3:20 pm , October 22, 2023
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বর্নিল আলোকসজ্জায় উৎসবের নগরীতে পরিণত হওয়া বরিশাল নগরীতে নানা আয়োজনে মহাঅষ্টমী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।গতকাল রবিবার সকাল ৮টা ৪৯ মিনিটে কল্পারম্ভ ও মহাঅষ্টমী বিহীত পূজার মধ্য দিয়ে মহাঅষ্টমী পূজা শুরু হয়। রাত ৮টা ৬ মিনিটে সন্ধি পূজা এবং ৮টা ৮৪ মিনিটে সন্ধি পূজার সমাপনীর মাধ্য দিয়ে মহাঅষ্টমী শেষ হবে। এ সময় ম-পগুলোতে চ-িপাঠ, পূজা-অর্চনা এবং অঞ্জলী প্রদান করা হয়।এদিকে বরিশাল নগরীর সদর রোডের শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দিরে প্রথমবারের মতো কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দুপুর ১ টায় নগরীর সদর রোডের শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দিরে কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হয়।মাতৃভাবে কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতীমা কল্পনা করে জগজ্জননীর উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করার মাধ্যমে কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হয়।জগন্নাথ দেবের মন্দিরে এবারের ‘কুমারী মায়ের’ নাম তৃৃমা গাঙ্গুলী (১১)। কুমারীপূজায় তার নাম দেয়া হয়েছে “রুদ্রানী”।সে বরিশাল নগরীর বাজার রোড বড় কালীবাড়ি এলাকার সবির গাঙ্গুগুলীর মেয়ে এবং নগরীর জগদীশ সারস্বত গালর্স স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী।সনাতন ধর্মের মানুষ কুমারীকে দেবী দুর্গা হিসেবে আরাধনা করেন অষ্টমীতে। বলা হয়, মানববন্দনা, নারীর সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং ঈশ্বরের আরাধনাই কুমারীপূজার শিক্ষা।বরিশাল বিভাগের কোন মন্দিরে প্রথমবারের মতো জগন্নাথ দেবের মন্দিরে কুমারী আয়োজন করায় খুশী ভক্তরা। কুমারী মায়ের আরাধনার মধ্য দিয়ে প্রত্যাশা পূরণ হবে আশা তাদের।শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দিরে পুরোহিত পলাশ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, কুমারীরা শুদ্ধতার প্রতীক হওয়ায় মাতৃরূপে ঈশ্বরের আরাধনার জন্য কুমারী কন্যাকে নির্বাচিত করা হয়।পরিপূর্ণ ফলপ্রাপ্তি কামনায় কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভক্তরা তাদের কামনা-বাসনা পরিপূর্ণ করতে কুমারীপূজায় অংশগ্রহণ করেন।্এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বরিশাল নগরী সেজেছে বাহারি রঙের আলোকসজ্জায়। বেলতলায় বেল ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে ২০ অক্টোবর সকাল থেকে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।এ উৎসবকে কেন্দ্র করে ঢাক-ঢোল আর উলুর ধ্বনিতে মুখরিত বরিশাল নগরীর পূজা ম-পগুলো।ম-পের জন্য নগরীর সদর রোড়ের কাটপট্টি মোড় থেকে শুরু করে হাসপাতাল রোড, বিএম কলেজ এলাকা, নাজিরপুল, নতুন বাজার পোল, ভাটিখানা পুরান বাকলা ও কালিবাড়ি সড়কে বাহারি রঙের বাতিতে আলোকিত করা হয়েছে গোটা এলাকা। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের ম-পে বাহারি রঙের নকশা করা বাতিতে নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ।এর বাইরে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে গোটা মন্দির এলাকা ও ম-পগুলো। পূজা ম-পগুলোতে ভিড় করছেন ভক্তদের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা।সম্পূর্ণ নতুনত্ব ও ভিন্নতাসহ জাঁকালো আলোকসজ্জা করা হয়েছে নগরের শ্রী শ্রী শংকর মঠে। এ মঠের পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি লিমন কৃষ্ণ সাহা কানু ও সাধারণ সম্পাদক তন্ময় দাস তপু বলেন, আমরা বিগত দিনের ধারা পরিবর্তন করতে চেয়েছি, তাই ম-পের সাজসজ্জায় ভিন্নতা ও নতুনত্ব আনা হয়েছে।কোনো কিছুতে ঘাটতি নেই।ঐতিহ্যবাহী এ শংকর মঠের পূজাকে সার্বজনীন করার চেষ্টা চালিয়েছি।আশা করি, ভক্ত-পূজারি ও দর্শনার্থী সবাই শংকর মঠে এসে খুশি হবেন, কেউ মনে কষ্ট পাবে না।শ্রী শ্রী শংকর মঠ পূজা উদাযাপন কমিটির সহসভাপতি আকাশ দাস বলেন, তরুণদের নিয়ে এবারে কমিটির সবারই উদ্যোগ ছিল পূজা যেন সার্বজনীন হয়।কতটুকু পেরেছি জানি না।তবে এবার পুজায় ভক্ত, পূজারি ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে শংকর মঠে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। আমরা চাই উৎসবমুখ পরিবেশে এবারের পূজার আয়োজন শেষ হোক।এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় দেখা যায় নগরীর পূজাম-পসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. সাইফুল ইসলামসহ কর্মকর্তারা বিভিন্ন পূজাম-প পরিদর্শন করছেন প্রতিনিয়ত।বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ শনিবার রাতে নগরীর বেশ কয়েকটি পুজামন্ডপ পরিদর্শন করে দর্শনার্থীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। আজ সোমবার মহা নবমী পুজা অনুষ্ঠিত হবে। এবং আগামীকাল মঙ্গলবার দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৫ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের। এবার বরিশাল জেলায় ৬০০ টি এবং মহানগরে ৪৮ টি ম-পে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুর্গাপূজা।
