কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নি¤œমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগ কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নি¤œমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগ - ajkerparibartan.com
কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নি¤œমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগ

4:03 pm , April 9, 2026

রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, কাউখালী প্রতিবেদক ॥
কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা মিড-ডে মিল কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  ৫ হাজার ২৮৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৪ হাজার ৭৫৩ পিস করে এক একটি আইটেমের চাহিদাপত্র অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। খাবার তালিকায় রয়েছে ডিম, দুধ, বনরুটি, বিস্কুট ও কলা। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক একেক ধরনের খাবার এক একদিন পরিবেশন করার নির্দেশনা রয়েছে। শিশু ছাত্র-ছাত্রীদের পুষ্টিহীনতা দূর করার জন্য প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে সরকার পুষ্টিকর মানসম্পন্ন খাবার প্রদানের  নির্দেশ দিয়েছে। অথচ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মানসম্মত খাবারের পরিবর্তে বাসি-পঁচা নি¤œমানের ছত্রাকযুক্ত বনরুটি, পচা কলা এবং নষ্ট ভাঙ্গা ডিম পরিবেশন করছে। বিভিন্ন স্কুল গিয়ে জানা যায়, এ উপজেলায় দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করেন। যার মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় ভোলার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) ডিম, রুটি, কলা পরিবেশন করে থাকে। দুধ এবং বিস্কুট অন্য একটি কোম্পানি সরবরাহ করে থাকে।
রুটি, দুধ, কলার মান নিয়ে প্রতিদিনই অভিযোগের পাল্লা ভারী হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সপ্তাহের ৩ দিন ডিম ও ১২০গ্রাম বনরুটি, একদিন ১২০ গ্রাম বন রুটি ও ২শশ গ্রাম ইউএইচটি দুধ। বাকী একটিন বিস্কুট ৭৫ গ্রাম এবং স্থানীয় মৌসুমী ফল অথবা ১০০ গ্রাম কলা পরিবেশন করার নির্দেশনা রয়েছে। দুধ ও বিস্কুট নিয়ে কোন অভিযোগ না থাকলেও পচা ডিম, নষ্ট ও কাঁচা কলা এবং কাগজে কলমের মেয়াদ থাকলেও পচা ফাংগাসযুক্ত বনরুটি পরিবেশন করার অভিযোগ রয়েছে। বনরুটির ৫দিন মেয়াদ লেখা থাকলেও দুইদিনের মাথায় খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়।
স্থানীয় কয়েকটি বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা কলার একটি বড় অংশ পচা বা অতিরিক্ত কাঁচা। ফলে অনেক শিক্ষার্থী তা খেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। শিক্ষার্থীদের মতে, “কলা খেতে গেলে স্বাদ খারাপ লাগে, অনেক সময় গন্ধও থাকে।
অভিভাবকরা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা খাবার কর্মসূচি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও এর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। নি¤œমানের খাবার সরবরাহ বন্ধ করে মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এই কর্মসূচির সুফল পাওয়া যাবে না। বরং অনিয়ম দুর্নীতি আরো বৃদ্ধি পাবে। এ বিষয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, আমরা সঠিকভাবেই খাদ্য পরিবেশন করছি। তবে ডিম পরিবেশন করতে গিয়ে দুই/একটি খারাপ হয়। যা আমরা পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন করে দেই। কলার মান নিয়ে যে অভিযোগ হয়েছে আশা করি ভবিষ্যতে আর হবে না। রুটির বিষয়টা একটু জটিল কারণ উৎপাদনের পরে পাঁচ দিনের মেয়াদ থাকলেও বাস্তবে গরম হওয়ার জন্য দুইদিনের বেশি রাখা যায় না। এ ব্যাপারে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,অভিযোগগুলো আমরাও পেয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT