4:03 pm , February 1, 2026
বিশেষ প্রতিবেদক ॥
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অত্যন্ত শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার আবু ফজল মো. সানাউল্লাহ সবাইকে শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে ছোট দল-বড় দল, হেভিওয়েট প্রার্থী-লাইট ওয়েট প্রার্থী বলতে কিছু নেই। আমাদের কাছে সকলেই সমান। সবাইকে সমানভাবে ট্রিট করতে হবে। এ নির্দেশনার পর কেউ যদি পক্ষপাতিত্ব করেছেন বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে পরিণতি খুব খারাপ হবে। নির্বাচন কমিশন খুব কঠিন হবে এ ব্যাপারে।”
রোববার সকালে বরিশাল সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ডিজিটাল ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবু ফজল মো. সানাউল্লাহ ।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে এ সভায় বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ডিজিটাল ও অবজারভেশন টিমের উদ্দেশ্যে কমিশনার বলেন, “নির্বাচন ভালো করার পূর্বশর্ত হলো আপনারা যদি ইউনাইটেড থাকেন। এই সভার উদ্দেশ্যে হলো একটি ইউনাইটেড টিমকে একই প্লাটফর্মে দেখা। একই সাথে বোঝানো ইউনিটির মানে কি ? প্রয়োজনীয়তা কি ?
সানাউল্লাহ বলেন, “আপনাদের একটি ম্যাসেজ এস্টাবলিষ্ট করতে হবে, আর তা হচ্ছে, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আপনারা ইউনাইটেড। বরিশালে এটা হয়েছে। তাই আমরা আশা করছি, বরিশালে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।”
নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্য করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আমাদের পছন্দ-অপছন্দ ব্যক্তি বা নাগরিক হিসেবে ভোট দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এখন থেকে নির্বাচন পর্যন্ত কোথাও নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা আপ্যায়ন গ্রহণ করতে পারবেন না। পাশাপাশি প্রবাসীদের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের কারচুপির সুযোগ নেই বলে জানিয়ে সানাউল্লাহ বলেন, “ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে লাইভ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ব্যালটের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।”
তিনি বলেন, “প্রবাসীদের জন্য ব্যবহৃত ব্যালটে মোট ১১৯টি প্রতীক থাকবে। ফলে খাম খোলা ও সঠিকভাবে ভোট গণনায় তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগবে। ভোটকেন্দ্রে শুধুমাত্র প্রিসাইডিং অফিসার কলম নিয়ে যেতে পারবেন, অন্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা পেন্সিল নিয়ে যাবেন।”
ইসি ব্রিগেডিয়ার আবু ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ভোট চলাকালীন প্রতিটি আসনে ১০ জন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অনিয়ম ঠেকাতে কমিশন বিশেষভাবে সতর্ক রয়েছে। ভোট কেনাবেচা বন্ধে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে এবং অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হবে। সভায় তিনি, নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের কোনো ধরণের আপ্যায়ন গ্রহণ থেকে বিরত থাকতেও নির্দেশ দেন। অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সত্য এবং সঠিক তথ্য দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
পাশপাশি বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও আহত ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ ভোটে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব জেলা ও প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচনের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে ইসি বলেন, সততা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন শক্ত অবস্থানে থাকবে। এখানে বড় দল বা ছোট দলের কোনো ভেদাভেদ নেই, সবাই সমান। নির্দেশনার পরও কোন কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করলে তার পরিণতি হবে কঠোর।
