৬ বোনের ষড়যন্ত্রে বাপের ভিটা ছাড়ার উপক্রম দুই ভাইয়ের! ৬ বোনের ষড়যন্ত্রে বাপের ভিটা ছাড়ার উপক্রম দুই ভাইয়ের! - ajkerparibartan.com
৬ বোনের ষড়যন্ত্রে বাপের ভিটা ছাড়ার উপক্রম দুই ভাইয়ের!

4:23 pm , April 8, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
ভাইরা বাবার সম্পত্তি থেকে বোনদের বঞ্চিত করে সমাজে এ ধরনের অভিযোগের শেষ নেই। আদালতে এ সংক্রান্ত মামলাও কম নয়। কিন্তু এবার ঘটেছে উল্টো ঘটনা। ৬ বোন ও বোন জামাতা মিলে ২ ভাইকে বাপের ভিটা থেকে নামানোর চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু বোন নয় বোনদের সাথে যুক্ত হয়েছেন স্বয়ং মা। বোন ও বোন জামাতারা ভুল বুঝিয়ে মাকেও ছেলেদের বিষয়ে ভুল বুঝিয়ে তাদের দলে ভিড়িয়েছেন। এমন অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়েছেন ওই দুই ছেলে। আদালতের রায় ও বোনদের কঠোর ষড়যন্ত্রের কারনে বাপের ভিটা থেকে বিতাড়িত হবার উপক্রম হয়েছে। শুধু বাপের ভিটা থেকে তাড়ানোর চেষ্টাই নয় বাবার রেখে যাওয়া ফিক্সড ডিপোজিট,জমি,রিয়েল স্টেট ব্যবসা প্লট ও ফ্লাট এর অংশ থেকে ভাইদের বঞ্চিত করে নিজেদের দখলে নিয়েছেন বোনরা। এ নিয়ে উভয় পক্ষের দায়ের করা মামলা নি¤œ থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তারপরও এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু কোন সমাধান হয়নি। ঘটনাটি ঘটেছে নগরীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মল্লিক রোডে।
জানা গেছে, জীবদ্দশায় ৪ তলা ভবনটি নির্মান করে ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রী কে নিয়ে বসবাস করতেন মজিদ খান। ভবন নির্মান কাজে অবশ্য ছেলে ওয়ালিদ খান সানের বেশ কিছু অর্থ রয়েছে। যা তিনি ভবন নির্মানের জন্য বাবাকে দিয়েছিলেন।
২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী মারা যান তিনি। এর পরই ছেলে ওয়ালিদ খান সান ও  মুনের ভাগ্যে নেমে আসে অন্ধকার। স্বামীর মৃত্যুর মাত্র ২ মাস পরই স্বামীর কাছ থেকে ওয়ারিশ সূত্রে পাপ্ত ওই ভবনের দ্বো-আনী সম্পত্তি ছেলেদের বঞ্চিত করে ৬ মেয়ের নামে লিখে দেন মা মকিদুন্নেছা বেগম। এর কয়েক মাস পরই মা মকিদুন্নেছা বাদী হয়ে  মেয়েদের বিবাদী করে বরিশাল আদালতে একটি বন্টন মামলা করেন।
ছেলে ওয়ালিদ খান সান বলেন-আমার অপর ভাই একজন অসুস্থ রোগী। তিনি একটি রিহ্যাবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমাকে একা পেয়ে বোন ও বোন জামাতা চেপে ধরেছে। মল্লিক রোডের  ৪ তলা বিশিষ্ট ওই ভবনে মোট ৩৯ টি কক্ষ রয়েছে। আমার ৬ বোন ৪ তলায় ৯ টি রুম নিয়ে থাকে আর আমি ৩ তলায় ৪ টি রুমে বসবাস করি। বাকি কক্ষগুলো একটি কোচিং সেন্টারের কাছে ভাড়া ছিলো। যে ভাড়া পিতার অবর্তমানে মা উত্তোলন করতেন। ওই ভাড়ার কিছু টাকা ছেলে হিসাবে আমিও পেয়েছি। মা যে বন্টন মামলা করেছিলেন তাতে ২০২২ সালে আদালত রিসিভার নিয়োগ করে। এর পর মামলা পক্ষ-বিপক্ষ হয়ে হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।  এরই মধ্যে বরিশালের একটি আদালত চলতি বছরের ১২ জানুয়ারী আমাকে বসবাসের রুম খালি করে ভাড়া দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করে। যদিও ওই আদেশ উচ্চ আদালত ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন এবং বিচারককে স্ব-শরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সান বলেন-এ অবস্থায়ও আমার বোন ও বোন জামাতার ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তারা অর্থের বিনিময়ে আমাকে ন্যায্য বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত ও আমাকে বাপের ভিটা থেকে নামাতে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পৃথিবীতে এমন কোন নজির আছে কিনা জানা নেই যে বাপের ভিটা থেকে নেমে যেতে আদালত নির্দেশ প্রদান করেন।
তিনি বলেন-রুপাতলী হাউজিংয়ে বাবার নামে দুটি প্লট, সোনালী ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করা ৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, জমি বিক্রির টাকা, ফকির বাড়ি রোডে ধানসিঁড়ি ভবনে ডেভলপার পার্টনার হিসাবে বাবার দুটি ফ্লাট,চড়বাড়িয়া মৌজায় বাবার জমি সব বোনেরা নিজেদের দখলে রেখেছে। আমি কোথাও গিয়ে ন্যায় বিচার পাচ্ছি না। যেখানেই যাই সেখানেই তারা টাকা দিয়ে  সবকিছু নিজেদের করে নেয়। এখন আল্লাহ ছাড়া আমার আর কেউ নেই।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT