সঞ্চয়পত্র সহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের বিড়ম্বনা সঞ্চয়পত্র সহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের বিড়ম্বনা - ajkerparibartan.com
সঞ্চয়পত্র সহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের বিড়ম্বনা

3:54 pm , January 6, 2026

বিশেষ প্রতিবেদক ॥
সরকারি ছুটিতে বরিশালে সঞ্চয়পত্র সহ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীদের বিড়ম্বনা অব্যাহত থাকলেও তা থেকে উত্তরনের কোন পদক্ষেপ নেই। সরকারি ও বেসরকারী সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিগত দুটি ঈদের আগে-পরের দু’দফায় মোট ১১দিন করে ছুটির ফলে গচ্ছিত বিনিয়োগের মুনাফা সময়মত না পেয়ে অনেক পরিবারেই ঈদের আনন্দ পর্যন্ত ম্লান হয়। বরিশাল অঞ্চলে সঞ্চয়পত্র ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহে বিভিন্ন মেয়াদী আমানতের মুনাফার ওপর নির্ভরশীল অনেক পরিবারেই এ ধরনের বিড়ম্বনা অব্যাহত থাকলেও বিষয়টি আমলে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সহ অর্থ মন্ত্রণালয়ও নির্বিকার বলে অভিযোগ বিনিয়োকারীদের। অথচ সঞ্চয়পত্র সহ বিভিন্ন ব্যাংকে সব ধরনের আমানত ও লেনদেন অনেক আগেই ডিজিটালাইজড ও অটোমেশন করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে বলা হচ্ছে।
কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখনো প্রতিদিন বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকৃত মুনাফার অর্থ সম্পূর্ণ হাতে কলমে পোষ্টিং দেয়ার পরে গ্রাহকের হিসেবে অনলাইনে জমা হচ্ছে। সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংকসমূহে গ্রাহকের মুনাফার মাসিক কিস্তির তারিখের দিন সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অনলাইনে বাংলাদেশ ব্যাংকে বার্তা প্রেরনের পরের দিন ‘ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফর-ইএফটি’ পদ্ধতিতে গ্রাহকের ব্যাংক হিসেবে জমা হচ্ছে। কিন্তু পুরো কাজটি করতে হচ্ছে ব্যাংক বা সঞ্চয় অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হাতে কলমে। পুরো কার্যক্রমটিই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা করে থাকেন। ফলে সপ্তাহিক ছুটি সহ যেকোন সাধারন ছুটির দিনে কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে মুনাফার অর্থ প্রেরন সংক্রান্ত কোন বার্তা পাঠান হয়না। ফলে যেকোন ছুটির দিনে বিনিয়োগকারীর হিসেবে কোন মুনাফার অর্থও জমা হচ্ছে না।
সঞ্চয় অধিদপ্তর মুখে বিনিয়োগকারীদের অটোমেশন পদ্ধতির কথা বললেও সাপ্তাহিক ছুটি সহ যেকোন সরকারি ছুটির দিনে বিনিয়োগারীদের ব্যাংক হিসেবে মুনাফার অর্থ স্বয়ংক্রীয়ভাবে জমা হচ্ছেনা। ফলে ‘পরিবার সঞ্চয়পত্র’,  ‘৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র’ ও ‘পেনশনার সঞ্চয় পত্র এর বিনিয়োগকারীরা যদি মুনাফা পাওয়ার দিন শুক্রবার হয়, তবে সে মুনাফার অর্থ পাচ্ছেন পরবর্তি সোমবারে। কারণ শুক্র ও শনিবার দুদিন সপ্তাহিক ছুটির পর রোববারে ব্যাংক বা সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে ওইসব বিনিয়োগকারীর তথ্য অনলাইনে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর পরবর্তি কর্মদিবসে তা বিনিয়োগকারীর ব্যাংক হিসেবে জমা হলেই কেবল তারা অর্থ তুলতে পারছেন।
ফলে বিগত ঈদ উল ফিতর ও ঈদ উল আজহা’র আগে পরের ১০-১১ দিনের ছুটির ফাঁদে বরিশাল অঞ্চলের সঞ্চয় অধিদপ্তরের লক্ষাধিক গ্রাহক সহ বিভিন্ন ব্যাংক সহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আরো কয়েক লাখ গ্রহক চরম দুর্ভোগের শিকার হন । গত ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের ছুটি ছিল বৃহস্পতিবার। ২৪ ডিসেম্বর বুধবারেও যাদের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার অর্থ পাবার কথা তারা তা পেয়েছেন পরের রোববার ২৮ ডিসেম্বর। আর বৃহস্পতি থেকে শনিবার যাদের ঐ ধরনের অর্থ পাবার কথা তারা পেয়েছেন সোমবার।
সঞ্চয় অধিদপ্তর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের গ্রাহকদের মুনাফার অর্থ এখনো হাতে কলমে অন-লাইনে পোষ্টিং দেয়ার কারণে এ বিড়ম্বনা অব্যাহত থাকলেও বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন মাথাব্যাথা নেই বলে অভিযোগ বিনিয়োগকারীদের। এমনকি যেকোন বন্ধের কারণে বরিশাল অঞ্চলে বিভিন্ন সঞ্চয়পত্র ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এর  বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারীদের মুনাফার মত মেয়াদন্তে আসল টাকা পেতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র ও ‘৩ মাস অন্তর মুনফা ভিত্তিক সঞ্চয় পত্র এর যেসব গ্রাহক এসব স্কিমের মুনাফার ওপর নির্ভরশীল, তাদের অনেক সময়ই মানবিক সংকটেও পড়তে হচ্ছে।
বরিশালে বাংলাদেশ ব্যাংক কাউন্টার ও বিভিন্ন ব্যাংকে অনেক গ্রাহককেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিনিয়োগকারী বলেন, ‘ব্যাংক বা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনদিন করো কাছ থেকে একদিনের সুদ আদায়েও কোন ছাড় দেয়ার নজির নেই। অথচ প্রতি সপ্তাহে দুদিন সরকারি ছুটি ছাড়াও বিভিন্ন পর্বের বন্ধের দিনগুলোতে গ্রাহকরা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থের মুনাফা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে’। তাদের অভিযোগ ‘যদি সঞ্চয়পত্রের পুরো বিষয়টি কম্পিউটারাইজড বা অটোমেশন হয়ে থাকে, তবে বন্ধ আর খোলা যেকোন অবস্থাতেই স্বয়ংক্রীয়ভাবে মুনাফার অর্থ বিনিয়োগকারীর ব্যাংক হিসেবে জমা হবার কথা’। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অবিলম্বে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী করেছেন  বিনিয়োগকারীরা।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT