4:32 pm , May 7, 2026
বিশেষ প্রতিবেদক ॥
নগরীর মুন্সির গ্যারেজ এলাকায় কলেজছাত্রী সানজিদা কবির অনিতা হত্যা মামলার আসামি প্রেমিক মইনুল ইসলাম হিমুকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮। দুই সপ্তাহ আত্মগোপনে থাকার পর শরীয়তপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়।
কোতোয়ালি থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, র্যাব-৮ এর একটি দল প্রযুক্তির সহায়তায় ভয়েস ট্র্যাকিং করে হিমুর অবস্থান শনাক্ত করে। ঘটনার পর থেকেই সে ঘনঘন স্থান পরিবর্তন করছিল এবং কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে চলাফেরা করায় তাকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে তার কণ্ঠের একটি ভয়েস রেকর্ড অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়ে ম্যাচিং ভয়েস বিশ্লেষণের মাধ্যমে র্যাব তার অবস্থান নিশ্চিত করে এবং শরীয়তপুর থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এর আগে ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার নগরীর মুন্সির গ্যারেজ এলাকার একটি বাসা থেকে সানজিদা কবির অনিতা (২১) নামে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। নিহত অনিতা বরিশাল বিএম কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযুক্ত মইনুল ইসলাম হিমু (৩০) ঘটনার পরপরই পালিয়ে যায়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার শাহিন হাওলাদারের মেয়ে সানজিদা কবির অনিতা তাঁর মায়ের সঙ্গে নগরীর মুন্সির গ্যারেজ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলো। একই এলাকায় মায়ের সঙ্গে বসবাস করতো ঝালকাঠির মিল্টন আকনের ছেলে মইনুল ইসলাম হিমু। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে তাঁদের মধ্যে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার দিন ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে বড় বোনের বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন অনিতা। পরে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে একটি বাসার অবস্থান শনাক্ত করে সেখানে গিয়ে অনিতাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
ওই সময় নিহতের মামা মিশু সিকদার অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত হিমুর বিরুদ্ধে এর আগেও ঝালকাঠিতে এক প্রেমিকাকে হত্যার মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এ বিষয়টি জানার পর অনিতাকে সম্পর্ক থেকে সরে আসতে বলা হয়েছিল।
একইসময় হত্যাকারী হিমুর মা জাহানারা বেগম স্বীকার করেন যে, তাঁর ছেলে ও অনিতার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন সকালে অনিতা তাদের বাসায় আসে। পরে ছেলের কক্ষে অনিতার মরদেহ দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন জানান, র্যাব-৮ গ্রেফতারকৃত হিমুকে থানায় সোপর্দ করেছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
