2:59 pm , January 5, 2026
শহিদুল ইসলাম জামাল, চরফ্যাসন প্রতিবেদক ॥
ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার প্রত্যন্ত জাহানপুর গ্রামে বসবাস ৫০ বছর বয়সি মসুদা বেগমের। জন্ম থেকেই তিনি স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে হাঁটতে পারেন না। শুধু তাই নয়, তিনি একজন বাকপ্রতিবন্ধীও। দুটি হাত ও দুটি পা ভর করে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলাই তার জীবনের একমাত্র ভরসা। এইভাবেই প্রতিদিন জীবন নামের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছেন তিনি। মসুদার জীবন যেন দুঃখ আর সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। অন্যদের মতো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাঁটা তার কল্পনারও বাইরে। গ্রামের আঁকাবাঁকা পথে যখন তিনি দুহাত ও দুপা মাটিতে ঠেকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যান, তখন অনেকেই বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে থাকেন, আবার কেউ কেউ চোখ ফিরিয়ে নেন। কিন্তু কারো দৃষ্টিই তার দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা লাঘব করতে পারেনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মসুদা জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। বর্তমানে তার বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। একমাত্র ভাই বেল্লালের কাছেই তার আশ্রয়। বেল্লাল দিনমজুরের কাজ করেন। নিজের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে, সেখানে বোনের খরচ বহন করা হয়ে ওঠে কষ্টসাধ্য। কেউ দয়া করে কিছু দিলে তা দিয়েই কোনোরকমে দিন চলে মসুদার। চিকিৎসার অভাবে তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন যাপন করলেও তিনি এখনো সরকারি কোনো সহায়তা বা ভাতা পাচ্ছেন না। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সহায়তার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সরকারি কিংবা বেসরকারি সহায়তা পেলে অন্তত একটি হুইলচেয়ার বা চলাচলের উপযোগী কোনো সহায়ক যন্ত্র পেতে পারতেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্য আর অবহেলার কারণে সেই স্বপ্ন আজও অধরাই রয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুস বলেন, ‘মসুদা বেগম মায়ের গর্ভ থেকেই প্রতিবন্ধী। তার এক ভাই আছে, সেও অসহায়। মানুষ সহযোগিতা করলে কোনোরকমে চলে। কিন্তু তিনি সরকারি কোনো সহযোগিতা পান না। সরকার যদি পাশে দাঁড়ায়, তাহলে তার কষ্ট কিছুটা হলেও কমবে।’
মসুদার ভাই বেল্লাল বলেন, ‘আমি পাঁচ বোনের মধ্যে সবার ছোট। প্রতিবন্ধী বোনটি সবার বড়। আমার বোন কোনো ধরনের ভাতা পাচ্ছে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও কোনো সহযোগিতা করেননি। আমি একা কাজ করে নিজের সংসার ও বোনের খরচ চালাই। সরকারের কাছে সাহায্য চাই।’ এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসাইন বলেন, ‘বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মসুদা বেগমকে সরকারি ভাতার আওতায় আনা হবে।’
