3:15 pm , January 10, 2026
বিশেষ প্রতিবেদক ॥
সরকার কোনভাবেই চালের দামের ঊর্ধ্বমুখি প্রবনতা রোধ করতে পারছেনা। আমন মৌসুম শেষ হবার আগেই বরিশালের চালের বাজার নতুন করে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি করছে। সমাপ্তপ্রায় আমন মৌসুমে ১৪ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ২৪ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে। অথচ এবার ধানের দাম গত বছরের চেয়ে প্রতিমণে দেড়শ থেকে ২শ টাকা পর্যন্ত কম। কিন্তু গত একমাসে বরিশালে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা বা প্রতি মণে আড়াইশ টাকার মত।
অথচ গত ৬ মাসে শুধু বরিশাল খাদ্য অঞ্চলের ৫ লক্ষাধিক সুবিধাভোগির মাঝে ‘খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় মাত্র ১৫ টাকা কেজি দলে ৬০ হাজার ৫শ টনের মত চাল বিক্রী করেছে সরকার। এ কর্মসূচীতে ৫ লক্ষাধিক সুবিধাভোগি গত আগষ্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাসে ৩০ কেজি করে চাল পেয়েছেন। আগামী মার্চ ও এপ্রিল মাসেও অনুরূপভাবে চাল বিক্রী করা হবে।
খোলা বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে প্রতিদিন ৫৬ টন চাল ও ২৪ টাকা দরে একই পরিমান আটাও বিক্রী করছে খাদ্য অধিদপ্তর। এ হিসেবে ‘খোলা বাজারে বিক্রী কর্মসূচী-ওএমএস’র আওতায় গত ৬ মাসে ৮,১৫৩ টন আটা ও ৭,২৭৫ টন চাল বিক্রী করেছে সরকার। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এর বাইরে বরিশালের ৩.৪০ লাখ জেলে পরিবারের মাঝে সাড়ে ৮ হাজার টন চাল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। একইসাথে বরিশালের ৪ লক্ষাধিক অনগ্রসর নারীর মাঝেও দু’বছরের জন্য যে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচী চলছে, তারই আওতায় গত ৬ মাসে বরিশালে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টন চাল বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
টিসিবির প্রায় ৫ লাখ ‘ফ্যামিলি কার্ডধারী সুবিধাভোগিও গত ৬ মাসে ৮ হাজার ১৪২ টন চাল পেয়েছেন ৩০ টাকা কেজি দরে।
কিন্তু এতসব কর্মসূচীও চালের বাজারকে আটকাতে পারেনি। নানা অজুহাতে চালকল মালিক এবং পাইকারী ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ার দল চালের দাম বৃদ্ধি করছে। বরিশালের বাজারে এখন মোটা মানের চালের কেজিও ৫০ টাকার ওপরে। মধ্যম-মাঝারী চালের কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। মিনিকেট চালের কেজি ৭৮-৮০ টাকা।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, চালের বাজারে ঊর্ধ্বমুখি প্রবনতা বাজারে মূল্যস্ফিতি সহ অন্য অনেক পণ্যমূল্যকেও প্রভাবিত করে থাকে। ফলে চালের মূল্য বৃদ্ধির হাত ধরে অন্য অনেক নিত্যপণ্যের দামেও ঊর্ধ্বমুখি প্রবনতা লক্ষ্যণীয়। এবার শীতকালীন সবজি ছাড়াও অন্য অনেক কৃষিপণ্যের দামও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশী। অথচ কৃষকরা মাঠ পর্যায়ে বর্ধিত দামের সুবিধা পাচ্ছেন না। পুরো বাজার এখন সিন্ডিকেটের দখলে।
ফলে সাধারন মানুুুুুষের সংসার চালান দায় হয়ে উঠছে ইতোমধ্যে। অপরদিকে এযাবতকালের সর্বাধিক পরিমান আমন উৎপাদন হলেও ধানের দরপতনে কৃষকরা দিশেহারা। সমাপ্তপ্রায় খরিপ-২ মৌসুমে বরিশালে প্রতিমণ আমন উৎপাদন ব্যায় ছিল প্রায় ১১শ টাকা। কিন্তু অনেক কষ্টের সে ফসল বিক্রী হচ্ছে প্রতিমণ ৯শ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায়।
ফলে কৃষকের জন্য এবারের আমন মৌসুমে যেমন কোন ভাল খবর নেই, তেমনি ভোক্তাদেরও চালের মূল্য বৃদ্ধিতে দুর্ভোগ সব সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে।
