3:56 pm , January 31, 2026
বিশেষ প্রতিবেদক ॥
রাষ্ট্রীয় নৌ-বানিজ্য প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিসি প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে মেরামত শেষে ঐতিহ্যবাহী ‘পিএস মাহসুদ’ জাহাজটি বরিশাল-ঢাকা নৌপথে ‘পর্যটক সার্ভিস’ হিসেব চালুর পরে আর দেখা নেই। প্রায় ৫ বছর বানিজ্যিক পরিচালন থেকে বাইরে রেখে কোটি টাকা ব্যায়ে মেরামত ও সংরক্ষন কাজ সমাপ্ত করে পিএস মাহসুদ গত ২৮ নভেম্বর ‘পর্যটক সার্ভিস’ হিসেবে ঢাকা থেকে বরিশালে এবং ২৯ নভেম্বর ঢাকায় ফেরত যায়। এর আগে ১৫ নভেম্বর মেরামতকৃত নৌযানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা। এমনকি মেরামতকৃত নৌযানটির পরিক্ষামূলক পরিচালনেও উপদেষ্টা ঢাকা-চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে ভ্রমন করেছিলেন।
কিন্তু ৫ ডিসেম্বর নৌযানটির দ্বিতীয় বানিজ্যিক পরিচালনে বরিশালে এসে ৬ ডিসেম্বর ফেরত যাবার পরে আর বরিশালমুখী হয়নি। গত ১২ ডিসেম্বর কয়েকজন বিদেশী কূটনীতিককে নিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ‘পিএস মাহসুদ’এ ঢাকা-চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে ভ্রমনের পরে তা ইজারাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
‘গ্রীন টুর এন্ড ট্রাভেলস’ মাসে ১ লাখ ৪১ হাজার টাকার বিনিময়ে পিএস মাহসুদ ইজারা গ্রহন করার পরে আর বরিশালমুখী হয়নি। এমনকি ইজারা প্রদানের আগে নৌযানটি ‘সপ্তাহে অন্তত ১দিন বরিশাল-ঢাকা নৌপথে চলাচল করবে’ বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হলেও সে কথা রাখেনি ইজারাদার সহ নৌ বানিজ্য প্রতিষ্ঠানটি। গত দু’মাসে একবারও বরিশালবাসী পিএস মাহসুদ এর হুইসেল শোনেনি। তবে এখন সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্র বলছে ‘ইজারাদার তার বানিজ্যিক সুবিধার বিবেচনায়ই নৌযানটি পরিচালন করছে। ফলে বিআইডব্লিউটিসি নৌযানটি সপ্তাহে অন্তত একদিন ঢাকা ও বরিশাল থেকে যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার পরিচালনের যে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছিল, তা আর কার্যকর থাকলো না।
ইজারাদার নৌযানটিতে কর্মরত সংস্থার ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ ২ লাখ টাকা এবং ইজারামূল্য বাবদ ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা পরিশোধ করছে বলে জানা গেছে। ৬ মাসের ভাড়া আগাম পরিশোধের বিনিময়ে দু বছরের জন্য নৌযানটি ইজারা চুক্তি করেছে বিআইডব্লিউটিসি।
উল্লেখ্য, নৌ পরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন গত ১২ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস এর সাথে সাক্ষাত করে পিএস মাহসুদ পুনরায় চালুর বিষয়টি অবহিত করলে তিনি এ বিষয়ে যথেষœট উচ্ছাস প্রকাশ করে ‘কোন ঐতিহ্যকে হারিয়ে যেতে দেয়া হবে না’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এসময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের বৈচিত্রপূর্ণ নৌকার ডিজাইন পুরো পৃথিবীতে বিখ্যাত। অথচ এসম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানে না’ । এসময় প্রধান উপদেষ্টা ‘আমাদের এই ঐতিহ্যকে হারিয়ে যেতে দেয়া যাবে না’ বলে মন্তব্য করে ‘প্যাডেল স্টিমার সহ যত পুরনো নৌযান আছে সবকটিই সংরক্ষনের ব্যবস্থা নিতে হবে’ বলে জানিয়েছিলেন।
ইতোমধ্যে পিএস মাহসুদ ইজারাদারের কাছে হস্তান্তরের পরে পিএস অস্ট্রিচ’র ইজারাও চুড়ান্ত হয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহেই ব্যাংক গ্যরান্টি পরিশোধ সাপেক্ষে নৌযানটি ৫ বছরের জন্য ইাজারাদারের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংস্থার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। ২০১৮ সালে ‘পিএস অস্ট্রিচ’ বেআইনীভাবে বিনা দরপত্রে ইজারা দেয়া হয় বিগত সরকারের নৌ পরিবহন মন্ত্রীর নির্দেশে। ইজারাদার নৌযানটির উপরিকাঠামোর প্রায় পুরোটাই ভেঙে তছনছ করে দেয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত ভাড়াও পরিশোধ করেনি। দীর্ঘদিন ইজারাদারের হাতে থাকার পরে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ নিয়ে পিএস অস্ট্রিচ উদ্ধার করা হলেও বকেয়া আদায়ে আদালতে মামলা চলছে।
অপরদিকে সংস্থার হাতে থাকা ‘পিএস লেপচা’ ও পিএস টার্ণ’ নামের অপর দুটি নৌযানও মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষনহীন অবস্থায় অযতœ-অবহেলায় পড়ে আছে। সংস্থাটির দায়িত্বশীল মহলের কেউ এসব নৌযানের মেরামত ও পুনর্বাসনের বিষয়ে কিছু বলতে পারছে না।
