শীতের আগাম বার্তা নিয়ে বরিশাল অঞ্চলে তাপমাত্রার পারদ নামছে শীতের আগাম বার্তা নিয়ে বরিশাল অঞ্চলে তাপমাত্রার পারদ নামছে - ajkerparibartan.com
শীতের আগাম বার্তা নিয়ে বরিশাল অঞ্চলে তাপমাত্রার পারদ নামছে

3:34 pm , October 27, 2023

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ বরিশাল উপকূলের পরিবর্তে পূর্ব উপকূল অতিক্রম করে দুর্বল হবার পরেই দক্ষিণাঞ্চলে শীতের আগাম বার্তা নিয়ে তাপমাত্রার পারদ নামতে শুরু করেছে। গত ১৫ অক্টোবর বর্ষা মাথায় করে বরিশাল অঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বিদায় হয়েছে। কিন্তু এর পর পরই বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ বরিশাল উপকূলে এগিয়ে এলেও তা প্রায় ৩শ কিলোমিটার দূরে থাকতেই গতিপথ পরিবর্তন করে দুর্বল হয়ে সোজা পূর্ব উপকূলে গিয়ে আছড়ে পড়ে। আবহাওয়া পর্যবেক্ষকদের মতে, ঘূর্ণিঝড়টি উপর্কূল অতিক্রম করার পরেই ‘সাইবেরিয়ান বায়ু’ আমাদের উপকূলভাগ সহ দক্ষিনাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। ফলে শেষরাত থেকে দিনের প্রথমভাগ পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিমের হিমেল হাওয়ায় ভর করে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ক্রমশ নামছে।গত ২৪ অক্টোবর হামুন আঘাত হানার আগের দুুদিন বরিশালে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা যেখানে ২৩ থেকে ২৪.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছিল সেখানে শুক্রবার সকালে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পারদও প্রায় ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে ৩৩ ডিগ্রীতে নেমে গেছে। অথচ আবহাওয়া বিভাগের হিসেব অনুযায়ী বরিশালে অক্টোবর মাসে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পারদ সর্বোচ্চ ৩১.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস ও সর্বনি¤œ ২৩.৬ ডিগ্রী থাকার কথা। এমনকি আবহাওয়া বিভাগের হিসেবে আসন্ন নভেম্বর মাসে বরিশালে সর্বোচ্চ ও সর্বনি¤œ তাপমাত্রা থাকার কথা যথাক্রমে ২৯.৬ ও ১৮.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস।চলতি বছর শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুম জুড়েই বরিশালে আবহাওয়ার নানা বৈপরিত্য লক্ষ্য করা গেছে। বিগত শীত মৌসুমে জানুয়ারী মাসে বরিশালে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ১১.৯ ডিগ্রী সেলসিয়াসের স্থলে ৭ ডিগ্রীরও নিচে নেমে গিয়েছিল। আবার বিগত গ্রীস্ম মৌসুমেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার এপ্রিলে, ৩৩.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসের স্থলে ৩৯.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসে উঠে যায়। এমনকি সাগর পাড়ের খেপুপাড়াতে তাপমাত্রার পারদ ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছুঁয়ে যায়।একইভাবে মূল বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির ব্যাপক ঘাটতির পরে শরৎ ও হেমন্তে বৃষ্টিপাতের আধিক্যে জনজীবন সহ ফসল আবাদ ও উৎপাদনেও নানা বিরুপ প্রভাব পড়ছে। গত বছর ২০ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা নিয়ে উপকূলে আঘাত হানে। ফলে ব্যাপক বৃষ্টি ঝড়িয়ে বরিশাল কৃষি অঞ্চলের মাঠে থাকা প্রায় সাড়ে ৮ লাখ হেক্টর জমির আমন ধানের অন্তত ২৫ ভাগ ক্ষতির কবলে পড়ে। এবারও একই পরিস্থিতি হলেও গত ২৪ অক্টোবরের ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণ উপকূলের পরিবর্তে দুর্বল হয়ে গতিপথ পরিবর্তন করায় মাঠে থাকা ৮.৬০ লাখ হেক্টর আমন ধান বড় ধরনের বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। একইসাথে আবাদরত প্রায় ৬৫ হাজার হেক্টরের শীতকালীন সবজি বাগানও রক্ষা পেল। এবার বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ২৩ লাখ টন আমন ও ১৫.২০ লাখ টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্য স্থির করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
গত বছরের ২০ অক্টোবর ‘সিত্রাং’এর হানার পর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলে কোন বৃষ্টি হয়নি। এমনকি চৈত্রÑবৈশাখের দাবদাহের মধ্যে এপ্রিলে স্বাভাবিক ১৩২.৩ মিলির স্থলে সামান্য কিছু বেশী বৃষ্টি হলেও মে মাসে স্বাভাবিকের ৬% ও জুলাই মাসেও বৃষ্টিপাতের পরিমান ছিল স্বাভাবিকের ৫৮% কম। কিন্তু বর্ষা মৌসুম বিদায়ের শেষ প্রান্তে ও শরতের শুরুতে আগস্ট মাসে বরিশালে স্বাভাবিক ৪৩৩ মিলিমিটারের স্থলে ৮০% বেশী, ৭৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এমনকি বর্ষা বিদায়ের পরে শরতের মূল সময়ে সেপ্টেম্বর মাসেও বরিশাল অঞ্চলে স্বাভাবিক ৩২৭ মিলিমিটারের স্থলে ১২% বেশী, ৩৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
গত বছরও বরিশাল অঞ্চলে বর্ষা থেকে শুরু করে শরত-হেমন্তেও বৃষ্টিপাতের পরিমান ছিল স্বভাবিকের অনেক কম। পাশাপাশি গত কয়েকটি বছরেই শীতকালে স্বাভাবিকের কম ও গ্রীষ্মকালে অনেক বেশী তাপ প্রবাহে জনজীবনে যেমন বিপর্যয় নিয়ে আসছে তেমনি কৃষি ব্যবস্থায়ও নানামুখি বিরুপ প্রভাব পড়ছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT