4:34 pm , May 7, 2026
আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক ॥
৫দিন পর মায়ের কোলে ফিরে একের পর এক বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে বরিশালের কিশোর সৌরভ দাস শান। অর্থ উত্তোলন, নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা এবং ভিন্ন সময়ে একই এলাকায় মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠলেও সেসবের স্পষ্ট উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছে সে। পরিবারের সদস্যরাও তাকে প্রশ্ন করতে বাধা দিচ্ছে বারবার। উত্তেজিত আচরণ করছে শান এর মা মিতু রাণী এবং দাদা অসীম দাস। এদিকে প্রতিটি গণমাধ্যমে একই বক্তব্য দিয়ে শান বলছে, “দাঁড়িওয়ালা টুপি পরা এক ব্যক্তি তাকে ঠিকানা দেখতে দেয়ার পর থেকে সে আর কিছু মনে করতে পারছে না।”
তবে শানের এই বক্তব্যকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না কাউনিয়া থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজে অপহরণের কোনো আলামত মেলেনি। বরং বেশ কিছু আচরণে পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিত চন্দ্র নাথ বলেন, “শান বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, রাতে রিকশার হুক টেনে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে। অবচেতন অবস্থায় থাকা কোনো কিশোরের পক্ষে এমন আচরণ করা স্বাভাবিক নয়। এছাড়া সে ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৮ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করেছে। এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”তিনি আরও বলেন, “একই এলাকায় ভিন্ন সময়ে তার দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হওয়াও রহস্য তৈরি করেছে। তারপরও তাকে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা সন্তুষ্ট।” গত ৬ মে রাত ১০টার দিকে কক্সবাজারের ঈদগাহ থানা থেকে শানকে কাউনিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে কাউনিয়া থানার এসআই ও এই ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম তাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশালে নিয়ে আসেন। এসময় থানার ভিতর মা, ছেলে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপস্থিতিতে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। কিশোর শানকে বেশ সতেজ ও সাবলীল লক্ষ্য করা গেছে। তারপরও ছেলের সাথে কথা বলতে দিতে রাজী হয়নি মা মিতু রাণী ঘোষ।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই শানকে উদ্ধারে প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান শুরু হয়। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ট্র্যাকিং ও স্থানীয় তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে কক্সবাজার এলাকায় তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেলে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।এদিকে শানকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তবে পুরো ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।কাউনিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, শানের দেওয়া বক্তব্য, তার চলাফেরা, মোবাইল ফোন উদ্ধারের স্থান ও অর্থ উত্তোলনের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পুরো ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তাছাড়া কক্সবাজারের ঈদগাহ থানা পুলিশের সহযোগিতাও চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনজিত চন্দ্র নাথ।
