4:08 pm , April 18, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন,
সংসদে ওয়াকআউট করা বিরোধী দলের অধিকার। আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম আমরা অনেক ওয়াক আউট করেছি। এটি একটি রাজনৈতিক চর্চা।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে সংসদ বয়কট করলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জনগণ আবার তাদের অধিকার হারিয়ে ফেলবে।
গতকাল শনিবার দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউজে চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় স্পিকার বিরোধী দল ও সরকারি দলের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, বিরোধী দলের প্রতি আমার আহ্বান রইল তারা যেন কারণে অকারণে ওয়াক আউট না করে।
সরকারি দলের প্রতি আহ্বান তারা যেন বিরোধী দলকে একমোডেট করার চেষ্টা করে। বিরোধীদলকে তাদের কাজ করার মত সেই স্পেসটা যাতে দেয়।
বিশেষ করে যেসব দল স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে একত্রে রাজপথে আন্দোলন করেছে তারা যেন নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখে।
এ সময় স্পিকার আওয়ামী লীগের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, না হলে বিদেশে যারা পালিয়ে আছে তারা আবার ফিরে এসে এদেশে দুঃশাসন কায়েম করবে।
স্পিকার বলেন, সম্মিলিতভাবে ঐক্যের মাধ্যমে এদেশ ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পথে এগিয়ে যাবে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, অনেকদিন পর আমরা গণতন্ত্রে পদার্পণ করেছি। আমাদের জীবন থেকে মূল্যবান ১৭ টি বছর কেড়ে নিয়েছে।
গণতন্ত্র চর্চা ব্যাহত হয়েছে। গণতন্ত্র না থাকার কারণে হত্যা, লুট, রাষ্ট্রীয় সম্পদ পাচার হয়ে বিদেশে চলে গেছে।
তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময় ছিল বিগত ১৬ বছর। যেখানে নির্বাচনের নামে প্রহসন মঞ্চস্থ হয়েছে। সাধারণ মানুষের কোন অধিকার ছিল না।
মানবাধিকার দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছিল। অবশেষে ছাত্র, তাদের অভিভাবক, সাধারণ মানুষের আত্মদানের ফলে দেশে আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আমরা আশা করব গণতন্ত্র আর কোনদিন হারিয়ে যাবে না। কোন দল গণতন্ত্রকে আর নির্বাসনে পাঠানোর চেষ্টা করবে না। আশা করব সাধারণ মানুষের অধিকার যেন সবসময় প্রতিষ্ঠিত থাকে।
তিনি বলেন, আগামী দিনে কোন স্বৈরশাসক বাংলাদেশের প্রভাব বিস্তার করবে এমন কোন সম্ভাবনা আমি দেখতে পাচ্ছি না। কারণ বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রের প্রতি সচেতন এবং গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী।
এর আগে তিনি ভোলা সফর শেষে বরিশাল সার্কিট হাউজে পৌছালে সেখানে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বিনিময়ে অংশ নেন তিনি।
