4:17 pm , January 15, 2026
লালমোহন প্রতিবেদক ॥
চট্টগ্রাম যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে শ^শুর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেছে স্বামী জিহাদ। বুধবার সন্ধ্যায় ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। নিহত স্ত্রীর নাম রুনা। ঘটনার পর পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে ভোর রাতে ইলিশাঘাটে একটি লঞ্চ থেকে স্বামী জিহাদকে আটক করে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। জানা গেছে, লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের গণেশপুর গ্রামের বাসু মুন্সি বাড়ির হাফিজুর রহমানের মেয়ে রুনার প্রায় সাতমাস পূর্বে মামাতো ভাই জিহাদের সাথে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ে হয়। জিহাদ পাশ^বর্তী ৪নং ওয়ার্ডের পাঙ্গাশিয়া গ্রামের রফিকের ছেলে। বিয়ের পর রুনাকে তুলে নেয়নি জিহাদ। যার কারণে সে বাবার বাড়িতেই থাকতো। জিহাদ চট্টগ্রামে একটি রেস্টুরেন্টে চাকরি করে। তাদের দাম্পত্য কলহ চলে আসছিলো বলে এলাকাবাসী জানায়। কলহের জের ধরে রুনা তার বাবার বাড়িতে চলে আসে। বুধবার রুনার মা রেহানা বেগম তার ছোট মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে তার বাবার বাড়িতে (জিহাদের বাড়ি) যায়। বাবা গজারিয়া বাজারে পানের দোকান করার কারণে বাজারে অবস্থান করছিলো। এই সুযোগে বিকেলে জিহাদ তাদের বাড়িতে অবস্থান করা রুনার মাকে চট্টগ্রাম যাবে বলে ঘর থেকে বের হয়ে বিকেল ৪টার দিকে বাবার বাড়িতে অবস্থান করা রুনার কাছে যায়। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রুনাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় জিহাদ। সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাশের ঘরে থাকা রুনার চাচী নুরজাহান ওই ঘরে গিয়ে দেখেন রুনা কম্বলের নিচে পড়ে আছে এবং তার বুকের ওপর বালিশ রাখা ও মুখে লালা। তিনি ডাকচিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এসে রুনার বাবাকে খবর দেয়। স্থানীয়দের ধারণা, জিহাদ তার স্ত্রীকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। রুনাকে মৃত পাওয়ার পর জিহাদকে ফোন করলে সে অসংলগ্ন কথা বলে। এতে সবাই তাকে সন্দেহ করে। খবর পেয়ে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. অলিউল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় যৌথ অভিযানে ভোলা ইলিশ ঘাট থেকে ভোররাতে পালিয়ে যাওয়ার সময় জিহাদকে আটক করা হয়েছে। হত্যার ঘটনায় নিহত রুনার বাবা হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
