সরকারী ৫ স্কুলে বাতিল হওয়া আসনে নতুন করে ভর্তির নির্দেশনা আসেনি সরকারী ৫ স্কুলে বাতিল হওয়া আসনে নতুন করে ভর্তির নির্দেশনা আসেনি - ajkerparibartan.com
সরকারী ৫ স্কুলে বাতিল হওয়া আসনে নতুন করে ভর্তির নির্দেশনা আসেনি

3:22 pm , January 13, 2023

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর সরকারী পাঁচ স্কুলে তৃতীয় শ্রেনীতে নতুন করে শিশু শিক্ষার্থী ভর্তি এখনো শুরু হয়নি। অভিভাবকদের প্রতারনার আশ্রয় নেয়ায় পাঁচ স্কুলের প্রায় দেড়শত শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল হয় ২ জানুয়ারী। শুন্য আসন পূরন করতে সেখানে নতুন করে শিক্ষার্থী নেয়া হবে। কিন্তু শুক্রবার পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন সিদ্বান্ত নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব ও বরিশাল সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা হোসেন। তিনি জানান, নগরীর বরিশাল সরকারী বালিকা বিদ্যালয়, বরিশাল জিলা স্কুল, বরিশাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, শহীদ আরজু মনি ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেনীতে ভর্তিতে শিক্ষার্থীরা আবেদন করেন। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে একাধিক নামে সন্তানদের জন্ম নিবন্ধন করে। লটারীর মাধ্যমে একাধিক জন্ম নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পায়। তারা ভর্তি হওয়ার পর যাচাই-বাছাইয়ে একাধিক জন্ম নিবন্ধন করা প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল করা হয়।
প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা হোসেন জানান, বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীদের কোটায় নতুন করে ভর্তি করা হবে। এ জন্য নির্দেশনা চেয়ে মাউশির কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা পেলে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তিনি আরো জানান, এখনো যাচাই-বাছাই চলছে। আরো পাওয়া গেলে তাদের ভর্তি বাতিল করা হবে।
সারা দেশে কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়া লটারির মাধ্যমে শিশুদের সরকারি-বেসরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তির নিয়ম করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নিয়ম অনুযায়ী, এক শিক্ষাবর্ষে একজন শিশু একটিই আবেদন করতে পারে।
কিন্তু অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের ভালো স্কুলে ভর্তির মরিয়া চেষ্টায় প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সন্তানের নামে একাধিক জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করে, কিংবা এক শিশুর জন্য একাধিক নাম ব্যবহার করে কয়েকটি আবেদন করেন। তারা মনে করেন, অনেকগুলো আবেদন হলে লটারিতে তাদের সন্তানের হয়ত সুযোগ বাড়বে।
এবার স্কুলে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া চলে ২৫ নভেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর। লটারির ফল প্রকাশিত হয় ১২ ডিসেম্বর। লটারিতে আসা নামের তালিকার পাশাপাশি অপেক্ষমাণ তালিকাও দেওয়া হয়।
তারপর ১৭ ডিসেম্বর শুরু হয় ভর্তির প্রক্রিয়া। ১৯ ডিসেম্বর স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, যারা ভুল তথ্য ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আবেদন করেছে, তা বাতিল করা হবে।
শিক্ষার্থীদের নাম, আবেদনপত্র, জন্মনিবন্ধন সনদসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই-বাছাই করতে গিয়েই বেরিয়ে আসে সন্তানদের ভর্তির জন্য তাদের বাবা-মায়েদের প্রতারণার বিষয়টি।
যাদের ভর্তি বাতিল হয়নি, সেই সকল শিশু শিক্ষার্থীরা নিয়মতি ক্লাস করছে। কিন্তু বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীরা কেউ অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ সাবেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস করছেন।
বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তার স্কুলে ৩৮ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল হয়েছে। এ স্কুলে আসন ছিলো ২৪০টি। যাদের ভর্তি সঠিক হয়েছে তাদের গত বৃহস্পতিবার প্রথম ক্লাস হয়েছে। ওই দিন তাদের নতুন বই দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, নির্দেশনা পাওয়ার পর নতুন করে ভর্তি শুরু করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT