4:08 pm , January 29, 2026
ভান্ডারিয়া প্রতিবেদক ॥
ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং এর অপরাধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে জেলা দুর্ণীতি দমন কমিশন। বৃহস্পতিবার পিরোজপুর সমন্বিত জেলা দুর্ণীতি দমন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা দুদকের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম।
মামলার এজাহারে জানাযায়, আসামী ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম তার মালিকানাধীন ইফতি ইটিসিএল, ইফতি এন্টারপ্রাইজ এবং সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এর নামে জমি, বাড়ি, ফ্লাট ও দোকান ক্রয় বাবদ ৩৬ কোটি ৭৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪৭ টাকা স্থাবর এবং বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয়, মুলধন ও কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগ ও ৯টি গাড়িক্রয় বাবদ ৫০ কোটি ৬১ লাখ ৬৩৬ টাকা মুল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৮৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪৯ হাজার ২৮৩ টাকা এবং পারিবারিক ব্যায় বাবদ ২৯ কোটি ৪৯ লাখ ৪৩ হাজার ১৭৬ টাকা মোট ১১৬ কোটি ৮৩ লক্ষ ৯২ হাজার ৪৫৯ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব পায় দুদক। পক্ষান্তরে তার গ্রহনযোগ্য আয়ের উৎস্য ১৭ কোটি ৭১ লাখ ০৫ হাজার ৪৪৯ টাকা। তার অর্জিত ও জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৯৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার ০১০ টাকা মুল্যের সম্পদ আড়াল করে রাখায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এ ছাড়াও মিরাজুল ইসলাম ২৬৭৯ কোটি ৩৭ লাখ ১১ হাজার ৪০৪ টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাতপুর্বক ৯টি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় জমাপূর্বক অবৈধভাবে আয় করেছেন, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অপরদিকে মিরাজুল ইসলামের স্ত্রী আসামী শামীমা আক্তার তার মালিকানাধীন মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে অর্জিত ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার ২৫১ টাকা মুল্যের সম্পদ ভোগদখলে রেখে এবং এলজিইডির নিযুক্ত ঠিকাদার হিসাবে প্রকল্পের কাজ না করে সরকারি অর্থ আত্মসাতপুর্বক বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে স্থানান্তর ও হস্তান্তর করেছেন। যা দুর্ণীতি দমন কমিশনের মানিলন্ডারিং আইনের ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ ছাড়াও স্ত্রী শামীমা আক্তার তার শিমু এন্টারপ্রাইজের নামে ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাব থেকে ১২২ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭০৮ টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর করে মানিলন্ডারিং আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তাদের বিরুদ্ধে দুদক এই মামলা দায়ের করে।
উল্লেখ্য এই সকল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে এলজিইডি দপ্তর হতে বিভিন্ন কাজের টেন্ডারে অংশগ্রহন করে কার্যাদেশ গ্রহনপুর্বক কোন কাজ না করেই প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অপরাধে জেলা দুর্ণীতি দমন কমিশনের উপ পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ইতিমধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে ৮ টি মামলা দায়ের করেছে। এই নিয়ে মোট ১০টি মামলা হলো।
