3:55 pm , April 29, 2025
স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ
বিশেষ প্রতিবেদক ॥ বরিশালে চালের বাজারের লাগাম টানতে রমজান পরবর্তি এপ্রিলজুড়ে খাদ্য অধিদপ্তর থেকে প্রায় ৫ লাখ পরিবারের মাঝে ১৫ টাকা কেজি দরে ১০ হাজার টন চাল বিতরণের পাশাপাশি খোলা বাজারে ‘ওএমএস কর্মসূচীর আওতায় ৩০ টাকা কেজি দরে আরো প্রায় সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ও ২৪ টাকা দরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন আটা বিক্রী অব্যাহত রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বানিজ্য সংস্থা-টিসিবি রমজানে ফ্যামিলি কার্ডধারীর পাশাপাশি বরিশাল মহানগরী সহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সদরে ভোজ্যতেল, চিনি, মুসুর ডাল ও সীমিত কয়েকদিন খেজুর বিক্রী করলেও ঈদের পর থেকে সব কার্যক্রমই বন্ধ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় এ বানিজ্য প্রতিষ্ঠানটি পুরো এপ্রিল মাসেই ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মাঝে কোন খাদ্যপণ্য বিক্রী করেনি। প্রতিষ্ঠনটির দায়িত্বশীল সূত্রের মতে ৪ মে থেকে ১০ কেজি করে চাল ছাড়াও সীমিত পরিসরে চিনি, মুসুর ডাল ও ভোজ্য তেল বিক্রী কার্যক্রম শুরুর সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। মে মাসে টিসিবির কার্ডধারীরা ৫ কিজির পরিবর্তে ৩০ টাকা কেজি দরে ১০ কেজি করে চাল পাবেন বলে জানা গেছে।
পাশাপাশি ‘খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী’র আওতায় এপ্রিল মাসেও ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৪২৮ পরিবারের মাঝে ১৫ টাকা কেজি দরে প্রায় ১০ হাজার টন চাল বিতরণ করবে খাদ্য অধিদপ্তর।
প্রতিবছরই মার্চ ও এপ্রিল ছাড়াও সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আরো ৩ মাস ১৫ টাকা কেজি দলে এ চাল বিতরণ করছে খাদ্য অধিদপ্তর। ওএমএস কর্মসূচীর আওতায় বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ছাড়াও জেলা সদরে ট্রাকযোগে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে আরো অনেক ডিলারের দোকান এর মাধ্যমে চাল ও আটা বিক্রী অব্যাহত রেখেছে খাদ্য অধিদপ্তর।
এছাড়া প্রায় সাড়ে ৩লাখ টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী ৩০ টাকা কেজি দরে প্রতিমাসেই চাল পাচ্ছিলেন ইতোপূর্বে। তবে রমজানের পরে পুরো এপ্রিলে টিসিবি কার্ডধারীদের মাঝে কোন খাদ্যপণ্য বিক্রী করেনি। রমজান মাসে চাল বিতরণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বানিজ্য সংস্থাটি ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মাঝে চিনি, ভোজ্যতেল, ছোলাবুট, মুসুরডাল ও খেজুর বিক্রী করছিলো। পাশাপাশি বরিশাল মহানগরী সহ জেলা সদরে ট্রাকযোগে এসব পণ্য বিক্রী করা হয়।
এবার রমজানে ট্রাকযোগে টিসিবির পণ্য বিক্রীর পাশাপাশি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী এবং ওএমএস-এর আওতায় চাল ও আটা বিক্রী করায় বরিশালবাসী যথেষ্ট স্বস্তিতে ছিলেন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সরবরাহ ও সরকারি নজরদারীর কারণে বিগত প্রায় এক যুগেরও বেশী সময় পরে এবার রমজানের প্রধান অনুসঙ্গ ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলাবুট ও খেজুর সহ বেশীরভাগ পণ্যেরই দাম বাড়েনি। ফলে বিগত কয়েকটি বছরের তুলনায় এবারের রমজানে বরিশালবাসী যথেষ্ট স্বস্তিতে রোজা ও ঈদ পালন করেছেন।
সদ্য সমাপ্ত রবি মৌসুমে সাম্প্রতিককালের সর্বোচ্চ উৎপাদন ও সরবরাহের ফলে বরিশালে শীতকালীন সবজির দাম গত দেড় দশকের মধ্যে সর্বনি¤œ পর্যায়ে ছিল। ফলে সাধারন মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হয়েছে। বিদায়ী রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ৮০ হাজার হেক্টরে ১৭ লাখ টন সবজি উৎপাদন হয়েছে বলে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
