মুলাদীতে খাল উদ্ধার করে ২০০ একর ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে স্মারকলিপি মুলাদীতে খাল উদ্ধার করে ২০০ একর ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে স্মারকলিপি - ajkerparibartan.com
মুলাদীতে খাল উদ্ধার করে ২০০ একর ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে স্মারকলিপি

4:00 pm , May 4, 2026

মুলাদী প্রতিবেদক ॥
মুলাদীতে দখল করা খাল উদ্ধার করে প্রায় ২০০ একর ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল সোমবার উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ২ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা চরকালেখান গ্রামের বাদশাকান্দি খাল উদ্ধারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেন। ওই গ্রামের ১০টি পরিবার রাস্তা ও উঠান বানিয়ে দুই ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বাদশাকান্দি খালটি বন্ধ করে দেওয়ায় ২টি বিলের প্রায় ২০০ একর ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
গত ৭ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার সরকারি সার্ভেয়ার নিয়ে খালটি পরিদর্শন করে দখলদারদের রাস্তা ও স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন। কিন্তু কেউ ওই নির্দেশনা না মানায় স্থানীয় বাসিন্দারা কৃষি জমি রক্ষা এবং সরকারি খাল উদ্ধারের জন্য সোমবার গণস্বাক্ষরিত স্মারকলিপি দেন। এসময় খালের নকশা, দখলের ইতিহাস এবং খালটি উদ্ধার হলে জনদুর্ভোগ নিরসনের সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, প্রায় ৩০বছর ধরে বাদশাকান্দি খালটি ধীরে ধীরে দখল করা হয়েছে। স্থানীয়দের বাধার মুখে দখলদারেরা তাদের ব্যক্তি স্বার্থের জন্য ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে বাড়ির রাস্তা, উঠান ও স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। খালটির প্রবাহ বন্ধ থাকায় চরকালেখান গ্রামের দুইটি বিলের প্রায় ২০০ একর জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তাই খালটি উদ্ধার করার জন্য স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
চরকালেখান ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. বিল্লাল সরদার বলেন, বাদশাকান্দি খাল দিয়ে ২টি বিলের পানি নিস্কাশন হতো। ১৯৯৫ সালে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম আকন অবৈধভাবে বাধ দিয়ে তার বাড়ির রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে খালটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে মান্নান আকন, বাকী উল্লাহ চৌকিদার, ২০০৭ সালে নান্টু আকন, ২০১০ সালে আব্দুল আজিজ মাওলানাসহ প্রায় ১০টি পরিবার তাদের বাড়ির রাস্তা ও উঠান তৈরি করতে খালটির বিভিন্নস্থানে বাধ দেন। ফসলি জমি রক্ষায় খালটি উদ্ধার করে মানুষের বাড়ির রাস্তায় কালভার্ট দেওয়া হলে এলাকাটি আবার কৃষি সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, খাল উদ্ধারের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপি দিয়েছেন। খালটি পরিদর্শন করা হয়েছে। শীঘ্রই অবৈধ রাস্তা ও স্থাপনা উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT