4:12 pm , May 8, 2026
বিশেষ প্রতিবেদক ॥ বরিশালে প্রতিষেধক টিকাদান কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌছার মধ্যে হামের প্রকোপ এখন কিছুটা স্থিতিশীল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে বলে দাবী করা হলেও ইতোমধ্যে হাম সন্দেহে ২৬ শিশুর মৃত্যুর পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শিশু শুধু সরকারি হাসপাতালে এসেছে। এমনকি ৩ শিশু নিশ্চিত হামে মৃত্যুবরণ করেছে বলেও স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। সন্দেহভাজন সাড়ে ৪ হাজার রোগীর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার শিশুকে সরকারি হাসপাতাল সমূহে ভর্তি করা হয়েছে। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে সাড়ে ৩ হাজার। পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল বলা হলেও উন্নতির লক্ষণ খুব সুস্পষ্ট নয়। এপ্রিল মাসেই বরিশালের ৪২ উপজেলায় হামের লক্ষণ নিয়ে যে ২,৮১৬টি সরকারি হাসপাতালে আসে তারমধ্যে ৫১ জনের শরীরে হাম সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এসময়ে যে ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারমধ্যে ৩ শিশু নিশ্চিত হামে মারা গেছে বলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
অপরদিকে চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহেও বরিশালের হাসপাতাল সমূহে হামের উপসর্গ নিয়ে ১,১৬২ শিশু আসলেও তারমধ্যে ৯ শিশু হাম আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এমনকি গতমাসে হাম সন্দেহে ১৫টি শিশুর মৃত্যুর পরে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই আরো ৬শিশু মারা গেছে। তবে এসব শিশুর শরীরে হাম সম্পর্কে নিশ্চিত কোন ধারনা এখনো পাওয়া যায়নি।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, শুক্রবার দুপুরের পূর্ববর্তি ২৪ ঘন্টায় বরিশালের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ১০৩ শিশু এসেছে। তারমধ্যে ৯৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এনিয়ে বরিশালের সরকারি হাসপাতাল সমূহে হাম সন্দেহে আগত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৪,৬৩৬ জনে। আর এপর্যন্ত ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৩,৯৫৪। আর ৩,৫০২ জন সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে।
এদিকে প্রথম পর্যায়ে বরিশাল বিভাগের ৪টি উপজেলা এবং পরে বরিশাল মহানগরী ছাড়াও গত ২০ এপ্রিল থেকে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে হামের টিকা প্রদানে যে কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে, ইতোমধ্যে তার প্রায় ৯৬ ভাগ অর্জিত হয়েছে বলে জানা গেছে। ১০ মে পর্যন্ত এ টিকাদান কর্মসূচী চলবে।
শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে শুক্রবারও হামের উপসর্গ নিয়ে দেড় শতাধিক শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত এ সরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানটিতে ইতোমধ্যে হাম সন্দেহে ১,৭২৬ শিশুকে ভর্তি করা হলেও ১,৫৮৬ জনকে ঘরে ফেরত পাঠান হয়েছে। এ হাসপাতালে হাম সন্দেহে ১৬ শিশু মারা গেছে। তারমধ্যে কোন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। দক্ষিণাঞ্চলে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম নিয়ে যে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে তারা সবাই বরগুনা জেলার বাসিন্দা।
