয়। মিলন শরীফ, নুর আলম হাওলাদার, নুরুজ্জামান হাওলাদার ও ইলিয়াস হোসেন কারীর দুটি ঘরের বিদ্যুতের সার্ভিস লাইনের তার কেটে ফেলে চোরেরা। তবে বাড়ির লোকজন টের পেয়ে গেলে চোরেরা তার ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।
একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইউনুস লাহারীর বাড়ি থেকে টিউবওয়েল খুলে নিয়ে যায় চোরেরা। এছাড়া ইয়ারুন বেগমের বাসার সার্ভিস লাইনের তারও চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে সোহাগ বেপারীর নির্মাণাধীন ভবনের ছাদের রড কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান।
এছাড়াও গত ২ এপ্রিল উপজেলার উত্তর ভিটাবাড়িয়া গ্রামের কৃষক মোঃ লোকমান সিকদারের গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৩টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় সকালে গোয়ালঘর খালি দেখে পরিবারের সদস্যরা হতবাক হয়ে পড়েন।
এর আগে গত ১৭ ও ১৮ মার্চ পুলিশের পৃথক অভিযানে মোট ১৭টি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়। এ সময় এক নারীসহ ৫ জনকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া গরুগুলো বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ধারাবাহিক অভিযানের পরও চোরচক্র সক্রিয় থাকায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ কাটছে না।
উপজেলার ৭নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রনজীৎ সাধুর ‘শ্রী শ্রী গণেশ মন্দির থেকে ভক্তদের দানের টাকা,পাঁচটি পিতলের কলস এবং পিতলের পাঁজাল প্রদীপ নিয়ে যায় চোরেরা। একই ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শিক্ষক আবু বকরের ঘর থেকে নগদ ৩৫হাজার টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুজ্জামান হাওলাদার জানান, আগে বিচ্ছিন্নভাবে চুরির ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন প্রায় প্রতি রাতেই উপজেলার কোনো না কোনো এলাকায় চুরি কিংবা চুরির চেষ্টা হচ্ছে। রাত নামলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপত্তার জন্য রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে ভা-ারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, চুরি প্রতিরোধে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন চোরকে আটক করা হয়েছে। উপজেলার কোথাও চুরির ঘটনা ঘটলে দ্রুত থানায় জানাতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
