3:26 pm , January 3, 2026
লালমোহন প্রতিবেদক ॥
লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের উত্তর পশ্চিম চরমোল্লাজী গ্রামের সীমানা সংলগ্ন চতলা মৌজার এক বিধবার ভোগদখলীয় জমি জবর দখলের চেষ্টা ও ৫টি রেন্ট্রি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার প্রভাবশালী, একাধিক ব্যক্তির জমি জবর দখলকারী সফিউল্ল্যাহ, তার ছেলে মো: জসিম, মো: আব্বাস উদ্দিন তার স্ত্রী মনোয়ারা, মেয়ে পারভীন এর বিরুদ্ধে। সরেজমিন তদন্ত ও অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরমোল্লাজী গ্রামের মন্তারাগো বাড়ীর মো: বাচ্চু মিয়া ২০০৮ ইংরেজি সালে তার প্রতিবেশী মো: হারেছ আহমদ এর কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি খরিদ করে ভোগদখলে ছিলেন। ওই জমির মালিক মো: বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী জুলেখা বেগম জানান, ২০১০ সালে তার স্বামী কাজের সুবাদে চট্টগ্রাম যায়। সেখানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। তার স্বামী ১ ছেলে ও ১ মেয়ে (শিশু সন্তান) রেখে মারা যায়। দুই শিশু সন্তান নিয়ে শুরু হয় অসহায় জীবন। তার স্বামীর খরিদকৃত জমি তার নিজের নামে ও দুই সন্তানের নামে ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হয়ে নামজারি ও খাজনা পরিষদ করেন। স্বামীর রেখে যাওয়া জমির উপর দৃষ্টি পরে পাশ্ববর্তী প্রভাবশালী সফিউল্ল্যাহ গংদের। ওই দখলীয় জমিতে লাগানো পাঁচটি রেন্ট্রি গাছ (যার আনুমানিক মূল্য ১ লক্ষ টাকা) কেটে নিয়ে যায়। সেটেলমেন্ট থেকে অবৈধভাবে ভুয়া পর্চা বানিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে উক্ত জমি। বিধবা জুলেখা বেগমের ভাই মাকসুদুর রহমান জানান, আমার ভগ্নিপতি মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া ভোগদখলীয় জমি চতলা মৌজার সাড়ে ৬ শতাংশ ও চরমোল্লাজী মৌজার ৭ শতাংশ আমার বোন, এতিম ভাগিনা ও ভাগ্নি ভোগদখল করে আসছে। কিন্তু সফিউল্লাহ মাঝি গংরা দলিল ব্যতীত ভুয়া পর্চা সৃজন করে জমি জবর দখলের চেষ্টা করে। ওই মৌজার একই খতিয়ানের ২০ শতাংশ জমির আরেকজন মালিক মো: ইব্রাহিম মিয়া বলেন, আমার পিতা কালা মিয়ার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশান সূত্রে আমি এবং আমার মা ওই খতিয়ানে ২০ শতাংশ জমির মালিক। কিন্তু সফিউল্লাহ মাঝি আমার জমিও জবর দখল করে আছে।
লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও রমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মে: জাফর ইকবাল বলেন, আমি সহ ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের নিরব চেয়ারম্যান, তামিম মহাজন ও জাকির চেয়ারম্যান দু’পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখেছি সফিউল্লাহ উপযুক্ত দলিল দেখাতে পারেনি।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: অলিউল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
