মঠবাড়ীয়ায় একবছরে ৩৯ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু! মঠবাড়ীয়ায় একবছরে ৩৯ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু! - ajkerparibartan.com
মঠবাড়ীয়ায় একবছরে ৩৯ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু!

3:43 pm , January 9, 2026

শাকিল আহমেদ, মঠবাড়িয়া প্রতিবেদক ॥
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় গত একবছরে গলায় ফাঁস, বিষপান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও পানিতে ডুবে ৩৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সাথে অভিমান করে গলায় ফাঁস ও বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। এঘটনায় মঠবাড়িয়া থানায় ৩৯টি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। এরমধ্যে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ৮জন, বিষপানে ৬জন, পানিতে ডুবে ৭জন ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৬জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অভিযোগে থানা পুলিশ বাকিদের লাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উদ্ধার করে এবং থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। অপমৃত্যু মামলা সূত্রে জানাগেছে, গত বছরের ২৯ জানুয়ারি পানিতে ডুবে মারা যান উপজেলার জানখালী গ্রামের ফজলুল হক ফরাজীর স্ত্রী মিনারা খাতুন। ৩১ জানুয়ারি বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান উপজেলার তাফালবাড়িয়া গ্রামের মৃত ইউনুস হাওলাদারের পুত্র মো: ওবায়দুল হাওলাদার। ২১ শে ফেব্রুয়ারি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে দধিভাংগা গ্রামের পান্না মিয়ার মেয়ে রিনা আক্তার। ২৬ ফেব্রুয়ারি সবুজনগর এলাকার মাসুম এর কৃষিক্ষেত থেকে অজ্ঞাতনামা এক পুরুষের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ৭ মার্চ বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান উপজেলার বেতমোর এলাকার মৃত ছত্তার হাওলাদারের পুত্র গফফার হাওলাদার। ১৭ মার্চ পানিতে ডুবে মারা যায় নলী চান্দুখালী গ্রামের বাদল মোল্লার ৫ বছর বয়সী মেয়ে তাকিয়া আক্তার। ২৮ মার্চ পানিতে ডুবে মারা যায় উপজেলার ভাইজোড়া গ্রামের জলিল মিয়ার মেয়ে মারিয়া আক্তার। ৬ এপ্রিল পানিতে ডুবে মারা যায় দক্ষিণ বড় মাছুয়া গ্রামের দুলাল মোল্লার চারবছর বয়সী পুত্র রায়হান। ২৮ এপ্রিল বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যায় উপজেলার ফুলঝুড়ি গ্রামের মৃত আফসার আলী সরদারের পুত্র মনির হোসেন। ২৯ এপ্রিল বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যায় উপজেলার বকশির ঘটিচোরা গ্রামের মনির মোল্লার পুত্র মারজান। এছাড়া ২৬ মে বড়শৌলা নানা বাড়িতে বসে চালের পোকা নিধনের ওষুধ সেবন করে মারা যায় তনয় সিকদার জয় নামে এক কিশোর। ৯ জুন উপজেলার প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের গাড়ির গ্যারেজের পাশ থেকে অজ্ঞাতনামা এক পুরুষের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ১২ জুন বিষপানে আত্মহত্যা করে উপজেলার মিরুখালী এলাকার মৃত সোবহান মিয়ার পুত্র মো: শাহজাহান। ১৪ জুন একই ইউনিয়নের ঘোপখালী গ্রামের বাবু মিয়া হাওলাদারের দুই বছর বয়সী মেয়ে  রাইসা মনি পানিতে ডুবে মারা যায়। এছাড়া পশ্চিম সেনের টিকিকাটা এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের পুত্র হাসিবুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। অপর দিকে বেতমোর রাজপাড়া ইউনিয়ন আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ও ঘোপখালী গ্রামের জসিম হাওলাদারের মেয়ে সানজিদা আক্তার তন্বি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। তাছাড়া ১২ জুলাই শহীদ মোস্তফা খেলার মাঠের মঞ্চ থেকে থানা পুলিশ নাসির উদ্দিন মাষ্টার নামে একজনের লাশ উদ্ধার করে। ৭ আগস্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে পশ্চিম মিঠাখালী গ্রামের সুরমা নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ৮ আগস্ট মিরুখালীর হেলাল হাওলাদার নামে এক ব্যবসায়ির দোকানে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে তার ভাগিনা ইউসুফ হোসেন। এছাড়া ১২ আগস্ট ভেচকী গ্রামের শাহিনুর নামে এক নারীর মৃত্যুতে থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। ১৯ আগস্ট বসতঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে ধানীসাফা এলাকার কবির হাওলাদারের পুত্র রুম্মান হাওলাদার। ২৬ আগস্ট দেবীপুর গ্রামের দুলাল সরদারের মেয়ে উম্মে ফারিয়া গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। অপরদিকে ২৭ আগস্ট বিষপানে আত্মহত্যা করেন বাদুরা গ্রামের মৃত নাজেম আলীর পুত্র নান্না ফরাজী। ৩০ আগস্ট জমিতে আগাছা পরিস্কার করতে গিয়ে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকেন ছোট শৌলা গ্রামের কাদের আলীর পুত্র সাহেব আলী। ১৮ সেপ্টেম্বর পানিতে ডুবে মারা যায় কবুতরখালীর এমাদুল হকের পুত্র রবিউল। ২০ সেপ্টেম্বর পানিতে ডুবে মারা যায় দাউদখালী এলাকার ছগির গাজীর পুত্র আব্দুল্লাহ। ২২ সেপ্টেম্বর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে পশুরিয়া গ্রামের নাজমুস সাকিবের স্ত্রী রাইসা ইসলাম। এছাড়া ২৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বেতমোর গ্রামের অহেদ আকনের পুত্র জলিল আকনের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। অপরদিকে ১২ অক্টোবর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান গিলাবাদ গ্রামের মৃত  গফুর এর পুত্র খোকন মিয়া। এছাড়া ২৯ অক্টোবর  গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে গিলাবাদ বাজারের ব্যবসায়ি প্রদীপ দেবনাথ। ১১ নভেম্বর উপজেলার আঙ্গুলকাটায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে ফজলুল হক মুন্সীর পুত্র ইউনুস মুন্সী নিহতের ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।  ৯ নভেম্বর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যায় উপজেলার পাতাকাটা গ্রামের আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসা মো: অলিউল্লাহ। ১৬ নভেম্বর চালের পোকা নিধন এর ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করে গোলবুনিয়া গ্রামের গোলাম রাব্বি নামে এক যুবক। ২০ নভেম্বর গাছ থেকে পড়ে মারা যায় কচুবাড়িয়া গ্রামের আফজাল হোসেন এবং ২২ নভেম্বর উত্তর ভেচকীতে টমটম দুর্ঘটনায় চাঁন মিয়া খান নামে এক বৃদ্ধ নিহতের ঘটনায় থানায় পৃথক দুইটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। অপরদিকে ১ ডিসেম্বর বিষপানে আত্মহত্যা করেন আমড়াগাছিয়া এলাকার হাসিনা বেগম নামে এক নারী এবং ৪ ডিসেম্বর বিষপানে আত্মহত্যা করে চড়কগাছিয়া এলাকার মৃত নবী হোসেনের পুত্র এমাদুল হক হাওলাদার। এছাড়া পাথরঘাটার রায়হানপুর গ্রামের স্বপন হাওলাদারের স্ত্রী নাছিমা বেগম চালের পোকা নিধন এর ওষুধ সেবন করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া ১৫ ডিসেম্বর উপজেলার পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের মৃত জাকির হোসেনের পুত্র আল আমিন গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT