4:31 pm , August 13, 2025
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, গণপরিবহন ধর্মঘট ॥ আজ থেকে অবরোধ আমতলা মোড়ে
পরিবর্তন ডেস্ক ॥ স্বাস্থ্যখাতের সংস্কারে তিন দফা দাবিতে বরিশালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়েছে। শ্রমিকরা শিক্ষার্থীদের হটিয়ে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। পাল্টা ধর্মঘট ডেকে বরিশাল থেকে সকল পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকরা। গতকাল বুধবার বিকেলে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা। বৃহস্পতিবার থেকে তারা সেখানে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। ফলে এ সময় বরিশালসহ বিভাগের সঙ্গে ৬ জেলার দূরপাল্লা রুটের যানবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ৬ জেলার পরিবহন রাজধানীসহ সারাদেশে যেতে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা অতিক্রম করতে হয়। প্রতিদিনের মতো বুধবার বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিানাল সংলগ্ন গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একই সময় আন্দোলনের সমাধান খুঁজতে শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের (শেবাচিম) সভাকক্ষে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সভা করছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর। বিকেল ৩টা পর্যন্ত তিনি সেখানে সভা করলেও কোনো সমাধান ছাড়াই সভা শেষ হয়। আন্দোলন নিবৃত্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হতে নির্দেশনা দেন মহাপরিচালক। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে নথুল্লাবাদে পরিবহন শ্রমিক ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা হয়। সৌদিয়া পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপক ইমাম হোসেন সিকদার জানান, অভ্যন্তরীণ রুটের একটি বাস যাত্রীসহ ওই এলাকা থেকে যাওয়ার চেষ্টা করে। আন্দোলনকারীরা গিয়ে ওই পরিবহনের চালক মাহিমকে বেদম মারধর করে। তখন পরিবহন শ্রমিকরা জোটবদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। হামলায় টিকতে না পেরে শিক্ষার্থীরা ওই এলাকা ত্যাগ করে। জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহাদৎ হোসেন লিটন বলেন, ‘আন্দোলনকারী ছাত্ররা আগেও শ্রমিকদের গালি দিয়ে ঝামেলার সৃষ্টি করেছিল। পরে দুঃখ্য প্রকাশ করে সমঝোতা করে। বুধবার চালক মাহিমকে বেদম মেরেছে। এ প্রতিবাদে শ্রমিকরা গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। পুনরায় গাড়ি চলাচল শুরু করা নিয়ে আলোচনা চলছে।’ আন্দোলনকারীদের সংগঠক মহিউদ্দিন রণি বলেন, ‘আন্দোলন সাবোটাজ করার জন্য কেউ হয়তো পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলা করে ঘটনার সূত্রপাত করেছে। বৃহস্পতিবার তারা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা বাদ দিয়ে নগরের আমতলা মোড়ে মহাসড়ক অবরোধ করবেন।’ সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, শ্রমিকরা গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। দুইপাশে আটকেপড়া গাড়ির কয়েক কিলোমিটার লম্বা লাইন চোখে পড়ে। বিভাগের অন্য জেলার যাত্রীরা অসহায় হয়ে সড়কের পাশে বসে থাকেন। মোসলেম নামের এক যাত্রী ঢাকা থেকে বরগুনার বেতাগীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বেলা ২টায় নথুল্লাবাদ পৌঁছে তাদের বাস আটকা পড়েছে।’বিমানবন্দর থানার ওসি জাকির হোসেন সিকদার বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে মারামারির পর শিক্ষার্থীরা বাস টার্মিনাল এলাকা ছেড়ে গেছে। এরপর থেকে শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।’উল্লেখ্য, জাতীয়ভাবে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে ২৭ জুলাই থেকে বরিশালে আন্দোলন শুরু হয়েছে। তাদের দাবিগুলো হলো- সারাদেশের সরকারি হাসপাতালে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিকদের চিকিৎসা নিশ্চিতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ দেশের সব হাসপাতালে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, দলীয় লেজুড়বৃত্তিক চিকিৎসকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ, ডিজিটাল অটোমেশন ও স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। এসব সমস্যা দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের জন্য স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনকে জনগণের ভোগান্তির বিষয় শুনে তদন্ত সাপেক্ষে পুনরায় সুপারিশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
