3:46 pm , January 2, 2026
বিশেষ প্রতিবেদক ॥
তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ২ ডিগ্রী নিচে থাকার মধ্যেই ঘন কুয়াশায় বরিশালের স্বাভাবিক জনজীবনে বিপর্যয় অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার বরিশালের আকাশে সূর্যের দেখা মেলে সকাল সাড়ে ১০টার পরে। তবে কুয়াশার পুরো দাপট অব্যাহত ছিল বেলা ১১টা পর্যন্ত। দুপুর প্রায় সোয়া ১২টা পর্যন্ত মেঘনা অববাহিকার পুরো দক্ষিণাঞ্চল মাঝারী কুয়াশায় ঢেকে ছিল। সকালে বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ে কুয়াশার চাঁদরে ঢেকে ছিল। পরে দৃশ্যমান ৫ মিটারে সীমাবদ্ধ থাকায় সকাল সোয়া ১০টার বিমান এর ফ্লাইট দুপুর দেড়টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে দুপুর ২টায় বরিশালে পৌছে ২টা ২২ মিনিটে ফেরত গেছে। কুয়াশা আর মেঘের কারণে বরিশাল সেক্টরে গত রোববারের বিমান এর ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল।
আবহাওয়া বিভাগের মতে, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করলেও এর একটি বর্ধিতাংশ বরিশাল উপকূল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। রোববার দিনের তাপমাত্রার প্রায় অপরিবর্তিত থাকার কথা জানিয়ে রাতে সামান্য বৃদ্ধির কথাও বলেছে আবহাওয়া বিভাগ। তবে সোমবার থেকেই দিন ও রাতের তাপমাত্রা আবার কমতে শুরু করবে এবং পুরো সপ্তাহজুড়ে তাপমাত্রা নিচে নামার সম্ভাবনার কথা বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।
এদিকে গত দিন দশেকের শীতের দাপটে বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও ক্রমশ বাড়ছে। ইতোমধ্যে সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগী ভর্তির সংখ্যা ১০ হাজার অতিক্রম করেছে। প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগেও ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ইনডোরেও রোগী নিয়ে চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীরা হিমশিম খাচ্ছে।
এদিকে গত এক সপ্তাহেরও বেশী সময় ধরে পুরো দক্ষিণাঞ্চলের দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠজুড়ে শেষ রাত থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকায় বোরো বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরীর শংকা ক্রমশ বাড়ছে। ঘন কুয়াশা ও হিমশীতল ঠন্ডায় ফুলকপি, বাঁধাকপি সহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজির গুনগত মানও নষ্ট হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ‘সন্ধ্যা থেকে পলিথিন দিয়ে বোরো বীজতলা ঢেকে রাখার’ পরামর্শ দিলেও এ কুয়াশা আর ঠান্ডায় গোল আলুর মাঠে ছত্রাকবাহী ‘লেট ব্লাইট’ রোগ সংক্রমন প্রতিরোধ কষ্টকর হয়ে পড়ছে। চলতি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৩.৮৫ লাখ হেক্টরে বোরো আবাদের লক্ষ্যে ২০ হাজার ৩১৭ হেক্টরে বোরো বীজতলা তৈরীর কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু লাগাতার শৈত্য প্রবাহে বোরো বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরীর নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষিবীদরা। পাশাপাশি প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরে যে গোল আলুর আবাদ হচ্ছে, তা ‘লেট ব্লাইট’ নামের এক ধরনের ছত্রাকবাহী রোগে আক্রান্ত হবারও শংকা ক্রমশ বাড়ছে।
বরিশাল কৃষি অঞ্চলে যে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে গমের আবাদ হচ্ছে, শীতের দাপটে তার ফলন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ১৬ লাখ টন বোরো চাল, ৩ লক্ষাধিক টন গোল আলু ও দুই লক্ষাধিক টন গম উৎপাদেনর লক্ষ্য রয়েছে।
