4:35 pm , May 7, 2026
বিশেষ প্রতিবেদক ॥
প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ‘বরিশাল মহানগরীর অক্সিজেন কারখানা’ বেলসপার্ক। প্রায় একদশক পরে নগরীর শ্রান্তি বিনোদনের অন্যতম আর্কষণীয় এ ময়দান থেকে সব অবৈধ দোকান সহ দখলদারদের উচ্ছেদের পরে নগর প্রশাসন এর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে তৎপর হয়েছেন। যা নগরবাসীর মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর পরই নগরবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে বেলসপার্ক থেকে শতাধিক অবৈধ দোকানপাট সহ সব স্থাপনা অপসারণ করেছেন নগর প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিন। ফলে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন প্রতিদিন নারী-পুরুষ ও শিশু এ ময়দানের ওয়াকওয়েতে হাটতে আসতে শুরু করেছেন । প্রাত ভ্রমনের মত সান্ধ্যকালীন ভ্রমনকারীরাও আবার এ পার্কে ফিরতে শুরু করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে রাত ১১টা পর্যন্ত অনেক পেশাজীবী এ ময়দানে হাটতে আসতে আসছেন।
নগর প্রশাসন ইতোমধ্যে বিশাল এ পার্কটির নান্দনিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে বেলপার্কের ওয়াকওয়ের পাশের শোভা বর্ধনকারী গাছগুলোর পরিচর্জা সহ তার পত্র পল্লবের বিন্যাসও শুরু করেছেন। গত দুদিন ধরে পার্কটির অভ্যন্তরের সব বৃক্ষরাজির নিবিড় পরিচর্জা করছেন নগর ভবনের লোকজন।
তবে পার্কটির চার ধার থেকে অবৈধ দোকন সহ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হলেও এখনো প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এর অভ্যন্তরভাগে ফেরিওয়ালারা নানা পসরা সাজিয়ে বসছে। যা এখানে বেড়াতে আসা নারী-পুরুষ ও শিশুদের জন্য ধীরে ধীরে বিড়ম্বনা বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্ত রেজাউল বারী বলেন-কোন অনিয়ম ও অব্যবস্থা সহ্য করা হবেনা। প্রয়োজনে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে জবাবদিহি করতে।
উল্লেখ্য, শেষ বৃটিশ যুগে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক মিঃ বেল প্রায় পৌনে ৯ একর সরকারি খাস জমির ওপর এ উদ্যানেটি গড়ে তুলেছিলেন। তখন তার নাম অনুসারেই উদ্যানটির নামকরন করা হয় ‘বেলসপার্ক’। গণপূর্ত বিভাগ এ পার্কটির মালিকানা সহ তার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব লাভ করে। যদিও বছর কয়েক আগে উদ্যানটির দুই দিকে জেলা প্রশাসন থেকে নকশাখচিত বিশাল প্রস্তর খন্ডে ভূমির মালিক ‘বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশাল এ ময়দানে ইতোপূর্বে শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়াও শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, শেখ হাসিনা, বেগম খালেদা জিয়া, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানী, ড. কামাল হোসেন, এইচএম এরশাদ সহ বিভিন্ন জাতীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রেখেছেন।
২০০৪ সালে তৎকালীন সিটি মেয়র মজিবর রহমান সারোয়ারের উদ্যোগে সরকারি প্রায় ৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে উদ্যানটির চারিধারে ওয়াকওয়ে, বসার জন্য বেঞ্চি, ছাতা সহ শৌচাগার ও বিশ্রমাগার নির্মান করা হয়। এছাড়াও পুরো উদ্যানটিজুড়ে দৃষ্টিনন্দন লাইটিং-এর ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি শোভাবর্ধনের জন্য পুরো মাঠের চারিধারে গাছও লাগান হয়েছিল। সেই থেকে উদ্যানটির পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব গ্রহন করে সিটি করপোরেশন। প্রতিদিনই এ উদ্যানে সকাল-বিকেল অসংখ্য লোক হাটতে ও শ্রান্তি বিনোদনে আসতেন।
২০১১ সালে তৎকালীন সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরণ গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে তহবিল সংগ্রহ করে উদ্যানটিতে দ্বিতীয় ওয়াকওয়ে নির্মান করেন। পাশাপাশি উদ্যানটির পূর্বপাশের নালাটি সংস্কার করে সেখানে শাপলার আবাদ ছাড়াও সংলগ্ন বাঁধ রোডে পাকা ফুটপাথ নির্মান সহ তার পাশে সোনালু গাছ লাগান হয়। যা এখনো নগরবাসীর চোখ জুড়ায়।
