3:47 pm , January 17, 2026
জসিম জিয়া ॥
আকাশছোঁয়া এ ভবনটির অবস্থান নগরীর রুপাতলী হাউজিং এলাকায়। ৯ তলা বিশিষ্ট বাড়ীটি নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়েছে সম্প্রতি। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বহুতল ভবনটির প্রত্যেক তলায় আছে চারটি করে ফ্ল্যাট। সেই হিসেবে ভবনটিতে মোট ফ্ল্যাটের সংখ্যা ৩২টি। প্রত্যেক ফ্ল্যাটের ভাড়া ১৯ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। জমি কেনা এবং নির্মান কাজ শেষ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা। এত টাকা ব্যয় করে এত বড় বাড়ীটি যিনি করেছেন তিনি ২২ হাজার টাকা বেতন স্কেলের একজন সরকারি কর্মকর্তা। এই টাকা সংসারের পেছনে ব্যয় না করে যদি ব্যাংকে সব জমাও রাখেন তাহলে ২শ বছরেও এত উচু একটি ভবন করা সম্ভব না। অথচ মাত্র ১৪ বছরের চাকরি জীবনে এসব কিছু করার সৌভাগ্য হয়েছে। ভাগ্যবান এ সরকারি কর্মকর্তার নাম মোহাম্মদ এ আর আল আমিন। তিনি বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী পদে কর্মরত আছেন। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে লুটপাট এর মাধ্যমে এত সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। শুধু বহুতল ভবন করেই থেমে থাকেননি। স্ত্রী ও সন্তানদের নামে কিনেছেন কয়েক কোটি টাকার জমি। যৌথভাবে তার আরো একটি বহুতল ভবন রয়েছে এ নগরীতে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো আমলটাতেই বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত ছিলেন সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল আমিন। ২/১বার অন্য জেলায় বদলি হলেও স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তদ্বির করে আসতেন বিভাগীয় শহরে। তৎকালীন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি জাহিদ ফারুক শামীমের সাথে বেশ সখ্যতা ছিলো এ কর্মকর্তার। যে কারণে উন্নয়নমূলক কাজে সমানতালে করেছেন লুটপাট। আর এর মাধ্যমেই মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ফুলেফেপে উঠেছেন তিনি। যদিও দুর্র্নীতিবাজ এ কর্মকর্তা দাবী করেছেন ৯তলা বিশিষ্ট ভবনটি তার একার অর্থায়নে নয়। এরসাথে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপর প্রকৌশলী হুমায়ন কবির সহ ৬জন সরকারি কর্মকর্তা জড়িত আছেন। তারা যৌথভাবে এ ভবনটি নির্মান করেছেন। যদি ছয়জনে মিলেও করা হয় তাহলে একজন কর্মকর্তার অংশে কম করে হলেও আড়াই কোটি টাকার বেশি পড়েছে। ২২ হাজার টাকা বেতন স্কেলের একজন কর্মকর্তার এত টাকার উৎস্য কি এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তার ভাষ্য, সব সম্পদের হিসাব আয়কর নথিতে উল্লেখ আছে।
