3:12 pm , January 10, 2026
রাজিব আহসানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৮২টি
এ্যাড. জয়নুল আবেদীনের নামে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫টি
ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর অনেক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সুতরাং আমরা যারা মামলার শিকার তাদের বিব্রত হওয়ার কিছু নাই। বিব্রত হবে তারা যারা আমাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারছেনা, কিন্তু জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগ সরকারের অংশ ছিল। জাতীয় পার্টি সহায়তা না করলে ইতিহাস হত অন্যরকম। জাপাও অনেকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, হয়রানি করেছে। সুতরাং বিব্রত তারা হবে, আমরা না। -এ্যাড. জয়নুল আবেদীন
বিশেষ প্রতিবেদক ॥
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ৬টি আসনে ৪৪ প্রার্থির মধ্যে ২১ প্রার্থির নামে বিভিন্ন থানায় ১৮৬টি মামলা রয়েছে। প্রার্থিদের হলফনামায় এসব মামলার কথা উল্লেখ রয়েছে। বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রার্থিরা। পুলিশ এবং আইনজীবীরাও একই মত পোষন করেছেন।
বরিশাল জেলার ৬টি নির্বাচনী আসনে এবারে প্রার্থি রয়েছেন ৪৪জন। এরমধ্যে ২১ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৮৬টি মামলা। গড়ে প্রতি প্রার্থির বিরুদ্ধে ৯টি মামলা। এ ব্যাপারে প্রার্থি, পুলিশ ও আইনজীবীদের কাছ থেকে প্রায় একই ধরনের অভিমত পাওয়া গেছে। প্রার্থিরা বলছেন- তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। বর্তমান অবস্থায় যারা তদের নামে এতো মামলা দিয়েছে তারাই বিব্রত।
২৫ মামলার আসামি ও বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থি জয়নুল আবেদিন বলেন-ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর অনেক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সুতরাং আমরা যারা মামলার শিকার তাদের বিব্রত হওয়ার কিছু নাই। বিব্রত হবে তারা যারা আমাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারছেনা, কিন্তু জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগ সরকারের অংশ ছিল। জাতীয় পার্টি সহায়তা না করলে ইতিহাস হত অন্যরকম। জাপাও অনেকের বিরুদ্ধ মামলা দিয়েছে, হয়রানি করেছে। সুতরাং বিব্রত তারা হবে, আমরা না? আমরা আইনগতভাবে মামলা মোকাবেলা করে ভোটে দাঁড়িয়েছি। গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। মানুষ যাতে ভোট দিতে পারে সেজন্য আমরা এসেছি। এই ২১ জন আমরা যারা মামলার শিকার আমরা পরিস্কারভাবে ভোট পাওয়ার অধিকার অর্জন করেছি।
৩ মামলার আসামি ও বরিশাল-৫ আসনের বাসদ প্রার্থি মনিষা চক্রবর্তী বলেন-বাংলাদেশের রাজনীতিতে যারা বিরোধী রাজনীতি করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার সংস্কৃতি চালু রয়েছে যা এখনো চালু আছে। কার নামে কয়টা মামলা আছে, এটা বিবেচনা করে চরিত্র নির্ধারণ করা খুবই মুশকিল। আমর নামেও মামলা আছে। মামলা থাকতে পারে তবে আমাদের দেখতে হবে মামলার ধরন কি ও এর সত্যতা কতটুকু। আমরা মনেকরি নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ এর বিষয়গুলো খুব স্পর্শকাতর। এধরনের বিষয় থাকলে খতিয়ে দেখা দরকার? এধরনের মামলা হয়রানিমুলক না কি সত্য তা খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশন পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
হলফনামায় দেখা যায় বরিশাল-১ আসনের ৫ প্রার্থির মধ্যে তিনজনের নামে ১১ টি মামলা রয়েছে। একই সাথে বরিশাল-২ আসনের ১০ প্রার্থির মধ্যে ৭ জনের নামে ১৮ টি, বরিশাল-৩ আসনের ৯ প্রার্থির মধ্যে ৩ জনের নামে ৪১ টি, বরিশাল-৪ আসনের ৫ প্রার্থির মধ্যে ৩ জনের নামে ৮৬টি, বরিশাল সদর আসনের ১০ প্রার্থির মধ্যে ৩ জনের নামে ১৮টি এবং বরিশাল-৬ বাকেরগঞ্জ আসনের ৫ প্রার্থির মধ্যে ২ জনের নামে ১২ মামলা রয়েছে।
এরমধ্যে বরিশাল-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থি রাজিব আহসানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৮২টি এবং বরিশাল ৩-আসনে বিএনপি প্রার্থি জয়নুল আবেদীনের নামে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫টি মামলা রয়েছে।
আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ বলেন-যারা নির্বাচন করছেন তারা অধিকাংশ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। মামলাগুলো রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। ৯৮ ভাগ মামলা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। এ মামলা আসলে কোন প্রার্থীর মামলা হিসেবে ধরা যায়না। আদালতের বিভিন্ন ধাপ পার হতে গেলে খুব একটা টিকেছে এমন দেখা যায়নি।
বরিশালের ৬টি আসনে এবারে ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ২৯ হাজার ৯৪৭ জন। এরমধ্যে নারি ভোটার ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৮১০ জন। ৬ আসনে ৮২৭টি ভোট কেন্দ্রের ৪৯৪১টি বুথে ভোট গ্রহন করা হবে। এখানে নতুন ভোটার ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৮ জন। পুলিশের মতে প্রার্থিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় হয়েছে। ভোটে এর কোন কিছুই ব্যাঘাত সৃস্টি করতে পারবে না।
বিএমপি কমিশনার মো: শফিকুল ইসলাম বলেন-বিগত সরকারের আমলে যারা মামলা খেয়েছে তার বেশিরভাগই বানানো মামলা বা জোর করে দেওয়া মামলা। এগুলো বিবেচনায় এসেছে। নির্বাচনের সময় এসব মামলা নিয়ে এক প্রার্থী অন্য প্রর্থীর দোষত্রুটি তুলে ধরবে। এখন এই বক্তব্য নিয়ে কতটুকু প্রতিক্রিয়া হবে সেটা তাদের বিষয়। তবে ভোট নিয়ে আতঙ্কের কিছুই নাই? কারন যারা এমপি প্রার্থি তাদের তারো বিরুদ্ধ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কোন মামলা নেই? যা আছে তা রাজনৈনিক মামলা।
