3:39 pm , November 11, 2023
বরিশাল প্রেসক্লাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মো. শাহে আলমকে আওয়ামী লীগের তালিকাভুক্ত যুদ্ধাপরাধীর সন্তান দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন বরিশাল-২ আসনের বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলার বীরমুক্তিযোদ্ধারা। লিখিত বক্তব্যে বীরমুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মেজর এমএ জলিল, ড. জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, সুখরঞ্জন সমাদ্দার ও বেনী লাল দাস গুপ্তসহ অগনিত বীরমুক্তিযোদ্ধাদের চারণভূমি এ জনপদ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বরিশাল-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের তালিকাভুক্ত যুদ্ধাপরাধী ডাক্তার সায়েদউদ্দিন তালুকদারের ছেলে শাহে আলমকে। মুক্তিযোদ্ধারা হতবাক হয়েছিলো। তবুও মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক নৌকার সম্মানে তারা শাহে আলমের পক্ষে কাজ করেন।
বীরমুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর হোসেনের অভিযোগ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তার পরিবারের পথ অনুসরন করেছে। জনগনের কথা না ভেবে নিজেই বিত্ত-বৈভবের পাহাড় গড়েছে। কোন মুক্তিযোদ্ধাদের কোন সহযোগিতা করেনি। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা কুমুদ বিহারী গুহ ঠাকুরতার সমাধি গুড়িয়ে দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. জোতির্ময় গুহ ঠাকুরতার বাসভবন ভেঙ্গেছে। স্কুলের নামের জমি দখল করেছে। রাজাকার নিয়ে ফেইসবুকে ষ্ট্যাটাস দেওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে সংসদ সদস্য শাহে আলমের বাহিনী বানারীপাড়া বন্দর বাজারে হাতুড়ি পেটা করেছে। বানারীপাড়া উপজেলার তেতলা গ্রামের বেশকিছু হিন্দু পরিবারকে ভিটে ছাড়া করেছে। খাল দখল করে বাড়ি ও প্রাচীর নির্মান করেছে। শশ্মনের জমি দখল করে গ্যারেজ ও বৈঠকখানা নির্মান করেছে।
তাই স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকান্ড অবসানের লক্ষ্যে শাহে আলম যুদ্ধাপরাধী পরিবারের কাউকে এমপি হিসেবে চায় না মুক্তিযোদ্ধারা।
বীরমুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর হোসেন লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে আরো অভিযোগ করে বলেন, এমপি শাহে আলমের বাবা সায়েদউদ্দিন রাজাকার মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন সময়ে বানারীপাড়ায় সকল লুটপাঠ ও অগ্নিসংযোগকারী দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বানারীপাড়া বন্দরের ব্যবসায়ী পাচু সাহার বাড়ি, দোকান, সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস ও নিরঞ্জন সাহার ফার্মেসী, বনিক বাড়ীতে আশ্রিত ঝালকাঠির ব্যবসায়ীদের মালামাল, উজিরপুরের হারতাবাজার এবং হিন্দু অধ্যুষিত ৩৬ গ্রামের অগ্নিসংযোগকারী ও লুটতরাজের মূল হোতা ছিলো এমপি শাহ আলমের বাবা। চাচা আজিজ তালুকদার ও শফিজউদ্দিন তালুকদারসহ বাবা সায়েদউদ্দিন তালুকদার বানারীপাড়ার উদয়কাঠিতে পাকিস্থানী পতাকা উত্তোলন করেছিলো। স্বাধীনতার পর তার বাবা কোলাবরেট আইনে পিরোজপুরের কারাগারে ছিলো। চাচা আজিজ তালুকদার বরিশালে গ্রেপ্তার হয়। ২০০৮ সালে বানারীপাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী যে তালিকা পাঠিয়েছে সেখানে এমপি শাহে আলমের বাবা-চাচার নাম শীর্ষে ছিলো। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত যুদ্ধাপরাধী তালিকায় এমপি শাহে আলমের বাবা ও চাচা আজিজ তালুকদারের নাম রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. শাহে আলম এমপি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করবো না। মুক্তিযোদ্ধারা দিবেন। বানারীপাড়ার শান্তিপূর্ন অবস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা ক্ষুন্ন করতে একটি মহল উদ্দেশ্যে প্রনোদিতভাবে এ ধরনের অভিযোগ করেছে বলে দাবি করেন এমপি শাহে আলম। তিনি বলেন, আমার জনপ্রিয়তায় ইর্শান্বিত হয়ে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। তবে বানারীপাড়ার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও জনগণ যথাসময়ে এর সঠিক জবাব দেবে।
