3:43 pm , November 20, 2025
চাঁদপুরা ইউনিয়নে জামায়াতের নির্বাচনী প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল সদর উপজেলার ৮ নং চাঁদপুরা ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী প্রস্তুতি সভা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে দলে দলে মানুষ এসে ভিড় করেন। স্থানীয় এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে সভাস্থল উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। “আমরা ভয় পাই না, পিছিয়েও যাই না” অ্যাডভোকেট হেলাল বক্তব্যে তিনি দলের অতীত সংগ্রাম ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, “এই দেশে ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথে আমরা বহুবার নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন, বহু নেতা শহীদ হয়েছেন, জুলাইয়ে প্রায় ১৪০০ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং ৩০ হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। ‘আয়না ঘর’ বানিয়ে ভয় দেখানো হয়েছিল, কিন্তু আমরা পিছিয়ে যাইনি। কারণ আমরা শুধু একটি নির্বাচন চাই না আমরা চাই আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিময়, দুর্নীতিমুক্ত একটি বাংলাদেশ।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশে মুসলমানের পাশাপাশি হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আছেন তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ইসলাম কখনো কারও জমি দখল, জুলুম বা অনাচার সমর্থন করে না। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ঘুষ এসবের কোনো স্থান আমরা রাখবো না।”
নারী অধিকার নিয়ে প্রচলিত বিভ্রান্তির প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী নারীর সম্মান, কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। নারীরা সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইসলাম তাদের মর্যাদা দেয়, আমরাও সেই মর্যাদাকে বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করবো।”
মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি নির্বাচিত হই বা না হই আমি আপনাদেরই সন্তান। আপনাদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোই আমার রাজনীতির উদ্দেশ্য। আপনারা আমার শক্তি, আমার প্রেরণা।”
সভায় বক্তব্য দেন এলাকার এক মসজিদের ইমাম। তিনি বলেন,
“জামায়াতের নেতারা যেমন মাঠে নেতৃত্ব দেন, তেমনি মানুষের শেষ যাত্রায় জানাযাও পড়ান। আমরা সৎ, আলেম, পরহেজগার নেতৃত্ব চাই যাদের জীবনধারা দেখা যায়, যাদের ইমান দেখা যায়।”
ভোটারদের শপথ দাড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করবো সভাস্থলে উপস্থিত বেশ কয়েকজন তরুণ ও পেশাজীবী নিজেদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একজন স্থানীয় কর্মজীবী বলেন, “আমাদের অনুরোধ ভ্যানচালকরা ভ্যানচালকের কাছে যান, রিকশাচালকরা রিকশাচালকের কাছে যান, কৃষকরা কৃষকের কাছে যান সবাই নিজের পেশার মানুষের কাছে গিয়ে দাড়িপাল্লার জন্য ভোট চান। হেলাল ভাই আমাদের ইউনিয়নের সন্তান বিপুল ভোটে তাঁকে বিজয়ী করতে না পারলে আমাদের মুখ দেখানোর জায়গা থাকবে না।”
সভা স্থলজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ নমিনির নিজ এলাকায় হওয়ায় শুরু থেকেই সমাবেশস্থলে ছিল উচ্ছ্বাস, ঢোল-তবলা ছাড়াই ছিল উৎসবের আমেজ। যুবক, প্রবীণ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা রূপ নেয় নির্বাচনী মিলনমেলায়। মানুষজনের কণ্ঠে শোনা যায় পরিবর্তনের প্রত্যাশা ও নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা।
