4:01 pm , May 4, 2026
বাকেরগঞ্জ প্রতিবেদক ॥
বাকেরগঞ্জ থানার নাজমুল মোল্লার মনগড়া চার্জশিটে সাংবাদিক পরিবার আসামী হয়েছে। সাংবাদিক পরিবারের উপর হামলার ঘটনায় উল্টো তারা কি করে আসামী হল এনিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার বিতর্কিত কর্মকান্ড ও ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সুত্রে জানা যায়, বাকেরগঞ্জের রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান ঢাকায় কর্মরত এশিয়ান টিভির রিপোর্টার ফয়সাল মাহমুদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ও পুলিশি চার্জশিটকে কেন্দ্র করে গুরুতর প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি নিজে ও তার পরিবার হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও তাকে আসামি করে একটি “মিথ্যা মামলা ও চার্জশিট” দেওয়া হয়েছে, যা তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ভুক্তভোগী ফয়সাল মাহমুদ দাবি করেন, ২০১৬ সালে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী মালা বেগম দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালিয়া গ্রামে তার নিজস্ব বাড়ি দখল করে রয়েছেন। এনিয়ে একাধিকবার বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাঁধা দেয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাকে হয়রানি করে।
তার অভিযোগ, মালা বেগমের সঙ্গে তার সহযোগী হিসেবে মিম, ঝিম, পারভিন, তোফাজ্জেল, রুবেল এবং কথিত ‘ভুয়া ডাক্তার’ সোহেল একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে তাকে ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি ও হামলার মাধ্যমে তার বসতঘর দখল ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
সর্বশেষ গত ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক ফয়সাল মাহমুদ নিজ বাড়িতে গেলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায় মালা বেগমের দুই মেয়ে, ভুয়া ডাক্তার সোহেল, রুবেল, পারভীন, তোফাজ্জলরা। এতে তার হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম। একই ঘটনায় তার স্ত্রী শিলার মাথা ফেটে যায়। হামলাকারীরা ওই সময় তার ব্যবহৃত গাড়িও ভাঙচুর করে।
ঘটনার পর তিনি বাদি হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ মালা বেগম ও তার এক মেয়েকে গ্রেপ্তার করে। তার পরদিনই কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে সাংবাদিক ফয়সাল মাহমুদ, তার স্ত্রী ও সন্তানের বিরুদ্ধে পাল্টা একটি মামলা দায়ের করে।
ওই মামলায় এস আই নাজমুল তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করে যেখানে দ-বিধির ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৪২৭ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর দাবি, তার ও তার স্ত্রীর গুরুতর আঘাতের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তদন্তে সেগুলো উল্লেখ করা হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, তদন্ত কর্মকর্তা এস আই নজমুল মোল্লা অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত হয়ে আদালতে একটি “মিথ্যা চার্জশিট” দাখিল করেছেন।
সাংবাদিক ফয়সাল মাহমুদ বলেন, “আমি নিজেই হামলার শিকার, আমার হাত ভাঙা এবং আমার স্ত্রীর মাথা ফাটার প্রমাণ রয়েছে। তারপরও আমাকে আসামি করে আদালতে পুলিশ মিথ্যা চার্জশিট দাখিল করেছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, যেখানে একজন সাংবাদিক ও তার পরিবার দৃশ্যমানভাবে হামলার শিকার, সেখানে কীভাবে তাদের বিরুদ্ধেই হত্যা চেষ্টা ও মারধরের মতো গুরুতর ধারায় চার্জশিট দাখিল করলো। এ ঘটনায় তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে ভুক্তভোগী আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের সহায়তা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে এসআই নাজমুল মোল্লার কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
