4:33 pm , May 7, 2026
বিশেষ প্রতিবেদক ॥ নগরী থেকে হানিট্র্যাপের অভিযোগে এক নারীসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী দাবি করলেও পুলিশ বলছে, তারা পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। এদিকে হানিট্র্যাপ এর সদস্যদের দাবী তারা অপরাধী হলে নারীলোভী ওই ভিকটিমও সমান অপরাধী। তাকেও গ্রেফতারের দাবী করেন এই সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, গত ৫ মে ইউনুছ আলী নামে এক ব্যক্তিকে হানিট্র্যাপে ফেলে মারধর করে নগদ ২৩ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় ভিকটিম থানায় অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
অভিযোগের ভিত্তিতে ৫ মে মঙ্গলবার রাতে নগরীর রূপাতলী এলাকার ২৫ নম্বর বুশরা মঞ্জিলে অভিযান চালিয়ে প্রথমে মামলার প্রধান আসামি সুমাইয়াকে আটক করা হয়। সুমাইয়া প্রেমের অভিনয় করে সম্পর্ক তৈরি করে। একপর্যায়ে ফোন করে হানিট্র্যাপ তৈরি করে ভিকটিমকে তার ঘরে ডাকে এবং অন্যরা এসে তার সর্বস্ব লুটে নেয়। সুমাইয়াকে আটক করার সময় তার কাছ থেকে বেশ কয়েকটি ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুমাইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার প্রধান সহযোগী ও স্বামী কারওয়ান ইসলামকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন নিজেদের স্বামী-স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। এমনকি তাদের একটি শিশু সন্তানও রয়েছে বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও এই ঘটনায় কারওয়ানের শ্যালক ও এক তরুণীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে আটক কারওয়ান এর ভাষ্য, ওই তরুণী তার আপন বোন এবং তার অনুপস্থিতিতে ভিকটিম ইউনুছ আলী তাদের বাসায় প্রবেশ করে তার স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান। পরে তিনি বাসায় এসে বিষয়টি দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে জুয়েল সানিকে মারধর করেন। কারওয়ানের দাবি, সম্মান রক্ষার্থে ইউনুছ নিজেই নগদ ২৩ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন দিয়ে আমাদের কাছে ক্ষমা চায় ও ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
সে আরো বলে, আমরা দোষী বা অপরাধী হলে, ফোনে নারী কণ্ঠ শুনেই অনৈতিক সম্পর্ক করতে আসা নারীলোভী লোকটি কি অপরাধী নয়? তাকেও গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবী করেন কারওয়ান ও সুমাইয়া।
তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি পরিকল্পিত হানিট্র্যাপের অংশ কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার বিষয়েও পৃথক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কোতোয়ালি মডেল থানা সূত্র আরো জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, মারধর ও মাদক সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা ।
