আমতলীতে ভুলে ভরা এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধন সংশোধনে ভোগান্তি আমতলীতে ভুলে ভরা এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধন সংশোধনে ভোগান্তি - ajkerparibartan.com
আমতলীতে ভুলে ভরা এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধন সংশোধনে ভোগান্তি

2:45 pm , January 2, 2022

আমতলী প্রতিবেদক ॥ আমতলীতে ভুল সংশোধন করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মানুষ। নাম, জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার নামসহ নানা ধরনের ভুলেভরা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র। আর এসব ভুল সংশোধন করতে গিয়েই তারা বিড়ম্বনায় পড়ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অদক্ষ জনবল দিয়ে তথ্য সংগ্রহ, ডাটা এন্ট্রিকারীদের গাফিলতি ও সমন্বয়হীনতাসহ আরও বেশকিছু কারণে এমন বিড়ম্বনায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের অসচেতনতাও অনেকাংশে দায়ী। ফলশ্রুতিতে ভুল সংশোধন করতে গিয়ে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের অর্থের অপচয় হচ্ছে, অপরদিকে এসবের সমাধান করতে গিয়ে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরে অনেক সময়ও ব্যয় হচ্ছে। আর এসব ঘিরে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। উপজেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৩০-৪০ জন মানুষ জন্ম তারিখ, নামের বানান ইত্যাদি সমস্যা নিয়ে তাদের অফিসে
ভুলের ধরন অনুযায়ী কিছু সমস্যার সমাধান উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে হয় আবার কিছু ভুলের জন্য জেলা নির্বাচন কমিশন অফিস এমনকি আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসও পর্যন্ত যেতে হয়। উপজেলার হলদিয়া গ্রামের মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র করার সময় ডাটা এন্ট্রিকারির কাছে আমার বিএ পাসের সনদ জমা দিলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের বানান ভুল এসেছে। এখন নিজের টাকা খরচ করে সেই ভুল সংশোধন করতে হচ্ছে।
এ ছাড়াও জীবিত ব্যক্তিকে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত করার ফলেও ঘটছে মহাবিপত্তি। জীবিত ব্যক্তিকে মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় ভাতা বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। অনুপযুক্ত বিবেচিত হচ্ছেন করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণে আগ্রহীরা। এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৬০ বছরের বৃদ্ধ সামসুল হকের ক্ষেত্রে এতদিন জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে তিনি মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন তা জানা ছিল না তার। কিন্তু ভাতা প্রদান কার্যক্রম আধুনিকায়ন হওয়ার পর তিনি তাকে মৃত হিসেবে জানতে পারেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. কাওসার হোসেন বলেন, যদি এভাবে কেউ ভাতাভোগীর তালিকা থেকে বাদ পড়ে থাকেন তবে ভুল সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত তিনি ভাতা পাবেন না।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীদের ভুল ও ডাটা এন্ট্রি করার সময় করণিক ভুলের কারণে এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। তবে উপযুক্ত দালিলিক প্রমাণ দিলে এখন স্বল্প সময়ের মধ্যেই এগুলোর সমাধান হচ্ছে। অপরদিকে, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন পরিষদে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন তথ্যসেবা কেন্দ্রে গড়ে মোট ২ থেকে ৩ শতাধিক মানুষ জন্মনিবন্ধনের ভুলজনিত সমস্যা নিয়ে হাজির হচ্ছেন। বর্তমানে ভুক্তভোগীর গড় সংখ্যা এই পর্যায়ে থাকলেও মাস খানেক আগে এমন ভুক্তভোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি ছিল এবং জানুয়ারী মাসে এই সংখ্যা আবারো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পৌর এলাকার মো. কবির মিয়া নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘তার দুই ছেলের জন্মনিবন্ধনে বাবার নামের জায়গায় দুটিতেই ভুল লেখা হয়েছে এবং ভুল দুটিও দুই রকম। বিষয়টি আগে খেয়াল না করায় তার দুই ছেলের স্কুল সার্টিফিকেটেও ভুল হয়েছে। যা নিয়ে এখন সমস্যা পোহাতে হচ্ছে।’ কীভাবে এর সমাধান মিলবে তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তিনি।
একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের সঙ্গে কথা বলে তাদের যে ভাষ্য পাওয়া গেছে তা হলো- অনেক তথ্য সংগ্রহকারী এক বাড়িতে বসে দশ বাড়ির তথ্য সংগ্রহ করেছেন। যেখানে অহরহ ভুল হয়েছে। আর সেই ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা তথ্য নথিভুক্ত করেছেন। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি করানোর সময় অভিভাবকরা ইচ্ছাকৃতভাবে বাচ্চাদের বয়স কমিয়ে বা বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে বর্তমান সময়ে এসে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাচন কর্মকতা মো. সেলিম রেজা মুঠোফোনে বলেন, তথ্য সংগ্রহকারী এক বাড়িতে বসে দশ বাড়ির তথ্য সংগ্রহ করেছেন। অনেকে সঠিকমত কাগজ পত্র দেয়নি। আমাদের কাছে আসলে উপজেলা নির্বাচন অফিস যতদ্রুত সম্ভব সমাধানের চেষ্টা করি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, সরকার নির্ধারিত ফি’র মাধ্যমে নিবন্ধন অথবা সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করে তা নিষ্পত্তি করা হয়। এক্ষেত্রে হয়রানি অথবা অতিরিক্তি অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। তারপরও কেউ এ ব্যাপারে অভিযোগ দিলে তাৎক্ষণিক আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT