4:05 pm , April 19, 2026
দাম বৃদ্ধিতে খুশি পেট্রোলপাম্প মালিকরা
বিশেষ প্রতিবেদক ॥
সরকারিভাবে পেট্রোলিয়াম দাহ্য পদার্থ বা জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে পেট্রোলপাম্প মালিকরা খুশিতে আত্মহারা হলেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও দুশ্চিন্তা দুটোই বেড়েছে। কেননা, পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পরিবহন ভাড়া ও নিত্য পণ্যের বাজারে। ইতিমধ্যেই সিলিন্ডার গ্যাসের দামে দিশেহারা সাধারণ মানুষের কাছে বাজারের ভার বহন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, নতুন দর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা ও কেরোসিন ১৩০ টাকা।
এর আগে সর্বশেষ গত ১ ফেব্রুয়ারি যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেই দামের তুলনায় এবার সব ধরনের জ্বালানি তেলে লিটারে উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে।
নতুন সমন্বয়ে ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা হয়েছে, এতে লিটারে ১৮ টাকা বেশি গুনতে হবে ভোক্তাকে। অকটেন ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে, এখানে লিটারে সর্বোচ্চ ২০ টাকা বৃদ্ধি ঘটেছে। আর পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে, যা লিটারে ১৯ টাকা বেশি। এই বাড়তি দামের পুরো চাপ পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের উপর পড়বে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বেড়েছে পরিবহন ভাড়াও।
বরিশালের একাধিক আড়ৎদার জানিয়েছেন, আমাদেরও এখন দাম বৃদ্ধির বোঝা বইতে হবে। রাতারাতি বেড়েছে ট্রাক ও ট্রলারের ভাড়া। বাড়তি ভাড়ার চাপ পণ্যের ওপর পড়বে এটাই স্বাভাবিক।
এদিকে বাস ও ট্রাক পরিবহনচালকরা বলছেন, সবখানে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল দেওয়া হচ্ছে। তারা সর্বোচ্চ ১০ লিটার করে ডিজেল পাচ্ছেন প্রতি পাম্প থেকে। ১০ লিটার তেলে বড়জোর ২০/২৫ কিলোমিটার চলা সম্ভব। এরপরই আবার তেলের জন্য লাইন দিতে হচ্ছে। এতে করে যাত্রী ভোগান্তি যেমন হচ্ছে তেমনি সময় বেশি লাগছে বলে জানান তারা।
যদিও বরিশালের পেট্রোল পাম্প মালিকরা বলছেন, তাদের চাহিদার পর্যাপ্ত তেল রয়েছে এবং তারা সর্বোচ্চ মোটরসাইকেলে অপরিচিত হলে ৫০০ টাকার, পরিচিত হলে ১০০০ টাকা এবং বাস ট্রাকের জন্য পরিচিত হলে ৫০ লিটার তেল এবং অপরিচিত হলে ২০ লিটার তেল বিক্রি করছেন বলে জানান ডোস্ট পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার।
এদিকে খোলা বাজারেও বিভিন্ন দোকানে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় ২ থেকে ১০ টাকা বেশি দরে। পাশাপাশি রয়েছে তেলে ভেজাল দেওয়ার অভিযোগ। দাম বৃদ্ধির এই মুহূর্তে ভেজাল তেল নিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন অনেক ক্রেতা। তবে এ দায় নিতে রাজী নয় পেট্রোল পাম্পগুলো। নথুল্লাবাদের সুরভী পাম্প কর্তৃপক্ষ জানালেন, খোলা বাজারে বিক্রি বন্ধ না হলে এই ভেজাল থামানো যাবেনা।
ভেজাল তেলে মোটরসাইকেল, ট্রলার ও স্প্রীডবোট বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এরাই সাধারণত খোলা বাজারের জ্বালানি কিনতে বাধ্য হন।
বিস্ফোরক পরিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল জেলায় ২৯টি (ট-ফরম) পেট্রোল পাম্পের জ্বালানি তেল বিক্রির বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন রয়েছে। এছাড়া জেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির (এম-ফরম) পেট্রোলিয়াম বিক্রির বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন রয়েছে ৫৪টি প্রতিষ্ঠানের। পাশাপাশি আরও ৪২টি প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় শ্রেণির (ঝ-ফরম) পেট্রোলিয়াম বিক্রির বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন রয়েছে। এছাড়া (চ-ফরম) এলপিজি সিলিন্ডার ও গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অনুমোদন রয়েছে ২০৭টি প্রতিষ্ঠানের।
যদিও শুধু বরিশাল নগরীতেই চ ও ঝ ক্যাটাগরির সহস্রাধিক পেট্রোল বিক্রি প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যাবে এবং যারা সরাসরি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপো থেকে তেল এনে বিক্রি করছেন। বরিশালের জ্বালানি তেল ডিপোগুলেতে ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে নিয়মিত ট্যাগ অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল রয়েছে। দিনে রেশনিং পদ্ধতিতে এক লাখ ২০ লিটার পর্যন্ত তেল বিক্রির অনুমোদন রয়েছে বলে জানালেন পদ্মা পেট্রোলিয়াম কোম্পানির বরিশালের ব্যবস্থাপক মাজহারুল ইসলাম।
আর মেঘনার ব্যবস্থাপক শাহ আলম বলেন, বরিশালে কোনো সমস্যা নেই। সবকিছু আগের মতো স্বাভাবিক রয়েছে। আমাদের চাহিদা ও সাপ্লাই তথ্য জেলা প্রশাসক দেবেন, এ নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে পারিনা। জেলা প্রশাসক থেকেই এখন সবকিছু তদারকি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
