3:25 pm , January 12, 2026
জসিম জিয়া ॥
সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর আমলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা যারা নিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল বাশার। জি হুজুর আর হ্যা হুজুর করে তৎকালীন মেয়রের সবচেয়ে কাছের লোক বনে যান তিনি। এরপর বিসিসির বেশিরভাগ নির্বাহী প্রকৌশলীকে সাইজ করে একাই রাজত্ব করেছেন আবুল বাশার। ৫ বছরে দুই হাতে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। প্রত্যেক উন্নয়নমূলক কাজে শতকরা ২পার্সেন্ট টাকা নিতেন এ প্রকৌশলী। যার একটি অংশ পেতেন অপর প্রকৌশলী মাকসুমুল হাকিম রেজা। ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার পতনের পর স্ব-পরিবারে পালিয়ে যান সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। কিন্তু ফ্যাসিস্ট এর দোসররা এখনো সমানতালে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন নগরভবন। সরকার পতন হলেও ফার্সেনটেজের ক্ষেত্রে ঘাটতি পড়েনি। বর্তমানে চলমান প্রকল্প থেকেও ২ শতাংশ হারে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তার এ দুর্নীতির খোঁজ নেওয়া শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। আবুল বাশার সহ ৩৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন এই তালিকায়।
২০১৮ সালে চতুর্থ পরিষদের নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। নগরপিতার চেয়ারে বসার পরই তিনি অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কোন ধরণের নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে অনেক কর্মকর্তাকে করা হয় ওএসডি। আবার অনেক কে করা হয় চাকরিচ্যুত। এই তালিকায় ছিলেন বিসিসির বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ন কবির, নির্বাহী প্রকৌশলী মোতালেব হোসেন সহ আরো অনেকে। কিন্তু দুর্র্র্নীতি করেও তৈলমর্দন এর কারিশমায় টিকে যান আবুল বাশার। এক পর্যায়ে সাদিকের আস্থাভাজনদের তালিকায় নাম লেখাতে সক্ষম হন তিনি। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। মেয়রের আশীর্বাদ নিয়ে তৎকালীন সময় ফুলে ফেপে ওঠেন নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল বাশার। সবশেষ ২০২৩ সালের নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত। তিনি মাত্র ৬ মাস দায়িত্ব পালন করেছেন। গুঞ্জন রয়েছে খোকন নগরপিতার চেয়ারে বসার পর তাকে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা দিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রাখেন নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল বাশার। সবার ধারণা ছিলো সরকার পতনের পর ফ্যাসিস্ট এর দোসররা শাস্তি পাবেন। কিন্তু হয়েছে ঠিক এর উল্টো।
গণঅভ্যুত্থার পরবর্তী সারাদেশের সিটি কর্পোরশগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন প্রক্তন বিভাগীয় কমিশনার রায়হান কাওছার। তার সময়েও থেকে থাকেনি আবুল বাশারের দুর্র্নীতি। প্রশাসককে ম্যানেজ করে সবকিছু নিয়ন্ত্রন করতেন আবুল বাশার। সঙ্গত কারণে প্রশ্ন উঠেছে কোন যাদুরবলে ‘ফ্যাসিস্ট এর দোসররা এখনো নগরভবনে রাজত্ব করছেন। এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল বাশার মুঠোফোনে বলেন ‘ আমার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা।
