বরিশাল বিভাগে ঈদের ছুটির ৯ দিনে মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রে জন্মগ্রহণ করেছে ১১৩ শিশু বরিশাল বিভাগে ঈদের ছুটির ৯ দিনে মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রে জন্মগ্রহণ করেছে ১১৩ শিশু - ajkerparibartan.com
বরিশাল বিভাগে ঈদের ছুটির ৯ দিনে মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রে জন্মগ্রহণ করেছে ১১৩ শিশু

3:26 pm , April 6, 2025

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ চিকিৎসক ও স্টাফ সংকটের মাঝেও ঈদের সরকারি ছুটির নয়দিনে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ৩০৯টি মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে জন্মগ্রহণ করেছে ১১৩ শিশু। একই সময়ে ৭৭৯ জন গর্ভবতী নারী নিয়েছেন চিকিৎসা সেবা। এর বাইরে ৩ হাজার ৩০৫ জন সাধারণ মা ও শিশু চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। রোববার দুপুরে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ঈদের বন্ধের নয়দিনে ঈদের দিন দুপুরে বরিশাল মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে নরমাল ডেলিভারি হয়েছে একটি। সদর উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের খোন্তাখালী গ্রামের সিরাজ হাওলাদারের স্ত্রী আনিকা আক্তার চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

সূত্রমতে, ঈদের ছুটিতে জেলা শহরের মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রগুলোতে ১৫৪ গর্ভবতী নারী, ১ হাজার ২৩১ জন সাধারণ মা ও শিশু চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। এছাড়া জেলার বাইরে এই নয়দিনে কল্যান কেন্দ্রের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ২৬টি ডেলিভারি হয়েছে। এছাড়া পটুয়াখালী জেলায় ২০২ জন গর্ভবতী নারী, ৫৮৮জন সাধারণ মা ও শিশু চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। ওই জেলায় ঈদের দিনসহ ছুটির নয়দিনে ১৪টি ডেলিভারি হয়েছে। এরমধ্যে মাত্র তিনটি সিজার অপারেশন হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মো.শহীদুল ইসলাম জানান, ঈদের ছুটি থাকা সত্বেও নয়দিন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা হয়েছিল। প্রতিটি প্রসব বিনামূল্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

ভোলা জেলায় ১৩৭ জন গর্ভবতী নারী, ১১৭ জন সাধারণ মা ও শিশু চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। ওই জেলায় ঈদের দিনসহ ছুটির নয়দিনে ৪৯টি ডেলিভারি হয়েছে। বরগুনা জেলায় ৮৪ জন গর্ভবতী নারী, ৩শ জন সাধারণ মা ও শিশু চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। ওই জেলায় ঈদের দিনসহ ছুটির নয়দিনে সাতটি ডেলিভারি হয়েছে। ঝালকাঠি জেলায় ১২৬ জন গর্ভবতী নারী, ৬৪৩ জন সাধারণ মা ও শিশু চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। ওই জেলায় ঈদের দিনসহ ছুটির নয়দিনে ১২টি ডেলিভারি হয়েছে। পিরোজপুরে ৭৬ জন গর্ভবতী নারী, ৪১৮ জন সাধারণ মা ও শিশু চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। ঈদের দিনসহ ছুটির নয়দিনে ওই জেলায় পাঁচটি ডেলিভারি হয়েছে।

বরিশাল পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ৪১টি পদের অনুকূলে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২১ জন। মেডিক্যাল অফিসারের ৮১টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছে ২৭ জন। সহকারি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ৪০টি পদের বিরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন। সহকারি পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ৩৮ পদের বিপরীতে একজনও কর্মরত নেই। আর মেডিক্যাল অফিসারের ২৭টি পদই শূন্য রয়েছে। সরবরাহ কর্মকর্তার তিনটি পদের বিরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। সহকারি সার্জন পদের তিনটি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। অফিস তত্ত্বাবধায়কের পাঁচজনই কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া সার্ট মুদ্রাক্ষরিকের ১২টি পদের বিরীতে কর্মরত রয়েছেন ৭জন।

এসব সংকটের মাঝেও চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধির কথা বলছেন এখানকার কর্মকর্তারা। এরমধ্যে এবারের ঈদ উল ফিতরের ছুটিতে বরিশাল বিভাগের ৩০৯টি মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে সন্তোষজনক চিকিৎসা সেবা অব্যাহত ছিল।

বরিশাল মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার রুনা লায়লা বলেন, বর্তমানে গর্ভবতী নারীদের মৃত্যু হার পূর্বের চেয়ে অনেকাংশে কমে গেছে। এর কারন হচ্ছে ফ্যামিলি প্লানিং সেবা। হাসপাতালমুখী হওয়া। আগে অন্ত:স্বত্তা নারীদের হাসপাতালে না এনে বাড়িতে বসে ডেলিভারী করানো হতো। আর সেখানে এখন গর্ভবতী হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা এবং হাসপাতালে নিয়ে আসার কারণেই মাতৃমৃত্যুর হার কমে এসেছে। তিনি আরও বলেন, এবারই আমরা ঈদের ছুটিতে বরিশালে সর্বোচ্চ মা ও শিশুদের সেবা দিয়েছি।

পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বরিশাল বিভাগীয় কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, বরিশালে আমাদের অধীনে থাকা মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রগুলোতে ঈদের ছুটির মধ্যেও সব ধরনের সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে। আমাদের কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক ও স্টাফ সংকটের মধ্যেও কোথাও সেবা ব্যাহত হয়নি। ভবিষ্যতেও সেবার এধারা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT