3:56 pm , April 15, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
নগরীতে ঘরের মধ্যে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বাবা ও ছেলে আহত হয়েছেন। বুধবার নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ড এর দরগা বাড়ি মসজিদের পাশে তালুকদার ভিলা নামের তিনতলা ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রবিউল আল আমিন জানিয়েছেন। গুরুতর দগ্ধ বাবা মানিক চন্দ্র শীলকে (৬০) ঢাকা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ছেলে মৃদুল চন্দ্র শীলকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্টেশন অফিসার রবিউল আল আমিন আহত ছেলে মৃদুলের বরাতে বলেন, পরিবার নিয়ে থাকতো তারা। গত রাতে বাবা ও ছেলে বাসায় ছিল। ওইরাতে নতুন একটি গ্যাস সিলিন্ডার এনেছিল। সিলিন্ডার চুলার সঙ্গে সংযোগ দেওয়ার পর শব্দ হয়। তখন বাবা মানিক সংযোগ সিলিন্ডারের সঙ্গে ভালো করে আটকে দিয়েছে। কিন্তু এরপরেও মনে হয় লিকেজ ছিল। এতে সিলিন্ডার থেকে গ্যাস ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ৬টার দিকে মানিক চন্দ্র শীল রান্না করার জন্য চুলা জ্বালাতে গেলে বিস্ফোরণ হয়। এতে ঘরে দরজা জানালা উড়ে যায়। এছাড়াও আগুনে পুড়ে দগ্ধ হয়েছে বাবা
ও ছেলে। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মুশিউল মুনীর বলেন, মানিক চন্দ্র শীলের শরীরে ৭০ ভাগ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ছেলের শরীরে ৫ ভাগের মতো পুড়েছে। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সন্দেহজনক কিছু পাননি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিষয়টি গ্যাস লিকেজের কারণে হয়েছে। তবুও তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো নাশকতার বিষয় পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘরের মধ্যে গ্যাসের সিলিন্ডার দুটি অক্ষত থাকায় প্রতিবেশীরা সন্দেহ প্রকাশ করেছে। বিস্ফোরণে নিচতলারসহ আশপাশের ভবন অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ বিস্ফোরণের রহস্য রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বলেন, গ্যাস লিকেজ হলে আগুন পেলে বিস্ফোরিত হয়। তখন অক্সিজেনের দুর্বল জায়গা পেলে সেই স্থান নিয়ে বের হয়ে যায়। এখানেও সেই ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে ভবনের নিচতলার তিনটি কক্ষের দরজা, জানালা ও থাই গ্লাসসহ ব্যবহৃত আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দরগাবাড়ি পুল ও মসজিদের উত্তরপাশে শাজাহান তালুকদার এর তিনতলা ভবনের নীচতলায় এই বিস্ফোরণ এর ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণ এর শব্দ ছিলো ভয়াবহ। সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এটা হয়নি বলে দাবী তাদের। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের চিহ্নগুলোও অস্বাভাবিক।
দরগাবাড়ি জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন শরিয়ত বলেন, নামাজের মধ্যেই বিস্ফোরণের শব্দ পেয়েছি। সালাম ফিরিয়ে দ্রত ছুটে এসে মানিক ও তার ছেলেকে ঘরের ভিতর পাই। তাদের শরীরে আগুন লেগেছিল। তাই দ্রুত ধাক্কা দিয়ে খালে ফেলে দেই। পরে তাদের উদ্ধার করে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আল আমীন ও তার স্ত্রী বলেন, ফজরের পরপরই প্রচ- শব্দে তার রান্নাঘরের দরজা এসে ফ্যানের সাথে পড়ে। আতঙ্কে তারা চিৎকার করে ওঠেন। ওপাশের ফ্ল্যাট থেকে তখন আগুনের আলামতসহ ধোয়া আসছে। এরপরতো হুলস্থুল পরিস্থিতি। আধাঘন্টার মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের লোক এসে আগুন নিভিয়ে যায় বলে জানান তারা। ঐ সময় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দাবী করেন, গ্যাস সিলিন্ডার পাইপ লিক হয়ে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিস্ফোরণের তীব্রতা ও অক্ষত দুটি গ্যাস সিলিন্ডার পাশেই পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
