3:43 pm , June 12, 2022
মো. আফজাল হোসেন, ভোলা ॥ কাগজ পত্রে আছে বাস্তবে নেই দৌলতখান উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়ন। অথচ সেই ইউনিয়নেরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী ১৫ জুন। পৌরসভার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়টিতেই ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডেরই ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে মাত্র বিদ্যালয় কেন্দ্রে। তবে নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটানিং অফিসার এবং প্রশাসন বলছে কাগজপত্র ইউনিয়ন আছে এবং নির্বাচন কমিশন তফসিল অনুযাযী নির্বাচন হচ্ছে । অপরদিকে প্রার্থীরা শেষ মুহুর্তে ছুটছে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বসবাসরত ভোটারদের কাছে।
দ্বীপ জেলা ভোলার চারপাশটাই পানি। নদী ভাঙ্গন কবলিত এই জেলাটি মেঘনা ও তেতুলিয়া নদী বেস্টিত। যে কারনে বহু আগেই মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে দৌলতখান উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নটি। তাই বাস্তবে না থাকলেও সরকারী কাগজপত্রে এখনো রয়েছে গেছে এই ইউনিয়নটি। গত নির্বাচনে চেয়ারম্যানসহ সকল প্রার্থীরা ছিলেন জনপ্রতিনিধি হিসেবে। প্রশ্ন হচ্ছে এতদিন সরকার যে বরাদ্ধ দিয়েছে তা ব্যয় হয়েছে কোথায় আর কিভাবে তার খবর রাখেনি কেউ। বিলীন হয়ে যাওয়া ইউনিয়নটিতে বসবাস হিসেবে কোন অস্তিত্ব নেই। অথচ ৯টি ওয়ার্ড দেখিয়েই পুনরায় তফসিল ঘোষনার মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইউনিয়নটিতে ভোটার দেখানো হয়েছে ১ হাজার ৭৪৬ জন পুরুষ আর ১ হাজার ৬৮৭জন মহিলা ভোটারসহ মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৪৩৩ জন। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল এই ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। ইউনিয়ন এর অস্তিত্ব না থাকায় দৌলতখান পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের দৌলতখান সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেই ইউনিয়নটির ৯টি ওয়ার্ডের ভোট গ্রহন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহন করা হবে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত তালিকায় আরো দেখা যায় যে, এই বিদ্যালয় কেন্দ্রটিকেই স্থায়ী কেন্দ্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। সেখানে অস্থায়ী কেন্দ্র বলতে কিছু নেই।
এদিকে হাজীপুর ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড পোস্টারে ছেয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, পাশ্ববর্তী ভবানীপুর, চর খলিফা ও সৈয়দপুর ইউনিয়নেও পোস্টারে ছেয়ে গেছে। প্রার্থীরা এসব ইউনিয়নে পোস্টারিং করেছে। প্রার্থীরা ছুটছেন জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। চরখলিফা ইউনিয়নের মো: শরীফ বলেন, হাজীপুর ইউনিয়নটি মেঘনা নদীর মাঝখানে। যার কোন অস্তিস্ত নেই। কোন বসতি নেই সেখানে। যে কারনে পৌরসভাসহ আশপাশের ইউনিয়ন গুলোতে প্রার্থীরা পোস্টারিং করেছে। একই কথা বলেন, সৈয়াদপুর ইউনিয়নের মো: কেরামত আলী মিয়া। তিনি বলেন, হাজীপুর ইউনিয়নে যারা বসবাস করতো তারা এখন দৌলতখান, ভোলা সদর, তজুমদ্দিন, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছে। এছাড়াও রাজধানী ঢাকা আর বন্দরনগরী চট্রগ্রামেও রয়েছে। তার পরেও আনারস মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: আবি আবদুল্যাহ কিরন পাটোয়ারী অভিযোগ করে বলেন,তাকে এবং তার সমর্থকদের নৌকার সমর্থকরা বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছে। সুষ্ঠু নির্বাচন এবং কেন্দ্র পরিবর্তনের দাবী জানিয়ে লিখিত ভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। তবে তিনি বলেন,ইউনিয়নটি বিলিন হয়ে গেছে সেই কথা সরাসরি স্বিকার না করে বলেন,আসলে আমরা আমাদের সুবিধার জন্য আবেদন করে পৌরসভার মধ্যে ভোট গ্রহনের ব্যবস্থা করেছি। অপরদিকে নৌকা র্মাকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: হামিদুর রহমান বলেন,এখন আমি বোরহানউদ্দিনের হাকিমউদ্দিন আছি। এর পর তজুমদ্দিন,লালমোহন হয়ে চরফ্যাশনের বেতুয়াতে যাব ভোটারদের কাছে। সকালে বের হই রাতে ফিরি। ভোটাররা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় কস্ট বেশি হচ্ছে। সাবেক এই চেয়ারম্যান আরো বলেন,আসলে আসলে ইউনিয়নের কিছুটা অংশ থাকলেও আছে। সেটা কি ডুবো চর প্রশ্ন করলে এরিয়ে যান।
এদিকে এসব বিষয় উপজেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: আব্দুস সালাম বলেন,উর্ধতন কর্মকর্তারা এসব ঠিক করেছেন। আমাদের কাজ হলো নির্বাচন পরিচালনা করা। আমরা তাই করছি। সুস্ঠ নির্বাচনেরজন্য যা করা দরকার তা করবো।
অপরদিকে দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: তারেক হাওলাদার বলেন,২০১১ সালের আদমশুমারী বিবেচনায় নিয়ে জনসংখ্যা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন বিলুপ্ত বা নেই এর কোন অফিসিয়াল অর্ডার নেই। বিবিএস পরিশংখান পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের একটি সংস্থা। তারা ঘোষনা না দেয়া পর্যন্ত আমরা বিলুপ্ত বলতে পারি না। বিলুপ্ত হয়েছে এমন কোন পত্র নেই। তাই বিলুপ্ত বলতেপারি না। ভোটের বিষয় নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহন করতেন। জেলা,সদর ও দৌলতখান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা সরেজমিন দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা পুরোপুরী তাদের বিষয়। আমরা প্রশাসন নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবো।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক বলেন,চরে যেহেতু বর্ষার সময় কোন মানুষ থাকে না। সবাই মেইনল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে বা এলাকায় থাকে। এছাড়া চরে ২/১টি মহিষের টিলা,মাছের আড়ত আছে তাই সেখানে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনী কিংবা নির্বাচনের সাথে দ্বায়িত্ব পাপ্তরা গিয়ে থাকতে পারবে না তাই আমরা এসব দেখে কমিশনের কাছে মেইনল্যান্ডে নির্বাচন করার অনুমতি চেয়েছি এবং কমিশন অনুমতি দিয়েছে। তাই পৌরসভার একটি সরকারী বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহন করা হবে। দুটি মহিষের ঘর আর মাছের আড়ত নিয়ে একটি ইউনিয়ন কিনা জানতে চাইলে বলেন,এটা দেয়া আছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা করেছে,তার প্রতিনিধি হিসেবে আমরা নির্বাচন করবো। তারা বন্ধ করে দিলে করবো না বলেমন্তব্য করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।
