3:16 pm , January 7, 2025
সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ১২টি কোপ দেয় শিক্ষক মামুনকে
হেলাল উদ্দিন ॥ ছাত্রদের আন্দোলনে তখন উত্তাল ছিলো গোটা দেশ। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা দেশব্যাপী হামলা চালাচ্ছিলো বিএনপি এবং এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারন ছাত্রদের উপর। এ থেকে বাদ যায়নি বরিশালও। ১৯ জুলাই দুপুরে নগরীর চৌমাথা মারকাজ মসজিদে নামাজ শেষে এক আত্মীয়ের বাড়ি দাওয়াত খেতে যাচ্ছিলেন বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের পাওয়ার বিভাগের শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুন। একই সময় একই স্থানে মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক ও সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার সহ বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায় তৎকালীন সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারীরা।
শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুন ওই হামলা-সংঘর্ষ পাশ কাটিয়ে নিজের গন্তব্যে যাচ্ছিলেন অনেকটা নির্ভয়ে। কারণ তার বিশ^াস ছিলো তিনি কোন দলের রাজনীতির সাথে জড়িত না। তার উপর কেউ হামলা করবে না। কিন্তু তার সেই ধারণা মুহূর্তেই ভন্ডুল হয়। শিক্ষক মামুন যখন ১৪ নং ওয়ার্ডের শহীদ মেহেদী সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন আওয়ামী লীগ এর সন্ত্রাসীরা হঠাৎ রামদা, বগি দা নিয়ে তার উপর হামলা করে। এসময় তিনি নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিলেও সন্ত্রাসীরা কোন কথাই শোনেনি। তারা মামুনকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। শিক্ষক মামুন বলেন, যারা আমার উপর এ্যাটাক করে তাদের কাউকে আমি চিনতে পারিনি। স্বাভাবিকভাবে তারাও আমাকে চেনার কথা না। তারপরও কেন আমার উপর হামলা করলো তা আজও আমার অজানা। আমি পলিটেকনিকের শিক্ষক পরিষদের সদস্য। ব্যক্তিগতভাবে আমি বিএনপির একজন সমর্থক হলেও কর্মস্থল ও কর্মস্থলের বাইরে আমার কোন রাজনৈতিক পদ পদবী নেই। সন্ত্রাসীরা আমার শরীরে ১২টি কোপ দেয়। এছাড়া একাধিক লাথি ঘুষি মারে। আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। হাসপাতালে ভর্তির পর আমার জ্ঞান ফেরে। পরে বিভিন্ন ছবি দেখে কয়েকজনকে শনাক্ত করি। হাসপাতালে ৮দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আমি তৎকালীন পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। আমাকে বলা হয় এ বিষয়ে পরবর্তীতে যোগাযোগ করে থানা পুলিশ আইনী পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু থানা পুলিশ কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করেনি। তাই আমিও আর মামলা করিনি। এখন আমি এর বিচার চাই। প্রয়োজন হলে মামলা করবো। তিনি আরো বলেন, সেদিন আমার মৃত্যু হলে আজ আমার কবর পুরাতন হয়ে যেত। সন্ত্রাসীরা আমাকে মেরে ফেলার জন্যই এ হামলা করেছিলো। আমার ধারনা যেহেতু আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত না। দেশের ওই পরিস্থিতিতে হয়ত আওয়ামী লীগের লাশের প্রয়োজন ছিলো। সে যেই হোক। তাদের লাশ দরকার ছিলো আন্দোলন থামাতে। হয়ত সে কারনেই আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলো তারা। এখন যখনই সেদিনের কথা মনে পড়ে ভয়ে আঁতকে উঠি। আমার পরিবারের সদস্যদের সেই আতঙ্ক এখনো তাড়িয়ে বেড়ায়।
হামলার বিভিন্ন ছবি ও ফুটেজ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে তার উপর হামলার নেতৃত্ব দেন মনু ওরফে ব্যাঙ মনু। তার বাসা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সোনালী আইচক্রিম মোড়। তার বাবার নাম মৃত ছোমেদ আলী খান। মনুর সাথে অন্যতম হামলাকারী হিসাবে ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী। তিনি শেবাচিম হাসপাতালের সামনে অবস্থিত সাউথ মেডিনোভার মালিক। হামলায় আরো ছিলেন সাউথ মেডিনোভার অপর অংশিদার ১০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক লিটন। দেশীয় অস্ত্র হাতে আরো ছিলেন সগরদী ব্রাঞ্চ রোডের বাসিন্দা বিপু সরকার, নিউ সার্কুলার রোডের মঈন, কোলচর হিজলার বাসিন্দা সিরাজ মোল্লা, মাঈন উদ্দিন খান, খোকন সরদার প্রমুখ।
এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, মনু ওরফে ব্যাঙ মনু একাধিক মামলার আসামী। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ যথাযথ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
